somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অমেরুদন্ডি

০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদম মনের কথা.কিন্তু কারও কিছু আসে যায় না..তবুও..ফেবু থেকে কালেক্টেড।

ইন্টার্ন জীবন সমাপ্ত করে ঢাকাতে যখন পা রাখি , শেষ সম্বল হিসাবে পকেটে তখন পঞ্চাশ টাকার দুটো ময়লা নোট। নামের আগে যেদিন থেকে ডাক্তার পদবী জুড়েছিল তার পর হতে পারতপক্ষে আর মা বাবা হতে টাকা চাওয়া হোতো না। ইন্টার্ন থাকাকালীন দৈনিক ১২ ঘন্টা খাটুনির পর মাস শেষে সাড়ে ছয় হাজার টাকার নিশ্চয়তা ছিলো। কিন্তু হায়!! এক সময়কার অতি নগন্যপারিশ্রমিক বলে টিটকারি করা সেই সাড়ে ছয় হাজার টাকাকে এখন অমুল্য রতন বলে মনে হচ্ছে। অন্য প্রফেসনে থাকা বন্ধুদের সাথে আড্ডায় যখন তারা নিয়মিত খাবারের বিল দিয়ে দিতো লজ্জিত মুখে “ পরেরবার কিন্তু টাকাটা আমি দিমু” বলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকতো না । জানি না আমার সেই বন্ধুদের জীবনে সেই পরেরবার কখনো আর এসেছিলো কিনা। তবে তাদের দাবি একটাই অসুস্থ হলে যেনো সময়মত তারা আমার চিকিৎসা পায় ।

আমার চিকিৎসক বন্ধুরা যখন অর্থের তাড়নায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খ্যাপ দিচ্ছে আমি তখন BSMMU এর পার্শ্ববর্তী চায়ের দোকানে চায়ের কাপে আরাম করে চুমুক দিচ্ছি কিংবা টি এস সি ঘুরে বাদাম চিবুচ্ছি। না ভাই আমি কোনো সুখি রাজার ঘরের রাজপুত্র নই। আমিও খ্যাপে গিয়েছিলাম একবার । আপাতো দৃষ্টিতে সেই ১০ দিনের খ্যাপ ছোটো হোলেও আমার কাছে তা ছিলো জীবনের এক দীর্ঘতর কলঙ্কিত সময় ।ইন্টার্ন শেষ করার পর মনটা ছিলো মানবতায় পরিপূর্ণ । সেখানে অসহায়, অসুস্থ মানুষের সেবা ব্যাতিত অন্য কিছুর স্থান ছিলো না। ঠিক সেই মুহূর্তে পিশাচ রুপি ক্লিনিক মালিকেরা ডাক্তারের কাধে বন্দুক রেখে গরিব অসহায় মানুষগুলোর রক্ত চুষে খায় । হীনমন্যতায় ভোগা সেই তরুন ডাক্তাররের ওই সময়গুলি যে অপরাধবোধের মধ্যে দিয়ে যায় তা কেউ না বুঝলেও, কষ্টটা সৃষ্টিকর্তা ঠিকই বুঝে নেন।

সিম্পল এম বি বি এস থেকে কমপ্লেক্স হওয়ার লক্ষ্যে সহপাঠীরা তখন পার্ট – ১ নামক পরীক্ষাতে অংশগ্রহনের প্রস্তুতি নিতে ব্যাস্ত। লোকমুখে শুনলাম এই পরীক্ষার ফীস নাকি ৫ হাজার টাকা। ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলাম পরীক্ষা দেয়ার খায়েশ। বিধিবাম!! আমার শ্রদ্বেয়ো নন মেডিকেল পিতা মাতা কোথা হতে শুনে এলেন , এফ,সি,পি,এস ডিগ্রি না থাকলে নাকি ওষুধের দোকানদার আর এম,বি,বি,এস ডাক্তারের মাঝে কোন তফাৎ থাকে না।এক বন্ধুর নিকট হতে ধার করে প্রথমবারের মত পার্ট-১ পরীক্ষা দিতে বসলাম। ৩ দিন ব্যাপি, ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট ধরে দেয়া পরিক্ষার ফী ৫ হাজার!!!মনে পড়ে গেলো সেকেন্ড প্রফের কথা , ২ মাস ব্যাপি ৫ টা বিষয়ে পরীক্ষা দিতে ৪ হাজার টাকায় ফরম ফিল আপ করেছিলাম।বি,সি,পি,এস ভবনের সু উচ্চ শক্তিশালী ভবন আর এয়ার কুলারের সাইজ দেখে বুঝতে দেরি হোলো না পোলাপানের টাকাগুলো কোথায় সন্নিবেশিতো হয়।হলে বসে বৃত্ত ভরাট করি আর দেখি প্রফেসরদের ভোজন বিলাস। তবে হ্যাঁ , উনারা এতোটা নির্দয় নন , পরীক্ষা শেষে আপনাকে খালি হাতে ফিরতে হবে না।ধরিয়ে দিবে একটা আধা লিটারের “মাম” পানির বোতল। যথারিতি পরীক্ষাতে ফেল মেরে এক বন্ধুকে হাসতে হাসতে বললাম “ দোস্ত ৫ হাজার টাকা খরচ করে ৩ টা “মাম” পানির বোতল গিললাম । অশ্লীল একটা গালি দিয়ে দোস্তো আমার বলে “ বোকা...দা কয় কি???!!!।প্রথম বারের ধারের টাকা ফেরত দিতে দিতে আবার জুলাই মাস চলে এলো। পুনরায় ৫ হাজার টাকা ঢাললাম লক্ষ্য সিম্পল হতে কমপ্লেক্সে উত্তরন। তবে এই বার ৩ টা “মাম” এর বোতলই শুধু আনি নাই ,সাথে একটা এফ,সি,পি,এস পার্ট _১ পাশের কংগ্রেচুলেশন কার্ডও নিয়া আসছি।

বি,সি,পি,এস যদি পরীক্ষার ফী ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকাও করে ফেলে তারপরেও জানুয়ারি কিংবা জুলাই মাসে মহাখালিতে ভীড় বাড়বে বৈ কমবে না।আজিজ মার্কেটের উপরে টয়লেট সাইজ খুপড়ি ঘরে অবিশ্বাষ্য বেশি ভাড়াতে থেকে , bsmmu এর লাইব্রেরিতে অক্লান্ত পড়াশুনা করে , কোনো এক ক্লিনিকে ৭ দিন খ্যাপ দিয়ে ঠিকই পরীক্ষার টাকা যোগাড় করে ফেলবেন চিকিৎসকেরা। তবে তারা এই প্রশ্নটা সংশ্লিষ্ট কত্রিপক্ষের কাছে কখনোই তুলবেন না যে... কেন খুপড়ি সাইজ রুমের ভাড়া ১৫ হাজার?কেন পরীক্ষার ফী বাড়ানো হবে?কেন ডাক্তারের নাম ভাঙ্গিয়ে ক্লিনিক মালিক রুগিকে অতিরিক্ত পরীক্ষা করাবেন?কেন?কেন?............

জীববিজ্ঞান বইতে পড়েছিলাম, মেরুদণ্ডযুক্ত প্রানিরা Cordata পর্বের অধিভুক্ত। এই Cordata পর্বের একটা প্রানি আছে homo sapiens নামে । homo sapiens এর মাঝে একটা প্রজাতি আছে যাদের doctor বলা হয়ে থাকে। মজার ব্যাপার হোলো মেরুদণ্ড যুক্ত Cordata পর্বে অন্তরভুক্তি থাকার পরেও doctor প্রজাতির আচরন অনেকটা মেরুদণ্ডহীন এমিবার মতন।
fb.com/tanvir.shuvo.965
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদির আকাশে সংঘাতের কালো মেঘ আর প্রবাসীদের পুরনো বন্দিদশা: আমাদের শ্রমবাজারের নতুন সংকট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৮

বাইরে যুদ্ধাবস্থা, রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হুতিদের লাগাতার ড্রাফট-মিসাইল হামলা, আর অন্যদিকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইটগুলো একে একে বাতিল বা স্থগিত—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে আবারও এক মারাত্মক অন্ধকারের ছায়া নেমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×