somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“নিজামী ছিলেন পাকিস্তানের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল” পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি-

১২ ই মে, ২০১৬ সকাল ১১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাহবুবুল আলম //

উপরোক্ত শিরোনাম দেখে যে কোন দেশপ্রেমিক নাগরিকই আৎকে ওঠতে পারেন। কিন্তু এটাই প্রকৃত বাস্তবতা। জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকরের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে “পাকিস্তানের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাটাই ছিল তার একমাত্র পাপ।” এমনই একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসি দেয়ায় পাকিস্তান পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সকল কুটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করে এ ধরনের বিবৃতি দিয়েছে। যা সত্যিই লজ্জাষ্কর।
গতকাল ১১ মে ২০১৬ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিজামীর পক্ষে এমন ন্যক্কারজনক বিবৃতি দেয় দেশটি। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়,‘ যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এই বিচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিবৃতিতে বলায় হয় ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাংলাদেশ লঙ্ঘন করে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের বিচার করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ওই বিবৃতিতে নিজামীর পরিবারের প্রতিও গভীর শোক প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। এর আগে ১০ মে ২০১৬ প্রথমে একবার নিজামীর পক্ষে বিবৃতি দেয়া পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলাম নিজামীর পক্ষে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থতার জন্যও পাকিস্তান সরকারের সমালোচনা ও বিষোদগার করেছে । পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী মঙ্গলবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের পরপরই বদলে যায় ‘জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের ফেসবুক পেজ। তাদের ফেসবুক পেজের প্রোফাইল পিকচার ও কভার ফটোতে তারা ঝুঁলিয়ে দেয় নিজামীর ছবি। ছবির পাশেই শোভা পাচ্ছে ফোঁটা ফোঁটা রক্তের চিহ্ন। ‘উই আর নিজামী’ হ্যাশট্যাগ সংবলিত নিজামীর ছবি স্থান পাচ্ছে জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তানের ফেসবুক পেজের প্রোফাইল পিকচারে। এছাড়াও তাদের কভার ফটোতেও একই ধরনের পরিবর্তন এনেছে তারা। সেখানে নিজামীকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বুধবার বিকেল পাঁচটায় শুহাদামল মসজিদ রোডে নিজামীর গায়েবানা জানাজা পড়িয়েছে পাকিস্তানের জামায়াত। এ সময় জানাজা পড়ান পাকিস্তান জামায়াতের আমির মাওলানা সিরাজুল হক।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তানের প্রতি কতটা আনুগত্যশীল। এ প্রসংগে একটি কথা বলা প্রয়োজন যে, বাংলাদেশে যে কোন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকরের পূর্বে পাকিস্তানের এ ধরনের বিবৃতি প্রদান অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। একই সাথে প্রতিবার বিবৃতিতেই তারা অভিযোগ করে বলেছে যে,“১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাংলাদেশ লঙ্ঘন করে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের বিচার করে যাচ্ছে বাংলাদেশ”। এ ধরনের বিবৃতি বা বক্তব্য পাকিস্তানের জঘণ্য মিথ্যাচার ও অপপ্রচার। কেননা, ১৯৭৪ সালে যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির উদারহণ দেয়া হয় সে চুক্তিতে কোথাও বাংলাদেশের কলবরেটর ও যুদ্ধাপরাধীদের মাফ করে দেয়ার কথা বলা হয়নি। সে চুক্তিটিতে শুধু পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধীদের কথা উল্লেখ আছে। কাজেই পাকিস্তানের এ ধরনের বক্তব্য মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপকৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।
এখানে পাকিস্তানের কুটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভত আরও একটি আপকর্মের কথা বলা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছি। সেটি হলো, সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কমনওয়েল্থ এর এক অভিবেশনে বাংলাদেশে বিচারাধীন বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা ১৬টি মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দেয়ার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে। কিন্তু অন্য কোন দেশ এতে সমর্থন না দেয়ায়, সে প্রস্তাবটি অকার্যকর হয়ে যায়। কাজেই পাকিস্তানের এ ধরনের ন্যক্কারজনক কার্যকলাপ থেকে বোঝা যায় জামায়াতে ও বিএনপির রাজনীতির মূল শক্তি কোথায়! সম্প্রতি এ দুইটি দলের বিরুদ্ধে ইসরাইলী গোয়েন্দ সংস্থা ‘মোসাদ’-এর সাথে আঁতাত করে বাংলাদেশকে আইএস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিনত করার অভিযোগ ওঠেছে।
শেষ করতে চাই এই বলেই যে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের এহেন আচরণ বন্ধ করার জন্য বার বার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে তলব করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানোর জন্য পাকিস্তানের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পরও পাকিস্তানের বাংলাদেশবিরোধী আচরণ ও কর্মকান্ড বন্ধ হয়নি বরং বাংলাদেশের সব অর্জন নস্যাৎ করে দিতে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইকে নিয়োজিত করে রাখা হয়েছে। কাজে এ অবস্থার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা বাংলাদেশে সরকারকে ভেবে দেখার সময় এসেছে।
রবিবার পররাষ্ট্র দফতরে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানকে নাক না গলানোর জন্য আহ্বান জানান। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে তলব করে দেয় বাংলাদেশ। তবে এত কিছুর পরও বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আবারও বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তান।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০১৬ সকাল ১১:৩০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×