somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাহবাগের আন্দোলনের কয়েকটি দিক

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাহবাগের আন্দোলনের কয়েকটি দিক ও
ন্যায় বিচার প্রার্থীদের করণীয়

শাহবাগীদের ইস্যু:
1. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ফাঁসি প্রদান করতে হবে।
2. জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।
3. জামায়াত শিবিরের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। (ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা হাসপাতাল, বিভিন্ন কোচিং সেন্টারসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান)
4. শিবির পরিচালিত কোন কোচিং সেন্টারে ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করা যাবেনা।
5. জামায়াত শিবির পন্থি মিডিয়া- আমার দেশ, নয়াদিগন্ত, সংগ্রাম, দিগন্ত টিভি, সোনার বাংলাদেশ ব্লগ ও অন্যান্য মিডিয়া বন্ধ করে দিতে হবে।

আন্দোলনের সূচনা:
গুটিকয়েক ব্লগার ও ফেসবুক ব্যবহারকারীরা আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অনলাইনে প্রচারনা করে শাহবাগে অবস্থানের ঘোষণা দেয়।

এই ব্লগাররা কারা
শাহবাগ স্কয়ারের গণজমায়েতের ডাক যারা দিয়েছিলেন তারা বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী ছাত্র ইউনিয়ন, বাসদ, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র মৈত্রী ও অন্যান্য বাম সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ও উক্ত দলগুলোর কমিটিতে স্থান পাওয়া বর্তমান ও সাবেক নেতা-নেতৃবৃন্দ। যেমন- ডা. ইমরান ও লাকি আক্তার ছাত্র ইউনিয়নের যথাক্রমে সাবেক ও বর্তমান নেতা।

তাদের ফান্ড আসে কোথা হতে:
এত বড় আন্দোলন পরিচালনা করতে শুরুতে কোন টাকা-পয়সা বা অল্প টাকার প্রয়োজন হলেও গত বৃহস্পতিবার থেকে তাদের প্রয়োজন হয়েছিল অনেক টাকার। শুক্রবারের মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন করতে তাদের টাকা খরচ করতে হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো তারা কি ক্যাশ টাকা পাচ্ছেন না সার্বিক সহায়তা পাচ্ছেন? বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়-
1. আওয়ামী পন্থি বিভিন্ন কোম্পানী এই মহাযজ্ঞ বাস্তবায়নে উপস্থিত দর্শকদের খাবারের যোগান দিচ্ছেন। যারা রাত জেগে থাকে তাদের আরামে থাকার ব্যবস্থা (কম্বল অন্যান্য দ্রব্যাদি) ও খাবারের যোগান দিচেছন।
2. এ আন্দোলন সফল করার জন্য আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারীদেরকে ভারতীয় দূতাবাস এর পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।
3. ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা হাসপাতাল, ফোকাস, রেটিনা, দিগন্ত টিভি, নয়া দিগন্ত ও আমারদেশসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হলে যারা লাভবান হবে তারা এই আন্দোলন বাস্তবায়নে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের প্রচেষ্টায় অর্থ ঢেলে দিচ্ছে।
4. শুক্রবার দিন থেকে আওয়ামীলীগ নেতা ও ছাত্রলীগ টাকা ও খাবারের যোগান দিচ্ছে এবং ছাত্রলীগ এ আন্দোলনের কথা বলে টাকা তুলছে।

মিডিয়া কাভারেজ:
বাম আদর্শে বিশ্বাসী সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ফুল কাভারেজ দিচ্ছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো লাইভ সম্প্রচার করায় এর প্রতি মানুষের আগ্রহ আরো বেড়ে যায়।

শুক্রবারে এত লোক হওয়ার কারন:
1. সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ও বই মেলা থাকায় লোকজন অনেকেই আগ্রহ বশত দেখতে আসে যে কি হচ্ছে। শাহবাগ ও বইমেলা দুটা একসাথে হয়ে যাবে।
2. ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে ব্যানার ও মিছিল নিয়ে আসা হয়।
3. ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য আবাসিক ও অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বাস ভর্তি করে লোক জন নিয়ে এসেছিল।
4. সাধারণ মানুষও যে আসে নাই তা না তারাও এসেছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে বলিষ্ঠ প্রচারনার কারনে তারাও বিচার চায় কিন্তু এটা কাদের কারসাজী এটা তারা বুঝে না।
শুক্রবারের পরের অবস্থা:
শুক্রবারের পর থেকে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ৫% ও হবেনা। এখন যারা মাঠ দখল করে আছে তারা ছাত্র লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতা কর্মী ও সংখ্যা লগিষ্ট বাম মতাদর্শীরা। আর ভাসমান লোকজন ও ছাত্র-ছাত্রীরা আসা যাওয়া করছে।

ন্যায়বিচার প্রার্থীদের যা করা দরকার
1. এ আন্দোলনে শুরু থেকে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের পূর্নাঙ্গ পরিচয় তুলে ধরতে হবে। তারা কোন মতাদর্শের একটি পোষ্ট পজিশন কি ছিল?
2. আমারদেশ পত্রিকার মত এর বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলতে হবে এভাবে যে, এ আন্দোলনের সুবিধাভোগী কারা, কারা এ আন্দোলন সংগঠিত করেছে, এখানে ফান্ড দিচ্ছে কারা, রাতে কারা এখানে অবস্থান করছে এগুলো বুঝিয়ে বলতে হবে।
3. মঞ্চে কারা বক্তব্য দিচ্ছে। যারা বক্তব্য দিচ্ছে তারা হলেন বাম নেতৃবৃন্দ, বাম আদর্শে বিশ্বাসী সাংস্কৃতিক কর্মী, আওয়ামীলীগের বাম ঘেষা নেতৃবৃন্দ ও আওয়ামী ও বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী মিডিয়া কর্মীরা।
4. আরো বুঝাতে হবে যে, সারা বিশ্বে যে পরিবর্তনের আন্দোলন হচ্ছে বা হয়েছিল যেমন মিশরের তাহরির স্কয়ার তা ছিল ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন। মানুষ মৃত্যুর ঝুকি নিয়ে সে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল আর বর্তমান আন্দোলন হলো সরকারকে রক্ষার আন্দোলন।
5. পুলিশের মারমুখি অবস্থান ও তাদের নির্যাতনের ভয় থাকলে এখানে কতজন লোক আসত? মোটেই না তাই এ আন্দোলন আরব বসন্তের মত একই ক্যাটাগরির আন্দোলন এটা না এগুলো জনগনের মাঝে তুলে ধরতে হবে।
6. সরকারের ব্যর্থতা ডাকার একটা অপকৌশল মাত্র।
7. মিডিয়াগুলো যে এত কাভারেজ দিচ্ছে এর কারন কি? এই মিডিয়া কর্মী এবং মালিকদের মতাদর্শ কি, তারা ইসলামের পক্ষের লোক না বিপক্ষের। তারা এ দেশে সেকুলার ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রচারক না ইসলামের পক্ষের লোক এগুলা সাধারণদের বুঝাতে হবে। তারা কোন মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং তাদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড কি ছিল তা জেনে মানুষদের বলতে হবে।
8. বলিষ্ট গলায় বলতে হবে, হীন মন্য হওয়ার কোন কারন নাই
9. আজকে জামায়াত ও শিবিরকে ঝামেলামুক্তভাবে সমাবেশ ও অবস্থান করার সুযোগ দিলে এর থেকে বেশি লোক নিয়ে একমাস ঢাকা অচল রাখা যাবে।
10. ভুলে গেলে চলবে না যে শুধু ছাত্র শিবিরের সমাবেশে পল্টন ময়দান ও তার আশে পাশে এলাকায় উপচে পরা ভির ছিল।
11. জামায়াত ও শিবিরকে গনসংযোগের অনুমতি দিলে ও মিডিয়া কভারেজ পেলে এর চেয়ে বেশি জনগন নিয়ে সারা দেশে অচল করার ক্ষমতা জামায়াত-শিবির রাখে একথা নিজে বিশ্বাস করা এবং জনগণকে বুঝানো।
12. যুদ্ধাপরাধের বিচার আওয়ামীগের একটা পলিটিক্যাল এজেন্ডা এবং সাধারণ মানুষের মুক্তিযুদ্ধের উপর যে ইমোশন আছে তা নিয়ে আওয়ামীলীগ রাজনীতি করছে।
13. মুক্তিযুদ্ধের আবেগ কাজে লাগিয়ে আওয়ামীলীগ দেশ শোষণ করছে এটা জনগণকে বুজাতে হবে।
14. সারা দেশে সন্ত্রাস, গুম, হত্যা, ধর্ষণ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের টেন্ডারবাজীর খবরগুলো মানুষের সামনে প্রমানসহ তুলে ধরতে হবে।
15. সীমান্তে হত্যা ও দ্রব্য মুল্যের উর্দ্ধগতির কারনে জনগনের কষ্টের কথা তুলে ধরতে হবে।
16. ফাসির রায় তো তারা আগেই দিতে পারত কিন্তু তা না দিয়ে জনগনের মুখ থেকে তারা এটা বলানোর অপকৌশেল কেন নিল লোকজনকে বুঝিয়ে বলতে হবে।
17. আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক এজেন্ডা জনগনের দাবীতে পরিনত করার অপচেষ্টা তা নিজেরা বুঝা ও অপরকে বোঝাতে হবে।
পাশাপাশি জামায়াত ও শিবিরের ভাল কাজ ও তাদের সততা, সমাজের উন্নয়নে তাদের কর্মকান্ড এবং বর্তমান সময়ে তারা যে সবচেয়ে উত্কৃষ্ট দেশপ্রেমিক

এটাও বিভিন্ন উদাহরনের মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। সর্বপরি আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও তাওয়াক্কুল বজায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে একটা বিষয় প্রনিধান যোগ্য যে, যখন ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান নিজামুল হক নাসিক কোর্টের মধ্যে আশ্ফালন দিত এবং সাঈদী সাহেবের ফাসি অনিবার্য মনে হতো তখনই ফাস হলো স্কাইপি কেলেঙ্কারী আর ধরাশায়া হলো নাসিম ও আওয়ামীলীগ।

আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সমাজের উন্নয়নমুলক কাজ ও জন সচেতনার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আল্লাহর সাহায্য খুবই নিকটে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×