পাড়ার রকে ছেলেপেলে আড্ডা দিচ্ছে। করিম একটা ঠান্ডা বেন্সন সিগারেট ধরিয়ে কষে টান দিল। তারপর রকের দিকে আগাল। আড্ডা জমজমাট। আড্ডার বিষয় মেয়েমানুষের শরীর। করিম যেহেতু যুবক কাজেই করিমের আড্ডা ভাল লাগল। গরম শরীরে সেও বন্ধুদের সাথে খানিক্ষন খেক খেক করল। কিছুক্ষন পর সেখান দিয়ে পাড়ার একটি মেয়েকে হেটে যেতে দেখল করিম। বইয়ের ব্যাগ কাঁধে ঝুলানো মেয়েটা যে সুদীপ স্যারের কাছে পড়তে যায় সেটা সবাই জানে। মেয়েটাকে দেখেই ছেলেপেলেরা মেয়েটার শরীর নিয়ে ‘মৌখিক এনাটমি’ শুরু করল। এবার করিমের আর ভাল লাগল না। করিমের আচমকা মনে হল তার ছোটবোন তুলি ও এই মেয়েটার বয়সী এবং সেও অন্য ব্যাচে সুদীপ স্যারের কাছে এখান দিয়েই পড়তে যায়। এবারের খেক খেকে করিম অংশগ্রহন করল না। করিমের মাথা ধরল এবং করিম বলল-দোস্ত বাসায় যাই!
যেতে যেতে বাবু দের বাসার ছাদ থেকে করিমের নাম ধরে কেউ জোরে ডাক দিল। করিম ছাদে উঠে দেখল ছাদের উপর মাদুর পেতে আড্ডা। আড্ডায় পেটমোটা মদের বোতল আছে। চানাচুরের প্যাকেট আছে। সিগারেট ত আছেই। কথাবার্তার বিষয় রাজনীতি। করিম দেখল- কিভাবে দেশের সকল সমস্যা সমাধান করা যায় সেটা সবাই নিজের মত করে জানে এবং সবাই নিজের টাই মানে। সজল কাজলের উপর তার বক্তিতা চাপায় ত কাজল রহিজের ঘাড়ের উপর সিগারেটের ছাই ফেলে বলে- দেশের সব মানুষের আগে কার্টেসি শিখা উচিত! কার্টেসি জানেনা বলেই ত দেশ ও জাতির আজ এই অবস্থা!
করিমের আড্ডা ভাল লাগলনা। সে একপেগ মেরেই ছাদ থেকে নেমে আসল। ছাদ থেকে নেমে খামাকাই পুকুর পাড়ের দিকে হাঁটতে লাগল। হাঁটতে হাঁটতে করিমের মনে আফসোস হল। আকাশে আজ অর্ধেক চাঁদ উঠেছে। আরেক পেগ মেরে পুকুর পাড়ে গিয়ে বসলে চাঁদ টাকে পুরা মনে হতে পারত। করিম নিজেই নিজেকে ‘খেক’ করে গাল পাড়ল!
পুকুর পাড়ে অর্ধেক চাঁদের আলোয় গোল হয়ে জুনায়েদ, সুদীপ্ত রা আড্ডা দিচ্ছে। এদের আড্ডার বিষয় আরো জঘন্য। এরা বসে বসে তাদের ই এক সাবেক বন্ধু(!) মেসকাতের র নামে যত ধরনের বদনামি করা যায় করতেছে। তাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছে। জুনায়েদ ত বলেই ফেলল- মেস্কাইত্তায় একবার পুকুর পাড়ে মুত্তে বইছিল। চান্দের আলোয় ফাঁক দিয়া দেইখা কেন জানি মনে অইছিল হের বীচি নাই!!
করিমের মত নির্লিপ্ত ছেলেও জুনায়েদের কথা শুনে বিস্মিত হল। জুনায়েদের সাথে মেসকাতের গলায় গলায় দোস্তি ছিল। মেসকাত আজকে একটা অন্যায় করছে দেখে তার আড়ালে তার নামে এরকম নোংরা কথা জুনায়েদ বলতে পারতেছে এটা করিমের বিশ্বাস হলনা। কিন্তু বিশ্বাস না করেই বা উপায় কি? এক পেগ মদ খেলে ত কারো নেশা হয়না।
করিম টলতে টলতে বাসায় ফিরল। চাপকলের নিচে ছোট বালতি ছিল। চাপকল ডেবে বালতি পুরা করল। মাথায় পর পর তিন বালতি পানি ঢালল। তারপর গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল।
( গল্পের সব নাম বানানো)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




