
অনেক বাংগালী ব্লগার তাঁদের পোষ্টে প্রায়ই বলতেন, "আমেরিকার পতন হবে, অন্যায় করার কারণে বহু উন্নত জাতির পতন হয়েছে, আমেরিকারও পতন হবে"; আসলে, তার কিছুটা ঘটেছে, আরো ঘটবে। যাঁদের সাথে আমি এই বিষয়ে বেশ তর্ক করেছি, এদের মাঝে আছেন ব্লগার শের শায়রী, ব্লগার অনল চৌধুরী, ব্লগার উড়োজাহাজ, ব্লগার মোহাম্মদ ইসলাম এবং অনেক ইসলাম প্রচারক ব্লগারেরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও করোনা ভাইরাস আমেরিকার যেই পরিমাণ ক্ষতি করেছে, ইহাকে পতনের অংশ বলা যায়, এবং ইহা চলমান, আরো বেশ কয়েক বছর আমেরিকা সমস্যায় থাকবে ; তবে, ইহা অটোম্যান বা রোমান সাম্রজ্যের মত বিলীন হয়ে যাবে না।
এই মহুর্তে, আমেরিকার ৩৫ মিলিয়ন মানুষ বেকার, ২৩ মিলিয়ন বেকার ভাতা নিচ্ছে, সরকার ২দফায় ৪ ট্রিলিয়নের বেশী "রেসককিউ প্যাকেজ দিয়েছে, ৫৫ মিলিয়ন মানুষ ফ্রি খাবার সংগ্রহ করেছে, এই ছুটির সময় মানুষ ফ্রি খাবারের জন্য গড়ে ২ ঘন্টার মতো রাস্তায় অপেক্ষা করছে, সোয়া ৩ লাখের মতো মানুষ ১ বছরেই করোনায় মৃত্যু বরণ করেছে, ৩০ মিলিয়নের বেশী মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, প্রথম দফায় একজন নাগরিক ১২০০ ডালারের চেক পেয়েছে, ২য় দফায় ৬০০ ডলারের চেক পাশ হওয়ার পথে, উহা বেড়ে ২০০০ ডলার হতে পারে, বেশ কয়েক হাজার মানুষ ঘর-ভাড়া দিতে না পারায় ঘর থেকে বিতাড়িত হয়েছে, একা কালিফোর্নিয়ায় ২ বিলিয়ন ডলারের বেশী বেকার ভাতা তুলেছে দুর্নীতি করে; এটা সামান্য লিষ্ট।
ট্রাম্প গত পরশু হোয়ইট হাউসে বসে ১ প্রাক্তন জেনারেল, কয়েকজন আইনবিদ, কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে আলোচনা করেছে, আমেরিকায় ১ম বারের মতো "মার্শাল'ল দিয়ে ভোট্বের ফলাফল" বদলানো যায় কিনা; আমেরিকান প্রেসিডেন্সিয়াল ভোট শেষ হয়েছে, ৫ই জানুয়ারী উহা সরকারী গেজেটে যাবে। আজকে, ট্রাম্প ঘোষণা করেছে, সে প্রতি নাগরিককে রিলিফ হিসেবে ৪০০০ ডলার করে দিতে চায়; এই পরিমাণ টাকা মাত্র শতকরা ১২/১৩ জনের দরকার; কিন্তু সে প্রায় শতকরা ৯৫ জনকে এই পরিমাণ টাকা দিতে চাচ্ছে, ইহা খারাপ লক্ষণ।
ট্রাম্প প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ আমেরিকান নাগরিকের মনে এই দেশের ডেমোক্রেটিক সংস্হাগুলো সম্পর্কে সন্দেহের সন্চার করেছে; সে আমেরিকার নির্বাচনে পদ্ধতিতে জাল ভোট দেয়ার সুযোগ আছে বলে দাবী করে ৬০টির বেশী মামলা করেছিলো, ভোটিং মেশিন সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলেছে, রেসিজমকে ভয়ানকভাবে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছে, আইন-বিরোধী মিলিশিয়া বাহিনীগুলোর প্রশংসা করায় মিসিগান রাজ্যের গভর্ণরকে নিজের অফিসের বাহিরে বসে কাজ করতে হয়েছে, ভোটের পরে সে আমেরিকাকে রক্ষা করার নামে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মতো ফান্ড তুলে নিজের হাতে রাখছে, যা সে পরে ব্যবহার করে মানুষকে সরকার-বিরোধী করে তুলতে পারে। তার আচরণ ও করোনাকে ভুয়া সমস্যা হিসেবে তুলে ধরাতে কমপক্ষে শতকরা ৩৩ জনের মতো মানউষ টিকা না নেয়ার সম্ভাবনা আছে।
করোনা ও ট্রাম্প মিলে আমেরিকার যেই পরিমাণ ক্ষতি করেছে, উহা স্বাভাবিক হতে ৭ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৮:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


