somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২৫ বছর পর আবার শাহবাগ.....

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৬:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শীতনিদ্রায় ছিলাম। ছিলাম এক ধরণের স্বেচ্ছা নির্বাসনে।
জাগিয়ে তুললো শাহবাগের জনতরঙ্গের গর্জন। পাঁচ হাজার মাইল দূর থেকে ভেসে আসা সহস্র কন্ঠের সেই আওয়াজ আমার ঘুম কেড়ে নিল।
এমন নয় যে এত বড় জনসমাবেশ আগে দেখিনি। জনতার এমন বহু বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের সাক্ষী আমাদের যৌবনকাল।
এমন নয় যে তরুণদের এমন বিদ্রোহ আর দেখিনি। আমাদের যৌবনের নয়টি বছর কেটেছে লাঠি-গুলি-টিয়ার গ্যাসে।
সে এক আশ্চর্য সময় ছিল। সাম্যবাদের স্বপ্ন তখনো গুঁড়িয়ে যায়নি।
সে এক অমানিশার কাল ছিল। স্বদেশ তখন চাপা পড়ে ছিল জলপাই রঙাদের বুটের নীচে।
গণতন্ত্র তখনো এক স্বপ্ন, আজকের প্রহসন নয়।
তারপর একদিন আজকের শাহবাগের মতোই রাস্তায় জনস্রোত নেমেছিল।
জলের কাতারে যুক্ত হয় জল। বেড়ে যায় স্রোতের সাহস....
সেই স্রোতের তোড়ে একদিন খড়কুটোর মতো ভেসে যায় সবকিছু...
এরপর বাকীটা ইতিহাস।
স্বপ্ন ভঙ্গের ইতিহাস। কপটতার, শঠতার, বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস।
এর মধ্যে পেরিয়ে গেছে ২২ বছর।
আমাদের যৌবন গতায়ু।
আমরা স্বপ্নহীন।
আমরা নিদ্রাতুর।
আমার শীতনিদ্রার শুরু।
---------------------------------------
পাঁচ হাজার মাইল দূর থেকে ভেসে আসা শাহবাগের গর্জন সমূদ্রের সহস্র ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ে আমার কানে।
আমাকে পাশ ফিরতে হয়। আমাকে চোখ খুলতে হয়। আমাকে উঠে দাঁড়াতে হয়।
২৫ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। তারপরও আমাকে শাহবাগে ফিরতে হয়।
পল্টন মোড় থেকে পুলিশ ভ্যানে কতক্ষণের রাস্তা?
এইতো, পুলিশ কন্ট্রোল রুম।
এটাই তো সেই কয়েদখানা।
কতজন ছিলাম আমরা? তিরিশ? চল্লিশ? পঞ্চাশ?
ডান হাতটা টন টন করছে ব্যাথায়। ফুলে উঠেছে বেশ।
হাত উঁচিয়ে ঠেকাতে গিয়ে পুলিশের লাঠির বাড়িটা পড়েছিল ওখানটায়।
মেঝের ওপর টপ টপ করে রক্ত পড়ছে।
আমার নয়, পাশের জনের। থেঁতলে যাওয়া আঙ্গুল, মাথাও কি ফেটেছে?
দৈনিক সংবাদের পাতাটা পেতে দেই।
আপনি কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ?
না, আমি সাংবাদিক, সচিত্র সন্ধানীতে লিখি।
খুব লেগেছে বোধহয়।
হ্যা, মাথাটা ঝিমঝিম করছে।
কয়েদখানার মুখে দাঁড়িয়ে পুলিশ।
ভাই এক গ্লাস পানি হবে।
চুপ শুয়োরের বাচ্চা। এই শালারে এক গ্লাস পেচ্ছাব এনে দে।
দেয়ালের ওপর দিয়ে এক ফালি আকাশ উঁকি দিচ্ছে। পায়ের পাতার ওপর ভর করে দাঁড়ালে জাদুঘরটাও চোখে পড়ে।
এখান থেকে মুক্তি মিলবে কি?
ঘটাং করে দরোজা খুললো। আরও জনা দশেকের চালান এসেছে।
ভাই, পাশের সেলের অবস্থা দেখেছেন? গুলি খাওয়া তিন জনের লাশ পড়ে আছে।
একজনের খালি গা। বুকে-পিঠে শ্লোগান লেখা।
বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়।
নুর হোসেনের বয়স কত হতে আজ? ৪৫? ৪৭?
আমি শাহবাগের জনস্রোতে নুর হোসেনের মুখ খুঁজে বেড়াই।
খুঁজি আত্রাই বাবু, এনায়েত কবীর, নাসির-উদ-দুজার মুখ।
টেলিভিশনের পর্দায় চেহারাগুলো ঝাপসা।
একটা মেয়ে দুলে দুলে শ্লোগান দিচ্ছে।
চশমাটা খুঁজে পাচ্ছি না।
আমার চোখে বাস্প জমছে।
আমার রক্তে বান ডাকছে।
আমি বাতাসে আরেক ফাল্গুনের গন্ধ পাচ্ছি।
আমাকে জাগতে হয়।
এখন জেগে উঠার সময়।


সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:৩১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×