
বাংলাদেশ সরকার যেভাবে করোনা হ্যান্ডলিং করছে, জাতির টাকায় টিকা কিনেনি, মানুষ মরছে; যেই ধরণের বাজেট করছে, যেভাবে ২ গুণ ঋণ দিয়ে শিল্পায়ন (গার্মেন্টস ) করছে, যে ধরণের শিক্ষা ব্যবস্হা চালু রেখেছে, বেকারে দেশ ভরে যাচ্ছে; যেভাবে চাকুরী সৃষ্টি করছে, মানুষকে স্ত্রী ফেলে দিয়ে প্রবাসে দাস হতে হচ্ছে; যেই ধরণের বেতনের স্কেল চালু রেখেছে, ইহাতে ঘুষ খেতে হয়; যেই ধরণের রিটায়ারমেন্ট ব্যবস্হা রেখেছে, তা দিয়ে শুধু বন্ড কেনা যায়; যেই বেহাল অবস্হায় খাদ্য উদপাদন হচ্ছে, কেহ জানে না কৃষক কি রোপন করবে জমিতে; যেভাবে এনার্জি সরবরাহ করছে, উহা জাতির সাথে ব্যবসা মাত্র; যেভাবে ইনফ্রাষ্ট্রাকচার গড়ছে, তাতে সরকার জাতির সাথে কন্ট্রাক্ট টারী করছে; দেশের আইনকানুন, বিচার ব্যবস্হা যেভাবে কাজ করছে, বিচারকেরা ঘুষ খাচ্ছে; এগুলো কোনটাই দেশের সাধারণ জনতার অনুকুলে নয়, জাতি গঠনে কাজ করছে না। দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্হা কোনভাবে সাধারণ নাগরিকের পক্ষে নয়, ইহা দেশের ১৫/২০ লাখ পরিবারের অনুকুলে; এই ১৫/২০ লাখ পরিবারের লোকদের মতে বাংলাদেশ এশিয়ার বাঘ, ইউরোপের হরিণ, আফ্রিকার হাতী, দক্ষিণ আমেরিকার লামা ও অনেক কিছু; বাস্তবতায় ইহা বাংলাদেশের শাসক শ্রেণী, প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের কলোনী ও বাজার মাত্র।
দেশের বর্তমান হাল-অবস্হাকে সমর্থন করার জন্য ব্লগে ২জন মাত্র ব্লগার আছেন, তাঁরা হচ্ছেন, ব্লগার হাসান কাল বৈশাখী ও ব্লগার কলাবাগান সাহেব। বাকী ব্লগারেরা দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্হাকে কোনভাবে সমর্থন করেন বলে আমার মনে হয় না; তবে, এটাও ঠিক যে, দেশের সঠিক অবস্হা বুঝার মতো অবস্হা অনেক ব্লগারের নেই।
শেখ হাসিনার শারীরিক অবস্হা ভালো থাকলে, তিনি আগামীবারও সরকার গঠন করবেন; কোন কারণে, উনার দল যদি ক্ষমতা হারায়, দেশ চালনার জন্য কোন দল খুঁজে পাওয়া যাবে না; জোড়াতালি দিয়ে সরকার গঠন করলে, ইহা ইয়েমেন, আফগানিস্তানের মত ১০০ ভাগ এনার্খীর মাঝে ডুবে যাবে। যদি শেখ হাসিনা আরো ৭ বছরও দেশ চালান, দেশের অবস্হা ক্রমাগতভাবে খারাপের দিকে যাবে; এই দেশকে তিনি কোনভাবে আর সঠিক কক্ষপথে আনতে পারবেন না; উনার মাথায় সেই রকম কোন তত্ব নেই, দলে সেই রকম লোকজন নেই, প্রশাসনে সেই রকম কোন কর্মচারী নেই। এখন শিক্ষিত শ্রেনীর কোন জ্ঞান, ধ্যান, ভুমিকা, পদক্ষেপ আছে কিনা, যা জাতিকে নিজ পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করবে?
আমি যতটুকু অর্থনীতি, ফাইন্যান্স, টেকনোলোজী, সোস্যাল সায়েন্স বুঝি, সেটা থেকে বলতে পারি যে, এই জাতিকে নিজ পায়ে দাঁড়াতে হলে, সামজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করতে হবে। বাংগালীরা ক্যাপিটেলিজমের অর্থনীতি ও ফাইন্যান্স বুঝেন না; ফলে দেশে গলাকাটা, সমান্তবাদী ক্যাপিটেলিজম ও কলোনিয়েলিজমের মতো ফাইন্যন্সিয়েল সিষ্টেম চলছে। বাংগালীরা কোনদিন ভুত দেখননি, কিন্তু প্রতিটি বাংগালী মিথ্যা বলেন যে, তারা ভুত দেখেছেন; তেমনি বাংগালিরা সোস্যালিজম দেখেননি, কিন্তু ইহার ভয়ে সারাক্ষণ ভীত; শেখ সাহেবও ইহাকে ভয় করতেন; এক সময় উনার ভয় কেটে গিয়েছিলো; তিনি বাকশাল প্লাটফরম ব্যবহার করে সোস্যালিজম করতে চেয়েছিলেন। আপনি যদি বিশ্বাস করেছেন যে, শেখ সাহেব অবশ্যই আপনি, বেগম জিয়া কিংবা শেখ হাসিনার চেয়ে বুদ্ধিমান ছিলেন, আপনি শেখ সাহেবের ভাবনাটিকে বুঝতে চেষ্টা করে দেখতে পারেন ; তবে, ভাবনা উনার হলেও, তত্ব কিন্তু উনার নয়, তত্বের দার্ষহনিক হচ্ছেন, কার্ল মার্ক্স।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



