স্কুল ছুটির মতাে ঘন্টি বাজিয়ে ঘাট থেকে নোঙর তুলে নেয় লঞ্চ...আমার পাশে দাঁড়ানো লিকলিকে দেহী এক কিশোর ফিসফিস করে বলে ’ছাড়লো মধ্যরাতের লঞ্চ’...কিশোরের মুখে শব্দগুলো শুনে আমি চমকে উঠি ...বোঝা যায় বালক বেশ বইটই পড়ে...
আমার মতো সেও লঞ্চের খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাতের নদী দেখছে...একটু একটু করে দূরে সরে যাচ্ছে আলো ঝলমলে ঘাট...পাশের কেবিন থেকে এক মাঝবয়েসী ভদ্রলোক বেরিয়ে কিশোরটিকে দাবড়ানি দেয়, ’যাও গিয়ে শুয়ে পড়’...মন খারাপ করে বালক চলে যায়...আমার ভীষন মেজাজ খারাপ হয় সঙ্গে মনও...
ছেলেটির নিশ্চয়ই ইচ্ছে ছিল সারারাত লঞ্চের বারান্দায় দাঁড়িয়ে নদী দেখবে...সারারাত না হোক আরও কিছুক্ষন বালককে নদী দেখতে দিলে এমন কোন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেতো না...
আমাদের দেশের অধিকাংশ অভিভাবকই তাদের শৈশব ভুলে যান...আর এ কারণেই আমাদের সন্তানেরা বোধহীন প্রজন্ম হিসেবে গড়ে উঠছে...অভিভাবকরা বোঝেন না সময়মতো খাওয়া, ঘুম আর পড়ালেখাই জীবনের সবকিছু নয়...এর বাইরেও জীবন আছে...
নিকোটিনের তেষ্টা পাচ্ছিল বেশ তাই টুক করে বিড়ি ধরিয়ে ফেলি...আজ আকাশে মেঘ নেই, নদীতে কুয়াশা নেই...মস্ত আকাশে তারাদের স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে...নদীর বাতাসটা একটু ভেজা ভেজা...সারা শরীরটাকে অবশ করে দিচ্ছে...
রাতের নদী রহস্যময়...দূরে আরো দূরে ছোট ছোট আলোর ইশারা...হয়ত কোন মাছ ধরার নৌকা বা মস্ত বড় জাহাজ...কিছুই ঠাহর করা যায় না...নদীর ঘোলা জলকে মনে হয় কালি ঘোলানো...
কোথা্ও কেউ নেই...জল কেটে কেটে এগিয়ে যাচ্ছে লঞ্চ...চট করে আমার মনে হয়, ঠিক এমন একটা জীবনেরই স্বপ্ন দেখেছিলাম...আহ্ কি শান্তি...পরক্ষনেই আবার মনে হয়, সময় ফুরিয়ে আসছে....দ্রুত খুব দ্রুত...
ধুর মানুষের জীবনটা এতাে ছোট কেনো!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





