somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঘের বাচ্চা অথবা বিগ্রেডিয়ার জামিল

১৫ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ৯:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে যতো কথাই বলুক ১৫ আগস্টের সেই কালো রাতে একজন বাঘের বাচ্চারই দেখা পেয়েছিলো জাতি...তিনি শহীদ বিগ্রেডিয়ার জামিল (তৎকালীন কর্ণেল)...আমার ভুল না হলে কর্ণেল জামিল ছিলেন বঙ্গবন্ধুর মিলিটারি সেক্রেটারি..তবে কথা ছিলো ১৫ আগস্ট ডিজিএফআই এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি...

১৫ আগস্ট ভোর রাতে কর্ণেল জামিলের বাসায় একটা ফোন আসে...প্রথমে ফোন রিসিভ করেন কর্ণেল জামিলের স্ত্রী...এরপর তিনি কর্ণেল জামিলকে দেন...ফোন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু নিজেই...ফোন রেখেই ড্রাইভার আইনুদ্দিনকে তৈরী হবার নির্দেশ দিয়ে নিজেও দ্রুত সাধারণ পোশাকে তৈরী হয়ে নেন...এর মাঝে সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহকে ফোন দিয়ে ফোর্স পাঠাতে বললেন, সেই সাথে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়ও ফোন করেন...সব জায়গা থেকেই তাকে সাহায্যের অশ্বাস দেয়া হয়...যদিও ইতহিাস বলে সাহায্য তো অনেক দূরের কথা বঙ্গবন্ধুকে রক্ষার কোন চেষ্টাই করা হয়নি সেদিন কোন স্থান থেকে...

সেই রাতে কর্ণেল জামিল যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন জায়গায় ফোন দেন তার মধ্যে পিজিআর এবং রক্ষী বাহিনীর হেড কোয়ার্টারও ছিল..সেই সময়ে ডিজিএফআই এর প্রধান ছিলেন ব্রিগেডিয়ার রউফ...অবাক করা হলেও সত্যি তিনি নাকি ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই সাঁজোয়া সেনাদলের মুভ করার খবরটি জানতেনই না...আরো হাস্যকর কথা তিনি নাকি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবরটি জেনেছেন পরদিন রেডিও শুনে...

শোনা যায়, কর্ণেল জামিল প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) সহ মুভ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সৈন্যদের সেখানে বহণ করার মত জীপ ছিল না বলে তাদেরকে ৩২ নম্বরের দিকে মার্চ করার কমান্ড দিয়ে তিনি তার ব্যক্তিগত লাল রঙের নিশান প্রিন্স নিয়ে প্রিয়জনদের নিষেধ-অনুরোধ উপেক্ষা করেই আগেই রওণা দেন বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে...

সোবহানবাগের কাছের রাস্তার ওপর ট্যাঙ্কসহ ব্যারিকেডের মুথে পড়েন জামিল...গাড়ী থেকে নেমে সেখানে দায়িত্বে থাকা একজন সুবেদার মেজরকে নিজের পরিচয় দিয়ে তার সাথে বাহিনী নিয়ে এগুতে বলেন কর্ণেল জামিল...এরপর তিনি আবার গাড়িতে এসে বসেন এবং তার ড্রাইভার আইনুদ্দিনকে গাড়ী স্টার্ট করতে বলেন...জানা যায়, আইনুদ্দিন জামিলকে ভিতরে না যেতে অনুরোধ করেন...তখন জামিল বলেছিলেন, তোমার ভয় লাগলে নেমে যাও, আমি ড্রাইভ করছি।

এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে আবির্ভাব ঘটে ঘাতক দলের অন্যতম বজলুল হুদার। হুদা এসেই প্রশ্ন করে, কে ওখানে? ওপাশ থেকে উত্তর আসতেই কালবিলম্ব না করে সুবেদার মেজরকে গুলি চালানোর আদেশ দেয় হুদা...তবে হুদার এই আদেশ পালনে অস্বীকৃতি জানায় সুবেদার মেজর...এরপর হুদা নিজেই স্টেনগান দিয়ে কর্ণেল জামিলকে লক্ষ্য করে গুলি করে...মুহূর্তেই প্রাণ হারান জামিল...তবে ড্রাইভার আইনুদ্দিন পালিয়ে যেতে পারেন সেখান থেকে...

***তবে তৎকালীন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের স্টেশন কমান্ডা লেফট্যান্ট কর্ণেল হামিদের বর্ণনার সঙ্গে উপরের বর্ণনার কিছুটা অমিল রয়েছে। তার বর্ণনামতে জামিলের কপালে কেবল একটি গুলিই লেগেছিল, স্টেনগানের ফায়ারে যেটা প্রায় অসম্ভব। এবং গুলিটা মেজর নূর চালিয়েছিল বলে উনি শুনেছিলেন।উনার কাছে ১৫ই আগস্টের পুরা বর্ণনা দিয়েছিল বজলুল হুদা, তার ভাষ্যমতে কর্ণেল জামিলের হত্যাকারী নূর,হুদা বা কোন অফিসার নয়,সাধারণ সৈনিকেরা। ৩২ নম্বরের দিকে যেতে নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি এগুতে চাইছিলেন এবং সৈন্যদের গালিগালাজ করছিলেন।

ঘটনা যাই হোক, বাঘ তো বাঘই...তার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি তার দায়িত্ব পালন করে গেছেন সেইটাই বড়ো কথা...কর্ণেল জামিলের মৃত্যুর পরও তার লাশ নিয়ে কম নাটক হয়নি...হাজারো দেন দরবারের পরে কান্নাকাটি করা যাবে না এই শর্তে তার স্ত্রীকে এক নজরের জন্য লাশ দেখানো হয়েছিলো...এই বীরের কপালে কাফনের কাপড়ও জোটেনি তার পরিবর্তে জুটেছিলো আমেরিকা থেকে শ্যালিকার পাঠানো বিছানার চাদর...

আফসোসটা কি জানেন, আমরা সেই জাতি যারা আমাদের বীরদের সম্মান দিতে জানি না...কী জীবদ্দশায়, কী মৃত্যুর পরে...এই কারণেই এখনো কর্ণেল জামিলকে মরণোত্তর বিগ্রেডিয়ার পদবী দেয়া ছাড়া আর কোন যোগ্য সম্মানই জানাতে পারিনি আমরা....
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১০:০১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×