somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

||= গল্প: নূপুর =||

১৯ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'সুপ্তির বাসা থেকে বের হতে একটু রাতই হয়ে গেল। গ্রুপ অ্যাসাইনমেন্টের সাবমিশন আগামীকাল। আজকে কাজ শেষ না করে উপায় নেই। নাহ, একটু বেশিই রাত হয়ে গেল। সুপ্তি বলছিল থেকে যেতে। কিন্তু উপায় তো নেই। বাসায় মা একা ...' এসবই ভাবতে ভাবতে নিঝুম বড় রাস্তার দিকে এগোচ্ছিল। লম্বা গলিটার মাঝ পর্যন্ত না পৌঁছাতেই লোডশেডিংএ অন্ধকার হয়ে গেল পুরো এলাকা। অন্ধকারে একটু ভয়ই পেয়ে গেল নিঝুম।
' ঐ তো, আর একটু এগোলেই বড় রাস্তা ' ... নিজেকে সাহস দিতে থাকলো। হঠাৎ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সতর্ক করে দিল তাকে, কেউ অনুসরণ করছে ওকে। একজন না, বেশ কয়েকজন। ওর সন্দেহ সত্যি হল। আড় চোখে পেছনে তাকিয়ে অন্ধকারে চার-পাঁচটা ছায়া দেখতে পেল। অন্ধকারে একটি আগুনের বিন্দু ওঠা-নামা করছিল দ্রুত। ধীরে ধীরে ছায়াগুলোর সাথে নিঝুমের দূরত্ব কমে আসতে লাগলো। দ্রুত হাঁটতে লাগলো নিঝুম। অন্ধকার গলিতে নিঝুম আর ছায়াগুলো ছাড়া আর কাউকে দেখা গেল না। প্রায় নিস্তব্ধ গলিটিতে নিঝুমের পায়ের নূপুরের শব্দ আর ওদের পায়ের আওয়াজ ছাড়া আর কিছু শোনা গেল না। দূরত্ব কমতে কমতে ওরা নিঝুমের পাশাপাশি চলে এলো। চিৎকার করে ওঠার আগেই ওর মুখ চেপে ধরলো শক্ত একটা হাত। আর বাকি হাতগুলো টেনে হিঁচড়ে ওকে নিয়ে যেতে থাকলো পেছনের ৩৫ নং প্লটে নির্মাণাধীন বিল্ডিংএর তিন তলায়। এর মাঝে ইলেক্ট্রিসিটি চলে আসলে আবছা আলোতে নিঝুম দেখতে পায় মুখগুলো। চিনতে পারে একজনকে, সুপ্তির বড় ভাই, সুমন।

আশেপাশের বিল্ডিংগুলো থেকে অস্পষ্ট, চাপা গোঙানি ছাড়া আর কিছুই শোনা গেল না।

... ... ...

পার্টি শেষ করে ফিরতে একটু বেশিই দেরী হয়ে গেল। সি,এন,জিওয়ালা গলির ভিতরে ঢুকতে রাজি না, অগত্যা গলির মুখেই নেমে যেতে হল। গলিটা পুরো অন্ধকার। এই মধ্যরাতেও লোডশেডিং !! অন্ধকারে অনেকটা হাতড়ে হাতড়েই বাসার দিকে এগোচ্ছে সুমন। হঠাৎ মনে হল, পেছন পেছন কেউ আসছে। পায়ের শব্দ, নূপুরের আওয়াজ। ' এত রাতে , এই অন্ধকারে আবার কে বের হবে? তাও আবার মেয়ে। নাহ, আজকে মনে হচ্ছে একটু বেশিই গিলে ফেলেছি । ' ... ভাবছে আর টলতে টলতে এগোচ্ছে সে। এবার নূপুরের আওয়াজ আসছে সামনে থেকে। অন্ধকারে, এক নারী ছায়ামূর্তি।
'কি যে আবোল-তাবোল দেখছি।' ... দ্রুত পা চালাতে চেষ্টা করে সে। একসময় অবাক হয়ে খেয়াল করে বাসা পার হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ৩৫ নং প্লটের দিকে। বিল্ডিংটার কাজ আজও শেষ হল না। হঠাৎ খেয়াল করে, বিল্ডিংটার তিনতলার কার্নিশে দাঁড়িয়ে আছে সে। পাশে সেই ছায়ামূর্তি। এতক্ষণ তাহলে সম্মোহিতের মত মেয়েটাকে অনুসরণ করছিল ও !

"ভাইয়া, আমাকে চিনতে পেরেছেন? আমি নিঝুম, সুপ্তির বান্ধবী ছিলাম", ক্ষীণস্বরে বলে ওঠে ছায়ামূর্তিটা ।
এবার সুমনের ভয় পাবার পালা। হঠাৎ করেই যেন মস্তিষ্কের সবগুলো কোষ সজাগ হয়ে ওঠে। ৩ বছর আগের এক রাতের সব দৃশ্য পরিষ্কার দেখতে পায় চোখের সামনে। নিঝুমের কথা মনে পড়তেই শীতল একটা স্রোত বয়ে যায় শিরদাঁড়া বেয়ে।

"সেদিন কেন এমন করলেন ভাইয়া? আমি তো আপনারই আরেক ছোট বোন ছিলাম!"
সুমন হঠাৎ খেয়াল করে ছায়ামূর্তি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে তার দিকে। আর সে ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছে। এভাবে পিছিয়ে যেতে যেতে একসময় কার্নিশের শেষ কোনায় নিজেকে আবিষ্কার করে সুমন।

... ... ...

পরদিন সকালে ৩৫নং প্লটের পিছনের জংলামত জায়গায় একটা থেতলানো শরীর পাওয়া যায়। মুখ দেখে চেনার উপায় নেই। লাশের গলায় ফাঁসের মত এঁটে ছিল এক জোড়া রূপার নূপুর ।









সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এভাবেই নাকি এখন চলে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



চাবি সহযোগে তালা খোলা অতিশয় সহজ
কিন্তু আজকাল প্রায়শই গুলিয়ে ফেলি তালগোল!
এটা নিয়ে নিত্য বাহাসে ভেঙে যায় পাখিদের পার্লামেন্ট!
অতঃপর গোপনে সেরে ফেলি সহজ বোঝাপড়া!

প্রতিদিন যে পথে আসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না।

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না। আর এগুলো কোন কিছুই তার বানানো না। একেকটির বয়স শত বছর থেকে কিছুর ইতিহাস হাজার বছরের ও।
যদিও সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদীর টানে, সবুজের গানে

লিখেছেন মাকার মাহিতা, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫

বয়ে চলে নদী দূর হতে দূরে,
অনন্তকালের শান্ত এক সুরে।
তার দুই কূলে রূপের মেলা,
সবুজ প্রকৃতির মিষ্টি খেলা।
হাওয়ায় দোলে ঘাস আর বন,
আকাশের সাথে মেলায় মন।
নদীর জলে আলোর ঝিলিক,
বাতাসে মেশে পাখির কিচিরমিচির।
গাছের ছায়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"এ ট্রাজেডি অর ট্রাজেক্টরি অফ লাভ" (পর্ব-৩)

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৩

৩. নিষিদ্ধ স্বর্গ


পরদিন দুপুরবেলা। ইলির আকাশ আজ কিছুটা পরিষ্কার, মেঘের ফাঁক দিয়ে ফ্যাকাশে রোদ উঁকি দিচ্ছে।
ক্লারা তার ট্রাভেল এজেন্সির অফিসের ডেস্কে বসে কফি খাচ্ছিল। গতকাল ব্যাংকের সেই তরুণ এশীয় অফিসারটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×