সিনেমার স্মৃতি, সাদাকালো আলোর রূপালী ছটার মিষ্টি আমেজটা মিইয়ে গিয়েছিল পচা কমার্শিয়াল ছবির রঙীন আলোর ঝলকানিতে - রঙীন ছবির পুরোভাগে হাতেগোনা কয়েকটা ভালো ছবির দুলুনি আমরা পেয়েছি কিন্তু মুলধারাটা ছিলো ছিলো তলানির দিকে।
কমার্শিয়াল ছবির কাঠামোর মধ্যেই আলমগীর কবিরের কতকগুলি অবিস্মরনীয় সৃষ্টি থমকে যায় তার মর্মন্তিক মৃতু্যর মধ্য দিয়ে কিন্তু তার জীবনের শেষদিকে ভালছবির উত্তরাধিকারের চেষ্টার ফষল হিসেবে আমরা পেয়েছিলাম তিনজন পরিচালককে - ভালোমন্দের বিতর্কের উর্দ্ধে উঠে বললে এফডিসির পচে যাওয়া ছবির জোয়ারের বাইরে এদের হাতেই রুচিশীল ছবি নির্মানের সলতেটুকু জ্বালানোর ভার পড়েছিলো।
মোরশেদুল ইসলামের অনবদ্য চাকা -ভালোমন্দ মিলিয়ে দুখাই, দীপু নাম্বার টু, দূরত্ব - তানভির মোকাম্মেলের চিত্রানদীর পারের তুলনায় অন্যছবিগুলো ম্রিয়মান হলেও লালসালু আর লালন অন্তত হলে যাবার সূযোগটা তৈরী করে দিয়েছিলো। আলমগীর কবিরের হাতে তৈরী এই তিন পরিচালকের কনিষ্ট তারেক মাসুদ এদের অগ্রজ সহযোদ্ধার চাইতে নানা কারনে একটু স্বতন্ত্রভাবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। আদমসুরৎ নামে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের উপর দীর্ঘদিন (প্রায় নয় বছর) ধরে তৈরী করা তথ্যচিত্রের পর একটা লম্বা বিরতিতে হাজির হয়েছিলেন লেয়ার লেভিনের সংগৃহিত ফুটেজ এর উপর ভিত্তি করে মুক্তির গানের মাধ্যমে যা ঐতিহাসিককারনেই ভিন্ন গুরুত্ব বহন করে।
তারেক মাসুদকে নিয়েও বিতর্কের শেষ নেই- - তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগটি হলো তারেক মাসুদের ছবি মানেই বিদেশের পিঠচাপরানো প্লট আর কম্পোজিশন - তবে বাস্তবতা হলো একটি ছবির পেছনে এত অর্থ লগ্নীর ফ্যাকরা থাকে একজন পরিচালক চাইলেও শতভাগ স্বাধীন হতে পারেন না যদি না টেকনোলোজিক্যাল হিউজ এ্যারেঞ্জমেন্টকে ফিলোজফিক্যালি ডিল করেন।
ইরানী নয়া ছবির জনকেরা আব্বাস খিরোসতামি, মকবুলকভ কম পয়সায় ছবি বানানোর দার্শনিক ভিত্তিভূমি নিজেদের মতো তৈরী করে নিয়েছেন। বাংলাদেশে ঐ রকম দার্শনিক চলচ্চিত্র নির্মাতা এখনও সামনে এগিয়ে আসতে পারেন নি যিনি চলচ্চিত্র ভাষা ও শৈলীকে নিজস্ব বাস্তবতায় দাড় করাতে পারবেন।
তারেক মাসুদ শত বিতর্ক সত্বেও চলচ্চিত্রের বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনটে পদক্ষেপের কারনে আলাদাভাবে বিচারের দাবী রাখেন।
প্রথমত বিকল্প দর্শকের অন্বেষা - তার মুক্তির গান প্রজেক্টর নিয়ে গ্রামে গঞ্জে দেখিয়েছেন, এর মধ্যে দিয়ে চলচ্চিত্রকেও এই ভাবে বিকল্পভাবে বিভিন্ন অডিওটোরিয়াম ভাড়া করে দেখিয়ে দর্শক তৈরী করার চেষ্টা নিয়েছিলেন যদিও সে চেষ্টা অনেকআগেই থেমে গেছে।
দ্বিতীয়ত আত্মজৈবনিক চলচ্চিত্র নির্মান - মাটির ময়নায় নিজের শৈশবকে তিনি পুননির্মাণ করেছেন। ছবিটি নিয়ে যত আলোচনা সমালোচনা থাক, কান প্রতিযোগিতায় কিংবা অস্কার এ বাংলাদেশের প্রথম ছবি তথ্যের বিচারে এগুলি যতই আলোচিত হোক নিজেকে নিয়ে প্রথম চলচ্চিত্র - শুধুমাত্র এইএকটি কারনে ছবিটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
আর তৃতীয়ত বাংলাদেশের ছবির ক্ষেত্রে আন্তজার্তিক বাজারকে সচেতনভাবে ব্যবহার করবার চিন্তার পথটি তিনিই আমাদের সামনে তুলে দিয়েছেন।
তার সিনেমার কথা বললে... এটি আগামী পর্বেই শেষ হোক....
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




