
দেশের ভয়ংকর সমস্যার সময়, দেশের শিক্ষিত নাগরিকেরা চুপ করে থাকাটা জাতির জন্য ভয়ংকর দুর্ভাগ্যের ব্যাপার, এবং শিক্ষিতদের জন্য অপরাধের সমান; ৯ মাসের করোনায় দেশে ভালো রকম এনার্খির সৃষ্টি হয়েছে, অনেক 'বিশিষ্ট নাগরিক' প্রাণ হারায়েছেন। বাংগালী শিক্ষিতরা চুপ মেরে ছিলেন; অবশেষে ৪২ জন মুখ খুলেছেন; কিন্তু তাঁরা মুখ খুলেছেন "ইলেকশান কমিশনের বিপক্ষে', ইলেকশান কমিশন "অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যে" করছে! আজকের জন্য এই ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিকের কাছে ইলেকশান কমিশনের অনিয়ম দুর্নীতি বড় ব্যাপার হওয়া উচিত, নাকি "করোনায় অরাজকতা" বড় ব্যাপার হওয়া উচিত?
একজন ব্লগার হিসেবে আপনার কাছে "করোনায় অরাজকতা" বড় মনে হচ্ছে, নাকি "ইলেকশান কমিশনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যে" বড় ধরণের সমস্যা মনে হচ্ছে? কোনটার উপর এই মহুর্তে জোর দেয়ার দরকার?
টিকার কি হচ্ছে, করোনায় দৈনিক কতজন মানুষ মারা যাচ্ছেন, কতজন আক্রান্ত হচ্ছেন, কতজন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, কতজন চেষ্টা করেও হাসপাতালে স্হান পাচ্ছেন না; কতজন হাসপাতালের বিল দিতে গিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন; আর "ইলেকশান কমিশনের দুর্নীতিতে "দৈনিক কতজন প্রান হারাচ্ছেন"? আজকের জন্য কোনটা নিয়ে প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনা করার দরকার বেশী?
ঠিক আছে, এই ৪২ জনের কাছে "ইলেকশান কমিশনের দুর্নীতি"ই আসল সমস্যা! ১জন ব্লগার হিসেবে ভেবে দেখেন তো, এই ৪২ জনের মাঝে কতজন ইলেকশান কমিটির কারণে আগামী ৬ মাসের ভেতর কোন ধরণের সমস্যায় ভুগতে পারেন, নাকি করোনায় ভোগার সম্ভাবনা বেশী?
আমার মনে হয়, উনারা ৪২ জন মুখ খুলে ভালো করেছেন, প্রথমে মুখ খোলার দরকার ছিলো "সরকারের করোনা অরাজকতার বিপক্ষে", এবং সম্ভব হলে, পরে "ইলেকশান কমিশনেরঅনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যেের বিপক্ষে"; এমন কি দু'টো ব্যাপার একসাথে হলেও খারাপ হতো না!
আরো একটা ব্যাপার আছে, ইলেকশান কমিশনের "অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যে" নিয়ে যেই চিঠি প্রেসিডেন্টের কাছে গেছে, উহাতে প্রফেসর আসিফ নজরুল ও আইনবিদ শাহদীন মালিকের স্বাক্ষর থাকলে, সেই চিঠির ভবিষ্যত কি ধরণের হতে পারে বলে আপনার মনে হয়?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


