
[এইটি একখান রূপকথা।মিথ্যা এই রচনা বাস্তবের কোনো ঘটনা ও জীবিত কিংবা মৃত কোনো চরিত্রের সঙ্গে কারো মিলে গেলে তা নিতান্তই আকস্মিক এবং কাকতালীয় বলে বিবেচিত হবে…]
একখানা দেশ ছিলো, সেখানকার মানুষ বাংলায় কথা বলে, বাংলায় গান গায়, বাংলায় ভালোবাসা ও ঘৃণা প্রকাশ করে। সেই দেশের নাম বাংলাদেশ। সেই দেশে এখন ফ্যাসিবাদী সরকার, বাকশাল ফিরে এসেছে। অরাজকতার চূড়ান্তে থাকা দেশটি তার সাবেক প্রভু পাকিস্তানের মতোই ব্যর্থ রাষ্ট্রের খাতায় নাম লিখাতে যাচ্ছে। এ দাবি পাকিস্তানকে যারা এখনও প্রভু মানে সেসব ব্যক্তি-জোট ও দলের। তারা এই স্বৈরাচারিতার অবসান চায়, ধর্মনিরপেক্ষতা তথা ধর্মহীনতার নামে ইসলাম ধ্বংসের চক্রান্ত রোধ করতে চায়। এজন্য দরকার ক্ষমতা। আর ক্ষমতায় আসলেই ধর্মভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা ও আল্লাহর শাসন কায়েম করবে তারা। সে সমাজ ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রনীতি অবশ্য বাকশালের চেয়ে অনেক ভালো।
হয়তো সে ব্যবস্থায় গনতন্ত্র নেই, ব্লাসফেমি আইনে যাবতীয় নাস্তিকদের পাথর ছুড়ে মেরে ফেলা যাবে, দাড়ি টুপি ও হিজাবের বাধ্যবাধকতা না মানলে দোররা মারা হবে (সেই দেশের গ্রামে গঞ্জের এই দোররার ব্যাপক চর্চা রয়েছে), ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলা,কম্যুনিস্ট তথা সেক্যুলার, বাঙালী জাতীয়বাদের চর্চাকারী এবং ধর্মীয় রাজনীতির সমালোচক ও বুদ্ধিজীবিদের রায়েরবাজারে শুইয়ে দেওয়া হবে। আল্লাহর আইন পরিচালনায় যেহেতু তারাই্ পয়গম্বরের ভূমিকায়, তাই এরে স্বৈরাচার বলা যাবে না, তা হবে শিরক। এদেশে তখন চারটা পত্রিকা থাকবে। দৈনিক মেরে ওয়াতান (কাছাকাছি অনুবাদ : আমার দেশ), দৈনিক সুবহে সাদিক (অনুবাদ করলে দাড়ায় প্রথম আলো), দৈনিক জিহাদী কিংবা সংগ্রাম ও দৈনিক নয়া আসমান বা নয়া দিগন্ত (নয়া শব্দটার উৎস নিয়া ব্যাকরণবিদদের কোনো ভাবনা নাই)। শহীদ দিবস, নববর্ষ পালনের মতো বেদাতি কর্মকান্ড নিষিদ্ধ হবে। দেশের জনসংখ্যা রাতারাতি কমে যাবে অর্ধেকেরও বেশী, মাছেরা হৃষ্টপুষ্ট হবে লাশ খেয়ে।

এই অবস্থা এর আগেও দেখেছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর এখনকার প্রধানমন্ত্রীর বাবা ছিলেন এই দেশের সব। জাতির পিতা, রাষ্ট্রনায়ক। তিনিই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন, যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সহযোগীদের বিচারের ঘোষনা দিয়েছিলেন। এদের পক্ষে থাকাদের ঠেকাতে আইন করে সংবাদপত্র বিধি দিয়ে হলুদ সাংবাদিকতা ও অরাজকতা সৃষ্টি ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। দেশের অর্থনীতিকে নতজানু করতে বিপ্লবের নামে ব্যাংক ডাকাতি ও পাটের গুদামে আগুন দেওয়া লাল ঘোড়াদের দাবড়ানি দিয়েছিলেন। সে অন্যায়ের দাম তাকে চুকাতে হয়েছে জীবন দিয়ে, সপরিবারে। বেচে যাওয়া দুই কন্যার বড় জন সেই হত্যার বিচার করেছেন। আর যেজন্য ওই হত্যা তার বিচারের উদ্যোগ নিয়ে তা পরিচালনা করছেন। তো এই রাজনীতি তো প্রতিহিংসার রাজনীতি। গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচার। ইসলামী আলেমদের যুদ্ধাপরাধের নামে জেলে ভরা হচ্ছে। একি অরাজকতা!
সমস্যার শুরু তারপর থেকেই। না ভুল হয়ে গেলো। সমস্যার শুরু যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুমিধ্বস বিজয়ে নির্বাচনে জয়ী ও তা পালনের ঘোষণা দেওয়ার পর। একমাসের মাথায় পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ ঘটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত শুরু । একটা প্যাটার্ন ধরে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে এরপর। হঠাৎ দেখা গেলো ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন কুত্তালীগ নামে কুখ্যাতরা খেপে গেছে। সারা দেশে তারা দুইভাগ হয়ে খুনাখুনি করছে। নিজেরা তো বটেই অন্যান্য আকামও করছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারী উদ্যোগে অনুসন্ধান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। যুযুধান গ্রুপগুলোর ৮০ভাগই সাবেক দল ও আলবদর কর্মী যাদের ছিবির বলে চেনে সবাই্ এবং ভোল পাল্টে সরকারী দলে ঢুকেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তো তার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে । বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘটনায় দেখা গেলো স্পটে মেরে ওয়াতান ও নয়া আসমান ছাড়া আর কোনো পত্রিকার ফটোগ্রাফার ও সাংবাদিক ছিলো না! তারা সবসময়ই কিভাবে যেনো খবর পায় কোথায় কি ঘটবে!

লীগের পর শুরু হলো সীমান্তে ভারতীয় রক্ষী বাহিনীর হত্যা নিয়ে হৈ চৈ। ফেলানির মতো কয়েকজন ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে বেশীরভাগ অত্যাচারিত এবং নিহতই চোরাচালানি। খুব গোপন সূত্র নিশ্চিত করেছে একটা নির্দিষ্ট সময়ের কিছু হত্যাকান্ডে বিজিবির একটা অংশও জড়িত ছিলো। নিহত একজনকে এমনকি বোমা ছুড়ে হত্যা করা হয়েছে, গুলি নয়। এভাবে গুম, হত্যা অপহরণ, শেয়ার বাজার ধ্বসিয়ে দেওয়া বিদ্যুত ও গ্যাস সেক্টরে নিজেদের কর্মীদের বাড়তি তৎপরতা দেখিয় জনজীবন অতীষ্ট করার চর্চা চলছেই। গত সপ্তাহে ৭২ ঘন্টা হরতালের পর আবারও ৪৮ ঘন্টার ছুটি পেয়েছে বাংলাদেশ। এদিন পেটের দায়ে কেউ বের হলে তাকে জ্বালিয়ে পিটিয়ে কিংবা স্বর্বসান্ত করে মারা হবে। বিরোধী দলের এক ডাকসাইটে সন্ত্রাসী সাংসদের অপহরণ ও গুমের প্রতিবাদে তার মুক্তি চেয়ে সরকার উৎখাত আন্দোলন। এমনকি মুক্তি দিলেও আন্দোলন চলবে, জনগণকে কনভিন্স করা গেছে। বিভিন্ন নামী ও দামী এবং কমদামী পত্রিকার জরীপে দেখা যাচ্ছে এই মনোভাব শতকরা ৮০ ভাগ লোকের, ফেসবুকে সংখ্যাটা ৯০ ভাগ।
এজন্য একটু পেছনে ফেরা জরুরী। তারিখের পর তারিখ দিয়েও নানা চাপে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করতে পারছিলেন না বর্তমান সরকার। কারণ এই গোষ্ঠী বিশাল অংকের টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছে। তারা আয় আয় তু তু করে ডাক দিলেই মার্কিন প্রশাসনের কংগ্রেসম্যান, সিনেটর ও ব্রিটিশ এমপিরা ছুটে আসে। এসে কড়া গলায় ধমক দেয় এই বিচার প্রক্রিয়া সংশোধন করতে (পড়ুন বন্ধ করতে)। সৌদি দুতাবাস থেকে আরবী উচ্চারণের ইংরেজিতে বলা হয় রিমেম্বার ইউর হাইনেস, থার্টি লাখস, থ্রি মিলিয়ন, একাত্তরে মরেছে গুলি খেয়ে জবাইয়ে আর এখন মরবে ভাতে, না খেয়ে। সব কটাকে ঘাড় ধরে বের করে দেবো দেশ থেকে। এত বড় ব্যাকিংয়ের পর দেশব্যাপী এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে যে ঘৃণা ও তার প্রমাণ মিলেছে তাতে এদের সোচ্চার হওয়ার উপায় ছিলো না। অগত্যা তাদের ভর করতে হলো তাদের প্রিয় মিত্র সাবেক এক প্রধানমন্ত্রীর ওপর। তিনি সারা দেশ জুড়ে রোডমার্চ করলেন এবং ঘোষণা দিলেন তার বন্ধুরা কেউ যুদ্ধাপরাধী নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেওয়া বর্তমান সরকারই সেই দোষে দোষী । ওনাদের রাজনীতিতে যুক্তির রাজনীতি অবশ্য চলে না, চলে উক্তির রাজনীতি। লালগোলাপ দিয়ে ভালোবাসা ব্যবসায়ী এক দপ্তর বিহীন সম্পাদক কাগজে যা লিখে দেন তাই পড়েন সেই নেত্রী, সবুজ আন্ডারলাইন জোর দিয়ে, লাল আন্ডারলাইন থেমে থেমে। সারাদেশে শো ডাউন করে যুদ্ধাপরাধীদের বেতনভুক কর্মচারীরা। সেসব সমাবেশে কিছু পেটপাতলা, মুখ আলগা লোকজন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয় । জ্যোতিষীর মতে বলে যায় কারা সেই কাজ করবে কখন করবে। সেই চক্রান্ত্ কপালের ফেরে ধরা পড়ে যায়। বের হয়ে আসে কারা করেছে কিভাবে করেছে কেনো করেছে। আরও বের হয়ে আসে দলগতভাবেই যুদ্ধাপরাধী দলটি বিদেশে নানা সরকারবিরোধী কুৎসা ও অপপ্রচারের প্রমাণ। শীর্ষ দালাল ও ঘাতকের পুত্ররা গা ঢাকা দেয়। কিংবা বিদেশে সংবাদ সম্মেলন করে ভয়ংকর এক অভিঘাতের প্রেক্ষাপট রচনা করে ।

সরকার সে ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই গুম এবং হত্যার এক সিরিজ শুরু হলো। কোনো প্রমাণ নেই, ক্লু নেই। সাংবাদিক দম্পতি, সৌদি দূতাবাস কর্মচারি, কয়েকজন ব্যবসায়ী।তারই ধারাবাহিকতায় ওই দাপুটে সাংসদ। তার আগে আরো কেলেংকারি বের হয়েছে সারাজীবন সততার গুলতানি মারা এক মন্ত্রীর এপিএসের ব্রিফকেস ভর্তি টাকাসহ ধরা পড়ার কাহিনী। কাকতালীয় ভাবে তারা বিজিবি সদর দপ্তরে ঢুকে, তাদের আটক করার পরও ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রতিক্রিয়া জানাতে একটু গড়িমসির কারণে সূবর্ণ আরেকটা সুযোগ হাতছাড়া হলো ঘষেটি বেগম ও মীর জাফর-রায় দূর্লভদের। কারণ গোয়ালন্দ ঘাটে নাম্বার বিহীন অস্ত্রের একটি চালান সেখানের পতিতাপল্লীতে আটকা পড়ে। ঝটপট সেগুলো সরিয়েও ফেলা হয়।
এই ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধী দলটির বড় সহায় খোন্দকার মোশতাকের মতো কিছু নেতা যারা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তগুলো মোটা অংকের বিনিময়ে পাচার করে। ল্যাব এইড নামের একটা চিকিৎসালের মালিকানাধীন বাগানবাড়িতে সপ্তাহে সুরা-সাকির যে আসর বসে তাতে আমন্ত্রিত থাকে বিরোধী দলের সাংসদরাও।বিল তারাই দেয়, বিনিময়ে খবর পেয়ে যায়্ সরকারী নানা পরিকল্পনার।ফলে তারা সবসময় একধাপ এগিয়ে থাকে। যেমন পত্রিকায় তাদের নেত্রীর বংশ পরিচিতি অর্থাৎ মাতামহীর নাসারা ও মালাউন কানেকশন ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে তারা জাতির পিতার মাতামহীর নাম পাওয়া গেলো কনকবালা নামে। আইএসআইর টাকা নিয়ে নির্বাচনে জিতে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে উত্তাল রাখার ঠিকাদারী হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার দিয়ে দেওয়া হয় তাদের। এই খবরটা যখন ফাস হবো হবো করছে তখন বিদেশী পত্রিকায় খবর এলো সরকার প্রতিবেশী গোয়েন্দাদের টাকায় জিতেছে। নির্বাচনে লাখ লাখ ভোটার যারা বিচার চেয়ে ব্যালট ভরেছে তারা কিন্তু ওইটাকার ভাগ পায়নি। একইভাবে ক’দিন আগে বিদেশী পত্রিকায় আলীকে গোয়ালন্দে পুড়িয়ে মারার গল্প বলার পাশাপাশি রয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১০০ বাকশালী খুনী বাহিনি মাঠে নামানো হয়েছে । কিন্তু খবর আছে ঠিক উল্টোটা ঘটেছে। আইএসআইর বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়া উলফা,রোহিঙ্গা এবং এদেশী কিছূ জঙ্গী মাঠে নেমে গেছে। এদের টার্গেট লিস্টে আছেন সরকারী দলের মন্ত্রী, সাংসদ ও ছাত্রনেতারা। বেনজীর ভুট্টোকে মারার স্টাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলার পরিকল্পনাও ভাবা হচ্ছে। সুইসাইড বোম্বাররা হয়তো আশেপাশেই আছে।
তো কোথায় সেই সাংসদ যার জন্য ক্ষমতার আসন টলে যেতে বসেছে? তার নেত্রী বলছেন সরকারের পোষা গোয়েন্দারা তাকে ধরেছে এবং আটকে রেখেছে। এমন ইঙ্গিত সরকারী একটা পত্রিকায়ও মিলেছে। কি নাকি শর্তে বনছে না।পরে প্রেসনোটে এ কাহিনী অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে ছিলেন। তিনি হয়তো অনুমোদন দিয়ে গেছেন এই জোড়া অপহরণের। সাংসদ আলীর মুক্তি চায় তার ড্রাইভারের কথা কেউ বলে না। অথচ সব কিছুর নেপথ্যে তো ওই ড্রাইভার। সেই কালো বেড়াল ম্যানিয়ায় ভোগা মন্ত্রীর এপিএসের ড্রাইভারের যে বন্ধু। দুজনের স্বীকারোক্তিতে আরো উঠে এসেছে সাংবাদিক দম্পতি হত্যার নির্মম চক্রান্তের কথা। গুম হত্যার জন্য প্রশাসনে পেমেন্ট নেওয়াদের তালিকাও করা হয়েছে।ত্রিপুরা ও আসামের বিদ্রোহীদের পেমেন্টের তথ্যাদিও উঠে এসেছে তার স্বীকারোক্তিতে। এখন বল সরকারের কোর্টে তারা এই নাজুক ব্যাপারটা কিভাবে সামাল দিবেন।
এখন যদি এসব তথ্য প্রকাশ পায়, তাহলে কি হবে? সরকার জোর করিয়ে অত্যাচার করে এসব মিথ্যা কথা বলিয়েছে। উক্তির রাজনীতিতে তাদের ফেসভ্যালুই বেশী। তারপরও ঝুকি থাকে। এসব সত্যি কথা জনগন বিশ্বাস করলে ঘটা করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে না। আপনাতেই রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটবে এসব দলের। তবে আশাবাদী হওয়ার মতো প্রচুর উপাদান আছে চক্রান্তকারীদের হাতে।
প্রথম কথা বাঙালী আসলে ভীতুর জাত। সূর্যসেন কিংবা ক্ষুদিরাম কিংবা খালেদ মোশাররফ-হায়দার-নূর হোসেনের মতো ক্ষণজন্মা কিছু বাদ দিলে এরা সবসময় দরজা এটে ফুচকি দিয়ে ঘটনা দেখার উপলক্ষ্য খোজে। মূল ব্যাপারটা হচ্ছে মিথ্যাচার দিয়ে একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করা, তারপর নির্মমভাবে হত্যা করা,ধর্মীয় শ্লোগান তোলা ব্যাস কাহিনী খতম। কোথায় যুদ্ধাপরাধীদের দলের অবস্থান, এরা রাজপথে নেই! চুপ কেন? এরা ছড়িয়ে গেছে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। খুব শিগগিরই তারা সীমান্তে কিছু অন্তর্ঘাত চালাবে যাতে যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হয়, তারপর চলবে গুপ্তহত্যার মিশন,সঙ্গে কোরবানীর ঈদের আদলে রাস্তা জুড়ে দেখা যাবে নারায়ে তকবীর শ্লোগানধারী কিরিচ হাতের মাদ্রাসা ছাত্র ও বিহারীদের। এরপর উত্তরপাড়া মুরুব্বীদের ডেকে তত্বাবধায়ক একটা সরকার বানিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর। এর মধ্যেই মেরে কেটে সাফ করে দিতে হবে ভারতের দালাল, নাস্তিক, মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ীদের। সিদ্দিকী-অলির মতো মুক্তিযোদ্ধারা যাদের সহায় তাদের আর কি লাগে। এইভাবে বাকশালী শাসনের অবসান ঘটিয়ে সুবহে সাদিকে নয়া ওয়াতান পাবো আমরা। যদি না, প্রশাসন সতর্ক থাকে, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় জীবন উৎসর্গ করার কসম কাটা ভাইয়েরা সতর্ক থাকে। হয়তো মার্কিন প্যাসিফিক ফ্লিট বঙ্গপোসাগরের উপকুলেই আছে, চীন হয়তো বড় ধরণের সৈন্য সমাবেশ করেছে ভারতের সীমান্ত জুড়ে। পাকিস্তান হয়তো কাশ্মীরে বড় কিছু কাহিনী ঘটাবে। আর তার জোরেই মুরুব্বীদের সালিশে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। তারা নেপথ্যেই থেকে যাবে, আর কাধটা পেতে দেবে এক বারাঙনা।
শেষকথা: নটে গাছটি মুড়ানোর আগে কিছু কথা বলি। উপরের কথাগুলোর একটিও বিশ্বাস করার দিব্যি আমি কাউকে দিইনি। কারণ লুঙ্গি মজহার ও ষড়যন্ত্রী মাহমুদ আমার চেয়ে চমৎকার রূপকথা লিখে ভীরু বাঙা্লীকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করেছে তাদের আঘাতের দিনটির জন্য। মুন্সী ছদ্মনামে ফেসবুকে তৎপর এ কালের সিরাজুল ইসলাম খানকে প্যাদানি দিলে বরং অনেক অনেক কাহিনী বের হবে। জানা যাবে কে সুনীতা পাল নামে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মিথ্যা গল্প লিখে বিদেশী পত্রিকায়, জেসিকা ফক্স নামে রিভার্স গল্প ছাপায় লংকা অবজার্ভার ব্লগে। তারপরও সফল যদি হয়েই যায়, তারপর কি? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে না, তাইতো? তারা হাসতে হাসতে পাকিস্তানে গিয়ে উট কোরবানী দিবে তাইতো? আমার সৃষ্টিকর্তার কসম, প্রতিটা যুদ্ধাপরাধী মারা যাবে, তাদের খুজে খুজে হত্যা করা হবে। নতুন প্রজন্ম একদমই বোকা না, তাদের সাময়িক বিভ্রান্ত করা যায় বটে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বোকা বানানো যায় না। ভাদা খতমের নামে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধপন্থীদের খতমের তোড়ে তারা হাততালি দিয়ে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলবে এই আশায় গুড়ে বালি। দশ ইঞ্চি ইট দিয়ে থেতলে মারা হবে যুদ্ধাপরাধীদের। কোনো উঠতি যুবক দৌড়ে এই কাজটা করবে। কোনো বোন হয়তো তার ওড়না নিয়ে গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে মারবে এসব হায়েনাদের। ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর দুই লাখ বীরাঙ্গনার কসম। আমি যদি সঙ্গী হতে ব্যর্থও হই, রাস্তায় ঠিকই নামবে মৃত্যুঞ্জয়ীরা, যুদ্ধটা শেষ করবেই। জয় বাংলা।
মূল পোষ্টঃ http://www.amarblog.com/omipial/posts/146867

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

