somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতে সংক্রমণ কমে আসছে, বাংলাদেশেও কি ভারতের পরিনতি বরন করতে হবে?

২৬ শে জুন, ২০২১ বিকাল ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কভিড-১৯ অতিমারি, জনজীবনের এক আতঙ্কের নাম। গীরব দেশ গুলোর জন্য মরার উপর খড়ার ঘাঁ। বিশেষ করে যারা দিন আনে দিন খায় সেই শ্রেনীর মানুষের জন্য- এ এক ভয়াবহ দানবের নাম। এ যেন গরীবকে ভাতেও মারবে, পানিতেও মারবে এই রুদ্র রুপ নিয়ে আর্ভিভাব হয়েছে। ঋণের চাঁপে পিষ্ঠ হয়ে হাঁসফাঁস করছে সাধারণ মানুষ।

আজকের চা দোকানের একটি ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করি। মধ্য বয়সি এক জন আমার পাশে বসে চা পান করছিল। খুব সম্ভব দিন মজুর বা দিন আনে দিন খায় এমনই হবে। বলতেই সোমবারের লকডাউনের কথা উঠলো। বেচারা হাউমাও করে উঠলো। বলল, আমার মাথার উপর ষাট হাজার টাকার ঋণের বোঝা। কি করবো দিশে হারা!

সরকার কে গাল মন্দ করতে চাইলো। আমি থামিয়ে বললাম, দেখুন এখানে সরকারেরই বা কি করার আছে? যদি ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্ট বাংলাদেশে অতিমারিকেউ ছাড়িয়ে যায় তবে তো রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে থাকবে। উত্তরে সে বলল, সেটা না হয় মানলাম, কিন্তু না খেয়ে থাকার কি যে জ্বালা সেটা কি করে বুঝাই তোমারে? আমার ঘরে ৫ জন খাওয়াই, রোজগার করি আমি এক!

চোখ আমার ছলছল করতে লাগলো, তারও চোখে মুখে দুনিয়ার হতাশা। আমি বললাম, দেখুন এই যে আমাকে দেখছেন, গত করোনায় চাকরী চলে যায়, মাস খানেকও হয় নাই কোন মতে একটা জব পেলাম। মাস পেরুতে না পেরুতেই আবার লক ডাউন। উবারে একটা বাইক চালাতাম তাও বিক্রয় করে দেই। এখন, তো আবার জব চলে যাবে, যা অবলম্বন ছিল তাও তো নেই।

খাব কি, বাসা ভাড়া দিব কি? আগের ৩ মাসে ভাড়া বাকি। সব শুনে সেও মন খারাপ করলো। শেষ মেষ বলে উঠলো, বাপু কিচ্ছু করার নাই। কপালে যদি করোনায় মরন থাকে তো ভালো, কিন্তু না খেয়ে ভুখা থেকে মরার যন্ত্রনা, স্ত্রী সন্তানকে না খেয়ে মরা দেখার মতো কষ্ট তো আর সহ্য করার মতো নয়?

সে একজন দিন মজুর, আমি একজন শিক্ষিত মজুর। দুজনেরই চাহিদা এক। দুজনেরই পরিনতি এক। শুধু পোশাক আশাকে ব্যবধান। ব্যবধান যাই হোক, দুজনের এহেন পরিনতির জন্য দায়ী কে? কে দেবে আমাদের দুজনের মতো লাখো দিন মজুর ও শিক্ষিত মজুরের পেটে ভাত? সরকারী চাকুরেদের কথা না হয় বাদই দিলাম। জানা আছে কি এর উত্তর?
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০২১ বিকাল ৫:৫৫
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবশেষে ব্রাজিলের বিদায় ঘন্টা বাজিলো :D

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:৩৮





অবশেষে ব্রাজিলের বিদায় ঘন্টা বাজিলো এবং নেইমার হলুদ কার্ড খাইলো। :D
ব্রাজিলের এই পরাজয়ের পিছনে অবশ্য আমার কোন দোষ নেই, আমি শুধু বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করে বলেছিলাম ব্রাজিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিচ্ছু চাইনি আমি আজীবন, ভালোবাসা ছাড়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০২



আমি ভাই টাকা চাই।
টাকা হলে সম্মান আর ভালোবাসা অটোমেটিক চলে আসবে। হ্যা এটাই বাস্তবতা। বর্তমান যুগটা অন্য রকম। যার টাকা নাই, তার কোনো মূল্য নাই। সম্মান নাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩



বিয়ের মঞ্চে বসে আছি। মঞ্চ বলতে চকির মতো একটা খাট, তার সম্ভাবত এক পা ছোট বা নাই, কারন সামান্য নাড়াচাড়ায় খাটা টালমাটাল হয়ে একদিকে কাত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাফিয়া ট্রাম্পের নজর এবার ফুটবল বিশ্বকাপে....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


একটা ফোন কল কতটা শক্তিশালী হতে পারে, সেটা এবার হাড়ে হাড়ে টের পেল গোটা ফুটবল দুনিয়া। বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে মার্কিন ফুটবলার বালোগুনের নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল বেলজিয়াম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×