গতকাল বাসায় ফিরতে বেশ দেরি হল। দেরি বলতে জেলা শহরের দেরি রাত ৯টা। স্বভাব সুলভ বাসায় ফিরেই রাতের খাওয়া সেরে ছেলেদুটিকে মোবাইল হাতে ধরিয়ে দিয়ে টুনা-টুনি বারান্দায় দাড়ালাম। শীতের আগমনের মহড়ায় শীতল পরশ। হঠাৎ শোরগোল কান্নার আওয়াজ, ভাই মাফ কইরা দেন আর করব না কোন দিন, ভাই মাফ করে দেন। দুজনে পাশের বারান্দা থেকে আসলাম সামনের বারান্দায়, পিটানোর শব্দ আর কান্নার চিৎকার। ভাই মাফ কইরা দেন।
ইচ্ছে ছিল গিয়ে দেখার কিন্তু শরীরটা ভালো না থাকায় নামতে ইচ্ছে হল না। বিল্ডিয়ের আরেক ভদ্রলোককে নিচে দেখে জিঙ্গেস করলাম- ভাই ঘটনা কি, বলল চুরির সময় ধরা পড়েছে। চিন্তুয় পড়ে গেলাম রাত মাত্র ১০টা এখনই চুরি। তখন আমার টুনি ক্লিয়ার করল বাচ্চার স্কুলের ভাবির বাসায় কিভাবে চুরি হয়েছে। মা-মেয়ে বিছানায় বসে টিভি দেখছিল পাশেই মোবাইল রাখা ছিল। দ্বিতয় তলায় বাসায়। হঠাৎ রান্না ঘরে থালাবাসন পড়ার শব্দ। ছুটে যায় দুজনেই। মিনিট ৫পরে এসে বিছানার চাদর একসাইডে, মোবাইল নাই।
তারা সুযোগ নেই যখন মানুষ গভীর ঘুমে অথবা ব্যাস্ততায়। বাসার সবাই টিভি দেখায় ব্যস্ত ছিল। পাসের ঘরে কত্তা ছিল আনমোনা অন্ধকারে। জানালা দিয়ে উকি দিয়ে দেখে কেও একজন ঘরের মধ্যে কিছু ঢোকানানোর চেষ্টা করছে। তিনিও কৌশলে প্রথমে বের হয়ে পাশের টং দোকানে এসে লোকজনকে বের হওয়ার পথে দাড়াতে বলেছেন। এবং তিনি নিচে গিয়ে তাড়া করেছেন। চোরের দশদিন গৃহস্তের ১দিন ঘটে গেছে।
কান্নার আওয়াজে বেশ খারাপই লাগছিল। পরক্ষণই মনে হল, এই এলাকা থেকেই তো ভোরে মোবাইল টান দিয়ে দৌড় দিয়ে পালিয়েছিল, আমার বারান্দার সখের পাখি গুলি চুরি করে ফাঁকা করেছিল। নিচতার বাসিন্দারা বসায় না থাকার সুযোগে তালা ভেঙে বিছানার চাদর পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে কিছু পিটুনি তার খাওয়া দরকার। কোন একজন বয়ষ্ক এসে না মেরে পুলিশে দেয়ার পরামর্শ দিতে শোনা গেল। জনতা সমস্বরে প্রতিবাদ জানালো পুলিশ টাকা খেয়ে ছেড়ে দিবে, আগে কিছু ধোলায় দেই তারপর পুলিশে, পুলিশ যা করে করবে।
হাইরে দেশ এখন রাস্তার লোকেরও পুলিশের প্রতি আস্থা নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



