somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু কথোপকথন আর অনেক বিরক্তি

০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ম কথপোকথন:
- হ্যালো দুলাভাই (হাই তুলতে তুলতে)। কি খবর?
- তোমার বোনকে দাও দেখি।
- কি বলেন দুলাভাই? (বিব্রত হয়ে) আপা তো এখানে নাই।
- বল কি? (বিরক্ত হয়ে) সেই সকাল থেকেই তো দেখছি না। মা মনে করেছে হয়তো তোমার বাসায় কোন জরুরি দরকার ছিল, তাই কাওকে না বলেই চলে গ্যাছে।
- (একই সাথে বিব্রত এবং বিরক্ত হয়ে) কি যে বলব দুলাভাই, আপনারা দুশচিন্তা করবেন না। আপা যে কি কান্ডজ্ঞানহীন! দেখবেন, হয়তো পাশের বাসায় যেয়ে বসে আছে, সময়ের হিসেব নেই। আপনি রেস্ট নেন, একটু পর চলে আসবে।

২য় কথপোকথন:
- মা তোমাকে কতবার বলেছি সকাল দশটার আগে ফোন দিবে না, আমরা ঘুমিয়ে থাকি। তোমার জামাই এত রাতে ফিরে, তাছাড়া বাবু ও দেরি করে ঘুমায়।
- আরে শোন না কি হয়েছে!
- হু, বল।
- তোর ভাই এর বউ তো কাল সকালে থেকে উধাও।
- কি যে বল! সে কিভাবে উধাও হবে? দেখ কই ঘুরে বেড়াচ্ছে নিজের খেয়াল খুশি মত। সে যে খামখেয়ালী!
- আমি বলি কোন লোকের হাত ধরে চলেই গেল নাকি! পরে ভাবলাম, একে আর কে ঘরে তুলবে? আমরাই তো কত অনিচ্ছায় শুধু মাত্র ঘটকের কথায় ঘরে তুললাম।
- তুমি যে কি কি ভাব! তার চেহারা খানা দেখেছ, তাছাড়াও তো বেশভূষার কোনো ছিরি নেই। ঐ বিয়েতে তো আমি রাজি ই ছিলাম না, তাও তোমরা করালে।
- বাসায় এত কাজ! আমি কি বুড়ো বয়সে এসব করব নাকি? যত্তসব দায়িত্বজ্ঞানহীন আমার কপালেই জোটে।
- বুয়া কে দিয়ে করিয়ে নাও তো।
- তাই তো করছি কাল থেকে।
- তোমার ছেলের বউ ফিরলে ওকে ঘরে যেন না তোলা হয় আমি সাবধান করে দিলাম।

৩য় কথপোকথন:
- হ্যালো।
- হ্যালো দুলাভাই। অফিস টাইমে বিরক্ত করলাম।
- আরে নাহ, বল বল।
- আপাকে বলেছিলেন তো ঠিকঠাক মত (একটু বিব্রত হাসি হেসে)?
- তোমার আপা তো ফিরেই নাই।
- এ তো মহা জ্বালা! বিয়ের আগে যে আমাদের কি জ্বালিয়েছে, জানেন না!
- তোমরা তো আমাদের কাঁধে তোমাদের আপদ তুলে দিয়েছ। এখন আমাদের জ্বালাচ্ছে।
- ভেবেছি বিয়ের পর পাল্টাবে। আমি খুবই দুঃখিত দুলাভাই। আমি ব্যাপার টা দেখছি।
- হ্যাঁ দেখ দেখ (ব্যস্ত হয়ে)। আমার ইম্পর্টেন্ট ক্লায়েন্ট মিটিং আছে।

৪র্থ কথপোকথন:
রিং হচ্ছে।

৫ম কথপোকথন:
রিং হচ্ছে।

৬ষ্ঠ কথপোকথন:
রিং হচ্ছে। কেও একজন কল ধরল।
- (যান্ত্রিক আওয়াজ)
- ভাবী তুমি এত স্বার্থপর আর কেয়ারলেস কিভাবে হতে পার? ২ দিন ধরে তুমি কই বাসার মানুষ কিছু জানেনা। সবাই তোমার জন্য টেনশন করে নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে বসে আছে, তোমার কি সে খবর আছে!
- (যান্ত্রিক আওয়াজ)
- আবার ফোন ধরে কিছু বলছ ও না। উফঃ

৭ম কথপোকথন:
- হ্যালো মা তোমার বউ কে মাত্র কল করেছিলাম। একটা কথাও বলে নি। উল্টো কল কেটে দিল!
- আরে ওর ফোন তো বাসায়। আমি ধরলাম, তোর সাথে আমি কথা বললাম এতক্ষন ওর ফোন দিয়ে। তারপর চার্জ শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে গেল।
- কি বল? আমি তো কোন কথাই শুনলাম না।
- এটা তো আমার পুরনো ফোনটা। ওই যে তোর ছেলে পিপি করে দিয়েছিল। এর পর কথা শুধু শোনা যায় এটা দিয়ে।
- তা যাই হোক! নিজের ফোনটা ও নিয়ে যায় নি? উফঃ আমি আর এসব নিতে পারছি না।

এক সপ্তাহ পর:

১০ম কথপোকথন:
- হ্যালো থানা থেকে ইন্সপেক্টর বলছি।
- জি আমার বোন কে খুঁজে পাচ্ছিনা, আমি এ ব্যাপারে সাহায্য চাচ্ছি।
- ২৪ ঘন্টা হয়েছে?
- হ্যাঁ।
- ছবি, কোন ফটো id, ফেসবুক id, এসব নিয়ে থানায় আসুন।
- ইয়ে মানে, ওর কোন ফটো id অথবা ফেসবুক নেই।
- তবে ছবি, সার্টিফিকেট আর ফোন নাম্বার হলেও চলবে আপাতত।
- সার্টিফিকেট গুলো হারিয়ে গিয়েছে, আর ওর কোন ফোন নেই।
- বলেন কি? এই ডিজিটাল যুগেও ফোন নেই? আমার তো এখন আপনাকেই সন্দেহ হচ্ছে।
- না মানে... মানে
- মানে মানে কি আবার? আপনার বোন হারিয়েছে আর আপনি তাকে খুঁজে বের করার জন্য কিছুই দিতে পারছেন না?
- সরি ইন্সপেক্টর। আসলে মেয়ে মানুষ কি যে দায়িত্বজ্ঞানহীন! সারা টা জীবন আমাদের জ্বালিয়ে এসেছে আমার বোনটা। এখন নিজের বউ বাচ্চা ফেলে, নিজের দায়িত্ব রেখে ওকে খুঁজছি। কি যে একটা লজ্জা জানেন না। ওর শ্বশুরবাড়ির মানুষের কাছে আমাদের নাক কাঁটা যাচ্ছে।
- আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। আপনি একটা fir করেন আর ছবি দিয়ে যান। কোন ম্যাচ পেলে জানাবো।

১ বছর পর:

১২ তম কথপোকথন:
-হ্যালো দুলাভাই, কি খবর?
- খুব ব্যস্ত! শোন সামনে শুক্রবার আমার বিয়ে, চলে এস পরিবার নিয়ে।
- এটা তো খুব ই ভাল সংবাদ। আমরা অবশ্যই আসব।
- দেখা হচ্ছে তাহলে?
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:০৯
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×