
কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ায় আমাদের ভাষার গুরুত্ব বেড়েছে, বাংগালী জাতির মুখ উজ্বল হয়েছে; উনি একটা বইয়ের জন্য নোবেল পুরস্কার পাননি, উনি পুরস্কার পেয়েছেন উনার পুরো সাহিত্য ভান্ডারের জন্য, সাহিত্য-কর্মের জন্য; উনার সাহিত্যে ততকালীন সময়ের সমাজের প্রতিফলন ঘটেছিলো; সাহিত্য হচ্ছে সমাজের প্রতিচ্ছবি। রবী ঠাকুরের সময়টা ছিলো কলোনিয়েল সিষ্টেম; তিনি ততকালীন সময়ের রাজনীতি ও উহার প্রভাব নিয়ে তেমন লিখেননি; কিন্তু তিনি সেই সময়ের সমাজের কথা বলতে পেরেছিলেন।
বাংলা সাহিত্যে এখনো সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জীবন আলেখ্য উঠে আসছে না; কারণ, সর্বস্তরের মানুষ এখনো শিক্ষার সুযোগ পাননি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের উপর বেশীভাগ বই লিখেছেন এমন মানুষজন, যাদের বেশীরভাগ যুদ্ধের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন না। গত বই মেলায় শেখ সাহবের উপর ২৮টি বই বের হয়েছিলো, এদের মাঝে অনেক লেখক শেখ সাহেবকে দেখেননি, এবং এসব লেখকদের অনেকেরই রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই; শেখ সাহবের উপর ভালো বই লিখতে পারতেন মওলানা ভাসানী, কিংবা শেরে বাংলা ফজলুল হক সাহবে।
রবী ঠাকুর যখন নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন, তখন পুরো বাংলা ভাষায় ৫০০০ বই ( টাইটেল ) ছিলো কিনা কে জানে; তবে, গত বছর বইমেলায় নতুন বই এসেছিলো ৫ হাজার। আমাদের শিক্ষার হার, শিক্ষার মান, বিশ্ব সাহিত্যে আমাদের অবদান, এসব কিছু মনে রাখলে, ১ বছরে নতুন ৫০০০ বই প্রকাশ কিন্তু বিশাল ব্যাপার। প্রকাশনার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের ছাড়া পেয়ে বাজারে নতুন ৫০০০ ভালো বই আসা আসলে মোটামুটি অসম্ভব। এসব বই প্রকাশের আগে, সঠিক প্রিভিউ ও পাঠকদের ফিডব্যাক নেয়া হয়নি বলে হচ্ছে; কারণ, পরে জানা গেছে যে, এইসব নতুন বইয়ের শতকরা ৯০ ভাগ ছিলো নীচু মানের।
আজকে ব্লগে একটা লেখা পড়লাম, লেখক খুশী যে, অসীম বিশ্বকে যিনি সৃষ্টি করেছেন, উনাকেও সেই বিশাল সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছে, উনি সৃষ্টিকর্তার গুণগান করেছেন, ভালো! কিন্তু উনার পৃথিবীতে আগমণে আমি ২ জন মানুষকে দেখছি, উনার পিতামাতা; লেখক উনাদের কথা উল্লেখ করেননি; উনি থালিতে ভাত দেখেন না, আকাশের রংধনু দেখতে পান; আমরা রংধনুর গল্প পড়ছি, কিন্তু ভাত ও কৃষকের গল্প নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


