প্রশ্নটা বেশ অবান্তরই। কেননা আমরা তো মুসলমান। কোথাও গেলে সঙ্গ পেলে নামাজ পড়ি, শুক্রবারে মসজিদে যায় নিয়মিত। দুই ঈদেও যায় নামাজে। মসজিদ মাদরাসাতে দান তো করিই। মোল্লা ডেকে মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজনও করা হয়। বছরে একবার বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিলও করি আমরা।
বস্তুতঃ আমরা মুসলমানেরা আজ ততটুকুই মুসলমান ও কোরাণ মানি যতটুকু আমাদের কাজের সাথে মিলে। আমাদের কাজের সাথে না মিললেই দরকার পড়বে বড় মাওলানার, আপনি কি মুফতি নাকি, আপনি কি জানেন, রেফারেন্স কি, আগে তো কোন দিন শুনি নাই, অমুকেরা তো করে, সবাই তো করতেছে, একদিনই তো, একটু আধটুতে সমস্যা কি-------------- প্রশ্নের আর শেষ নাই। আর নতুন ট্যাগ আপনি কি জামাতি নাকি? কোন দল করেন, বাংলাদেশ কি আফগান বানাবেন, জঙ্গী তো আপনারাই- ইত্যাদি।
নামাজ কবুল হওয়ার শর্তের মধ্যে অন্যতম শর্ত পরিধেয় বস্ত্র পাক। আর এই পরিধেয় বস্ত্র পাক হওয়ার অন্যতম বিষয় সেটি ১০০ভাগ হালাল উপার্জনে খরিদ কৃত হতে হবে। তার মধ্যে যদি সামান্য তম সুতাও বেহালাল উপার্জনের হয় সে নামাজ হবে না। এখন একটু খেয়াল করলেই বোঝা যাবে আমাদে নামাজ কতটা গ্রহণ যোগ্য যেখানে শর্তই প্রতিপালিত হয় না।
আবার অন্যায় পথে আয় করা টাকা ভালো কাজে ব্যায় করাও হারাম। যেমন অন্যায় ভাবে আয় করে মসজিদ নির্মান করে ভাবি এই মসজিদে মানুষ নামাজ আদায় করবে তার থেকে নেকী হাসিল করবেন। কিন্তু সে বিষয়টা হবে হিতে বিপরীত। অন্যায় ভাবে আয় করলে আগে অন্যায়ের জন্য ব্যাখ্যা দিতে হত শাস্তি পেতে হত; সাথে নিষেধ করা হয়েছিল দান করতে, নাম কামাতে, সেটি করেছেন তার জন্য শাস্তি পেতে হবে।
মুসলিমের জন্য দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আল্লাহর হক পালন ও বান্দার হক পালন। আমরা আল্লাহর হক পালনে সোচ্চার হলেও বান্দার হক পালনে কি সোচ্চার???? আল্লাহ্য হক বলতে নামাজ, রোজা, হ্বজ, জাকাত। আর বান্দার হক- সেটি অনেক বড় বিষয়, সংক্ষেপে বলি, একজনার কাছে অন্যের যে অধিকার সেটিই বান্দার হক। উদাহরণ আসবে আল্লাহপাক যাকে ইচ্ছে তাকে জান্নাতবাসী করবেন যে কোন উছিলায়। এখানে কিন্তু একটা কিন্তু আছে-
আল্লাহর হক আল্লাহ ছেড়ে দিতে পারেন কিন্তু বান্দার হক কি আল্লাহ ছেড়ে দিবেন?? যে দিবসে কে কাউকে চিনবে না। যা পিতা পুত্রকে, না পুত্র পিতাকে।
আজ আমরা অন্যের ধন গোচরে অগচরে লুটে বড় হতে কতই না ব্যতিব্যস্ত। মরার পড়ে তো জুটবে মাত্র সাড়ে তিন হাত, তাও আবার আধুনিকতায় তিন মাসের জন্য। যতই সম্পদ গড়ি না কেন সঙ্গে যাবে না কিছুই, যাদের জন্য করছেন, তারা আপনার জন্য করতে পারবে না কিছুই।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


