পত্রিকায় মাছের বাজারের উপর দিয়ে রেলগাড়ি চলে যাবার খবর পড়তেছিলাম। মাছের বাজারে লোকজন মাছ কিনতে আসবে- এটাই স্বাভাবিক। আবার রেল লাইনের উপর দিয়ে রেলগাড়ি চলবে এটাও খুবই স্বাভাবিক। সমস্যা হচ্ছে কো ইনসিডেন্স টা। মাছ বিক্রি এবং রেলগাড়ি চালানো দুইটা কাজ আপনি একসাথে একই জায়গায় করতে পারেন না। এটা করতে গেলে তুলনা মূলক শক্তিশালী ইভেন্ট জয়ী হবে। দুর্বল ইভেন্টের দফারফা হবে। কারওয়ানবাজারে ঠিক তাই ঘটেছে। রেলগাড়ি ঠিকই বীরদর্পে লাইন পার হয়ে গেছে। দফারফা হয়েছে মাছের ক্রেতা এবং বিক্রেতার। সম্পুর্ন ঘটনা টা একটা প্রাকৃতিক সত্য। এতে কোন ধরনের কোন দৈব নাই। যারা এই ঘটনার গায়ে একটা দৈব আঁচ লাগাবেন তারা হচ্ছেন বেকুব।কাজেই তাদের কে আমি কোন প্রশ্ন করব না। বেকুব না হলে আমি তাদের কে একটা প্রশ্ন করতাম- একটা কাঁচের গ্লাস দশ ফুট উপর থেকে মেঝের উপর ছুঁড়ে ফেললে সেটা ভেঙ্গে যাবার মধ্যে কোন অলৌকিকতা আছে কিনা?
রেল গাড়ি বিশাল ভারী জিনিষ। বিশাল তার ভর বেগ। বিশাল ভরবেগের গতিশীল একটা জিনিষ কে তার গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য অনেক সময় শহরের বুক চিরে চালিয়ে নিতে হয় এবং বিশাল ভরবেগের কারনেই তাকে যখন তখন ব্রেক চেপে থামিয়ে দেয়া যায় না, তা সে যত কম গতিতেই চলুক। রেল লাইনের উপর বাজার বসছে- দিলাম ব্রেক চেপে! রেল লাইনের উপর প্রেম করছে-দিলাম ব্রেক চেপে! রেল লাইনের উপর বাস আটকা পড়ছে-দিলাম ব্রেক চেপে! এটা এই ক্ষেত্রে সম্ভব না। এই সাধারণ জ্ঞান মেনে শহরের ভেতর দিয়ে রেল চলাচলের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুন থাকার কথা। সেই নিয়ম অনুযায়ী চাইলেই কেউ রেল লাইনের উপর মাছের বাজার বসাতে পারে না। রেল লাইনের সাথে লাগিয়ে বস্তি নির্মান হতে পারেনা। রেল লাইনের উপর বাস যানজটে আটকা পড়তে পারেনা। যদি পড়ে তাইলে খুব স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মে মানুষ মারা যাবে। কারন জামাকাপড়, চামড়া ,মাংস, হাড্ডি এসব মিলে মানুষের শরীর যতটুকু শক্ত হয় একটা স্টিলের বার বা রড বা এঙ্গেল তার চেয়ে অনেক বেশি শক্ত এবং সেটা মানুষের শরীরে ঢুকলে তার মাথার খুলি বাঁ হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুস বা পাকস্থলী কে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিতে পারে। এটা প্রাকৃতিক অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক সত্য।
পুলিশ ভাইকে জিজ্ঞেস করেন। বলবে- ভাই, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আমার কথা শুনে না। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কে জিজ্ঞেস করেন। বলবে- ভাইডি, মাছ বিক্রেতা খুবই বদ! বাজার উঠাইতে বললে পানির ঝাপটা দেয়! যিনি রেলের ধাক্কা খেয়ে পরপারে চলে গেছেন তাকে প্রশ্ন করার কোন উপায় নাই। যিনি আহত হয়ে হসপিটালে কাতরাচ্ছেন তাকে জিজ্ঞেস করেন- ভাইজান রেল লাইনের উপর দিয়ে ত রেলগাড়ি আসতেই পারে। ওটা ত পরিত্যক্ত ছিলনা। ত ওখানে বাজার করতে গেলেন কেন? ঢাকা শহরে কি আর মাছের বাজার নাই? উনি বলবেন- ভাইজান, বাজার করে ত আবার অফিসে ছুটতে হবে। এই বাজার টা হাতের কাছে, তাই!
একটা বিশাল জনগোষ্ঠী যখন যুক্তিবোধ হারিয়ে মূঢ় হয়ে বেঁচে থাকে তখন তাদের কথাবার্তা গুলো এরকম ই হয়। এদের শোকের দৌড় কান্নাকাটি পর্যন্ত। পরিবর্তন এদের দিয়ে হয় না। কান্নার পর এরা খুব দ্রুত অশালীন হাসি হেসে ফেলে এবং সেই অশালীন হাসি হাসতেই থাকে পরবর্তী কান্নার উপলক্ষ তৈরি হওয়া পর্যন্ত।
সামনে অবশ্য আরো সুদিন আসতেছে। এখন ত মাশাল্লাহ ফাঁস প্রশ্ন পত্রে পরীক্ষা দিয়ে এ প্লাস পাচ্ছে। দেখা যাবে সেই এ প্লাস ওয়ালা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার। এমন ইঞ্জিনিয়ার যে ভরবেগ মানে কি তাই জানে না! ভবিষ্যতে দেখা যাবে এধরনের ইঞ্জিনিয়ার রা এধরনের ‘প্রাকৃতিক ঘটনা’য় মানুষের মৃত্যু ঘটলে টিভি চ্যানেলে বাংলিশে সাক্ষাতকার দেবে( কারন এরা বাংলা বা ইংরেজি কোনটাই ঠিকমত জানেনা)-
ইউ নো। ইটস এন এক্সিডেন্ট! এক্সিডেন্ট এরাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড শবকানে গঠে! আমড়া এখন একটা এন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলুশুন এজ পাড় কড়ছি ইউ নো- যারা মাড়া গেছেন এটা কান্ট্রির জন্য টাঢের একটা গাড ডেম সেক্রিফাইস ইয়ু নো!
দোহাই লাগে। টর্চ লাইট খালি ঘুরাই ঘুরাই ঠিক যেখানে সমস্যা সেখানে আসার আগেই সুইচ টা অফ করে দিয়েন না। একটা ঘটনা যথাযথ তদন্ত করে সেটা পরবর্তী তে যাতে আর না ঘটে তার যথাযথ পদক্ষেপ নেন। এর মধ্যে দরকার হলে পৃথিবী ধবংস হয়ে যাক। আপনি কাজ যেটা ধরছেন সেটা শেষ করেন। আপনি যদি সম্পুর্ন আন্তরিক সদিচ্ছা এবং বৈজ্ঞানিক সুবুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও আপনার কাজ শেষ করতে না পারেন তাইলে সেটা কে আমরা দৈব বলে মেনে নেব। কিন্তু মাছের বাজারে মানুষ হত্যা, গার্মেন্টস বিল্ডিং এ মানুষ হত্যা, ফ্লাই ওভারের নিচে মানুষ হত্যা আমরা দৈব বলে মেনে নেব না। কারন আমরা ফাঁস প্রশ্ন পত্রে পরীক্ষা দিয়ে মেট্রিক, ইন্টারমিডিয়েট বা ইয়ুনিভার্সিটি পাশ করি নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




