somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শব্দজ্ঞান !

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আচ্ছা, আমি ‘পানি’-কে ‘জল’ বললে তুমি ওভাবে তাকাও কেন?
ছোটো ‘চাচা’-কে ‘কাকা’ বললেও তুমি যেনো কেমন করে তাকাও!


আমার ভাবনার অন্দরমহলে কাঁপুনি ধরে। ভয়ের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়! জলপাই রঙের রেস্টুরেন্টে যখন খাবার অর্ডার করো তখন সচেতনভাবেই তোমাকে বলতে শুনি “‘সুরুয়া’ বেশি করে দিবেন, প্লিজ”! ওয়েটার অবশ্য ‘সুরুয়া’ শব্দের অর্থ না বুঝে হা করে তাকিয়ে থাকলে তুমি খুব বিরক্তি নিয়ে বলো- ‘সুরুয়া’ মানে হলো ‘ঝুল’!

ওয়েটার হেসে বলে- স্যার কীসের সুরুয়া দেব? মাংসের? ভ্রু কিছুটা কুঞ্চিত করে তুমি বলো- গোশতের সুরুয়া; মানে মাংসের ঝুল!
সংকীর্ণ বিশ্বাসের পোশাকে মোড়া তোমার হৃদয়। তোমাকে কখনো ‘লাউ’ বলতে শুনিনি। ভরাট গলায় বলো- “লাউ এর খারাপ অর্থ আছে, বলতে হয় কদু!”

‘পিসিমা, মাসিমা, পিসেমশাই’ – ডাকগুলো শুনলেই মনে হয় তোমার শরীরে কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে!
‘আদিম’ শব্দ নিয়েও তোমার কতই না যুক্তির বহর! তোমার খোঁড়া যুক্তির বৃষ্টিতে ভিজাতে চাও সকলকে। কী মনে করে যেনো তুমি এখন আর ‘Holy Quran’ বলো না! বলো- ‘Sacred Quran’

দেশি বিদেশি কোনো সুহৃদ এলে কখনোই তোমাকে বলতে শুনিনা “লাল গোলাপ শুভেচ্ছা কিংবা লাল গালিচা শুভেচ্ছা। ‘লাল রঙ’, ‘লাল পতাকা’, ‘লাল গোলাপ’ শব্দগুলোর সাথে যেনো তোমার নিত্য দ্বন্দ্ব লেগেই রয়েছে!

বিশ্বাসের বৃষ্টিতে গোসল করলেও কখনোই তুমি ‘স্নান’ স্থলাভিষিক্ত করো না! কুয়োর ব্যাঙের মতো ক্ষুদ্র জায়গাতে পড়ে থাকো বলে অনেক বিদেশি শব্দ বা বিধর্মী শব্দই তোমাকে ছোঁ’তে পারে না!

আজকাল ‘রেনেসাঁ’ শব্দের প্রতিও তোমার কেমন যেনো অনীহা অনীহা ভাব! উত্তর চাইলেই অবশ্য রেডিমেড ডায়লগের মতো বলো-‘পুনরুজ্জীবন’ বা ‘নবজাগরণ’ শব্দদ্বয় সন্তানের মতোই আপন!

‘আদিম যুগ’ বললেই তুমি বেশ চটে যেতে; অনেক পরে জানতে পেরেছিলাম ‘আদম’ থেকেই শব্দটির উদ্ভব! আর তাতেই ... ! পাশের বাড়ির কমলাকেও তুমি সামন্ত রাজাদের মতো ভাব নিয়ে শাসাতে। উপদেশের ঝুলি থেকে দামি শব্দ বের করার মতো করে বলতে “দর্জিকে খলিফা বলতে নেই!”

তোমার আচরণের কারণে বিভিন্ন সময় আমি ‘বলির পাঠা’ হলেও তুমি তা বলতে নিষেধ করতে। ‘ইফতার পার্টি’ শব্দদ্বয় পরিবর্তন করে বলতে ‘ইফতার মাহফিল’।

‘বাবা’ শব্দটিকেও তোমার কাছে একজিমার মতো মনে হয়! ভদ্র-অভদ্র সকল জায়গাতেই তোমাকে বলতে শুনতাম ‘পাদ’ শব্দটি। ভুলেও বলতে না ‘বদবায়ু’ কিংবা দুষিত বায়ু!

বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে তুমি ‘আশীর্বাদ’ শব্দটি কৌশলে পরিহার করে ‘দোয়া’ই ব্যবহার করতে। ‘প্রার্থনা’ শব্দটিকেও তোমার কাছে যেনো মনে হতো সৎ ভাই! তাই তুমি ‘মোনাজাত’ই বলো!

একসময় ‘মেহমান’র পরিবর্তে ‘অতিথি’ বললেও এখন কিন্তু তোমাকে ঠিকই গেস্ট বলতে শুনি! কেবল ‘দুলেহা-দুলেহীনে’র পরিবর্তে ‘বর-কনে’ বললেই তোমার গায়ে যেনো 105 ডিগ্রি জ্বর চলে আসে!

লাইলি-মজনু’র প্রেমের মতো দিওয়ানা হয়ে তুমি ‘মরহুম’ শব্দটিকে আলিঙ্গন করে বুকে টেনে নাও অথচ ‘প্রয়াত’ শব্দটিকে তোমার মনে হয় বাংলা ছবির খলনায়কের মতোই চিরকালীন নিকৃষ্ট!

বিশ্বাসের মল্লযুদ্ধে তুমি বিজয়ী বীর! তোমার বিশ্বাসে প্লাবিত হয় ভাষার জমিন। বোরকা পরার মতোই তুমি ধর্মকে শব্দের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চাও। শব্দের অন্ধগলিতে দাঁড়িয়ে ভাবছো- তুমি এক দিগ্বিজয়ী বীর! ধর্মের সুঘ্রাণ নিয়ে তুমি অবলীলায় শব্দের মাত্রা ধরে হাঁটো। ওহে পণ্ডিত! তোমার হয়ত কখনো জানাই হবে না যে, ধর্মকে ভাষার কাঠামোতে ধরে রাখার চেষ্টা ধর্মেরই ক্ষতি, ভাষা বা সাহিত্যের না। তোমার অন্ধ, সংকীর্ণ ভেজা বিশ্বাসে কোনো ফাঁকি নেই নিঃসন্দেহে; কিন্তু কেনো যেনো মনে হয় অনেক ফাঁক রয়েছে!


-------------------
মুনশি আলিম
15.09.2015
শিবগঞ্জ, সিলেট

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৫৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×