
১ম বিজয় দিবসটি (১৬ই ডিসেম্বর, '৭১ সাল ) ছিলো বিনা আয়োজনে, মানুষের বিজয়ের আনন্দটা সীমাবদ্ধ ছিল পাকী বাহিনীকে পরাজিত করার মধ্যেই, এবং আজকেও পাকীদের পরাজয়ই মুল বিষয়, মানুষের রাজনৈতিক অর্জন এখনো বড় বিষয় নয়; অবশ্য, সেটাই ছিলো আসল মুক্তির দিন, ৯ মাসের যুদ্ধের পর পাকী বাহিনী পরাজিত, ত্রাসের সমাপ্তি, দেশ শত্রুমুক্ত, এক অসম যুদ্ধের অবসান, স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত। ৯ মাসের অবরোধ, যুদ্ধ, হত্যা, নির্যাতন থেকে মানুষ ও দেশ মুক্ত হওয়ার সংবাদ ছিল এক বিশাল অর্জন। তবে, রাজনৈতিক অর্জনটা সাধারণ মানুষের কাছে ঠিক পরিস্কার ছিলো না; সেটাকে পরিস্কার করার জন্য আনুষ্টানিকভাবে কোন "বিজয় ভাষন" দেননি প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন সাহবে। উনি ভারত থেকে দেরীতে ফিরেছিলেন, যথাসম্ভব ২২শে ডিসেম্বর; উনার ফেরার পর, দিনটিকে আনুষ্টানিকভাবে পালন করে, একটা 'বিজয় ভাষণ' দেয়ার দরকার ছিলো; সেই ভাষণে জনতাকে বিজয়ে তাঁদের ভুমিকার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে, তাদের বিশাল অজর্ন, একটি স্বাধীনদেশ ও সেই দেশে তাঁদের অধিকার, দায়িত্ব নিয়ে ও জাতির ভবিষ্যত নিয়ে একটি আভাস দেয়ার দরকার ছিলো; কিন্তু সেটা সেইভাবে ঘটেনি।
শেখ সাহেবের ফিরে আসা ছিলো জাতির জীবনে আরেক বড় ঘটনা; প্রথম কয়েকদিন কেটে গেছে ইমোশানে; এরপর, দরকার ছিলো জাতির সাথে উনার রাজনৈতিক সেতু বন্ধন; সেটার হতে পারতো একটি বিজয় ভাষণের মধ্য দিয়ে, সেখানে জনতার বীরত্ব, ত্যাগ, বিশাল অবদানের স্বীকৃতি দিতে পারতেন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শেখ সাহেব কিংবা তাজউদ্দিন সাহেব। কিন্তু সেটা ঘটেনি, শেখ সাহেব ও উনার চারিপাশের লোকজন সারাক্ষণ শেখ সাহেবর ভুমিকাকে এমন এক স্তরে নিয়ে গিয়েছিলো যে, মনে হচ্ছিল শেখ সাহেব একাই দেশ স্বাধীন করেছেন; সাধারণ মানুষ নিজেদের ভুমিকাই খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
আজকেও অনেক লেখক, অনেক কবি, অনেক রাজনীতিবিদ বলেন, শেখ সাহেবের জন্ম না'হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না; এটা ইমোশানেল কথা, ইহা ২/১ বার বলে, শেখ সাহেবের ভুমিকাকে সন্মান করা ঠিক আছে; কিন্তু ইহাকে প্রতিষ্ঠিত করা ঠিক নয়; কারণ, ইহা সঠিক নয়, এবং ইহাতে সাধারণ মানুষের বিশাল ত্যাগ ও অবদান চাপা পড়ে যায়, মানুষ অসহায় দর্শকের ভুমিকায় চলে আসেন।
এখন বিজয় দিবস কিভাবে পালন করেন জাতি, কতটুকু তাঁদের অনুধাবন বুঝা মুশকিল; কারণ, দিবসটা সরকারের নিয়নত্রণে থাকে; দিবসটিকে পালনের সঠিক কোন ট্রেডিশন নেই। ৫০ বছর কেটে গেছে বিশৃংখলায়, মানুষের ত্যাগ, মানুষের অবদানের ঠিক স্বীকৃতি দেয়নি সরকারগুলো; সেই কারণে, মানুষের অধিকার ও দায়িত্বটা কখনো পরিস্কার হয়নি এই দেশে; বিজয়ের দিনটা মানুষকে নতুন করে উৎসাহিত করে তোলে না, মানুষের কথায় অপ্রাপ্তির কথাই বড় হয়ে উঠে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


