somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

দেবজ্যোতিকাজল
হাওয়াইন স্ট্রীল গীটার , কবিতা , উপন্যাস , প্রবন্ধ-নিবন্ধ , ভোকাল ও আর্ট • এসব আমার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে

অনুগল্প ।। টারকোয়েজ শার্ট

০২ রা মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কিছুদিন আগে পর্যন্ত পরিবারের সদস্য ছিল পাঁচ । বাবা-মা , প্রতিম-পিউ ও ঠাম্মা । প্রতিমের মা মারা যাবার পর সংসারটা ছোটো হতে থাকে । পিউ ছিল , প্রতিমের ছয় বছরের বড়ো । তাই পিউ-এর বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সংসারটা আরও ছোটো হয়ে যায় ।

প্রতিমের বয়স যখন ষোলো । তখন তার মা এক-অজানা রোগে মারা জান । প্রায় বিনা চিকিৎসায় প্রতিমের মা চলে জান । বিনা চিকিৎসা মানে চিকিৎসা করার সুযোগ পাননি ।

প্রতিম এখন কলেজে পড়ে । মা হারা ছেলেটা এখন বড়োই আনকন্সার্নড । ড্রেস-পোষাক থেকে নিজের প্রতিও অগোছালো । কোনও স্মার্টনেস নেই । কোনও চাকচিক্ক নেই । প্রতিমের প্রতি ঠাম্মার ভূমিকাও যৎ-সামান্য । আশি ছুঁইছুঁই তার ঠাম্মার । তাই প্রতিম আপ-টু-ডেট নয় । অনেকটাই আজ-কালকার ছেলেদের চেয়ে পিছিয়ে । প্রতিমের গুন বলতে একটাই তা হলো লেখা পড়া । মারও ইচ্ছা ছিল প্রতিম ডাক্তার হবে । তাই সে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে । কলেজের সেরা ছাত্র সে । মিথ নামে একটি মেয়ে প্রতিমকে ভালবাসে । প্রেম-ট্রেম প্রতিমের নো ইন্টারেস্টিং । তবুও কেনও জানি মিথকেও তার ভাল লাগে ।

প্রতিম এক রাতে গাছের সঙ্গে গাছের বিয়ের স্বপ্ন দেখেছিল । কি যেনো গাছ ? হ্যাঁ মনে পড়েছে । বট গাছের সঙ্গে পাঁকুড় গাছের বিয়ে । স্বপ্নটা এখনও মাঝে মাঝে দেখে প্রতিম । সে এ সব বিশ্বাস করে না । তবুও কোন একদিন এই স্বপ্ন দেখেই মিথ কে ভালবাসার সঙ্গী করে পেয়েছিল । ভালবাসা পেলে ছেলেদের জীবনে রঙ লাগে । আয়নাতে বারবার মুখ দেখে । প্রতিদিনের পোশাকে রঙ লাগে । প্রতিম ঠিক তার উল্টো । একদম অযত্নবান । কালো রঙের টিশার্ট ঝুলে হালকা নেভিব্লু জিন্স । মাসের পর মাস কলেজে প্রতিমের সেই একই পোশাক । মিথ প্রতিমের পোশাক-আশাকে যথেষ্ট বিরক্ত হয় । মিথ প্রতিমকে কিছু বলতেও পারে না । বান্ধবীরাও মিথের আড়ালে বাজে কথা বলে । দু একটা কথা মিথের কান অবদিও পৌঁছায় । মিথ একবার ভেবেও ছিল প্রতিমকে কথাটা বলবে । প্রতিম কষ্ট পাবে ভেবে কথাটা আর বলা হয়নি ।

তাই একদিন মিথ প্রতিম কে সহজ গলায় বলল ,“ তোমার কি রঙ পছন্দ ?”

প্রতিম চোখ বন্ধ করে বলল , “ কালো ।”

মিথ আবারও অবাক সুরে বলল ,“ শুধু কালো ! আর এই একটিই রঙ !”

প্রতিম মিথের কথার উত্তর না দিয়ে বলল ,“ তোমার পছন্দের রঙ ?”

মিথ জড়ানো গলায় বলল ,“ বেগুনী , লাল আর টারকোয়েজ ।”

প্রতিম হাল্কা হেসে ,মিথের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল ,“ টারকোয়েজটা আমারও পছন্দ ।”

প্রতিমের কথা শেষ না হতেই হড়বড়িয়ে মিথ বললে ,“ তবে যে বললে শুধু কালো ?”

প্রতিম মিথের কথার প্রশ্ন বা উত্তরের কোনোটারই জের না টেনে চুপচাপ বসে রইল । মিথও কথা না বাড়িয়ে চোখ বন্ধ করে প্রতিমের দিকে দু আঙুল বাড়িয়ে ধরে বলতে লাগল,“ কোনটা ধরবে ধর ?”

প্রতিম বুঝতে পারলো না আঙুল ধরাধরির ব্যপারটা । প্রতিম নড়েচড়ে বসে চোখ বড়ো বড়ো করে বলল ,“ মানে !”

মিথ হড়বড়িয়ে মিষ্টি করে বলল , “ আরে ধরো না । কারণটা পড়ে বলছি ।”

প্রতিম মাথা ঝাকিয়ে ,“ তর্জনী ধরলো ।”

মিথ লম্বা শ্বাস নিয়ে হাসতে হাসতে বলল ,“ আমি কাল কালো রঙের সালোয়ার কামিজ পড়ব । আর তুমি পড়বে টারকোয়েজ রঙের শার্ট ।”
মিথ কথাগুলো বলে একটু থেমে প্রতিমকে শ্লাগ করে বলল , “ প্রমিজ প্রতিম কাল টারকোয়েজ রঙের শার্টটা পড়ছো ?”

প্রমিত মিথের মুখের দিকে তাকাল । তারপর চোখের দিকে । প্রমিথ বুঝতে পারল তার ভিতরেও কি একটা সায় দিচ্ছে । মিথ এবার প্রতিমের হাতটা চেপে ধরল । প্রতিমও মিথের হাতটা চেপে ধরতেই । মিথ আরও একবার বলল ,“ প্রমিজ প্রতিম ।”
প্রতিম মিথকে কোথায় যেনো আবিষ্কার করে ছোট্ট করে বলল ,“ প্রমিজ । ”

প্রতিম কে সেদিন এমন পোষাকে দেখে সবাই অবাক হয়েছিল । মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছিল সবাই সবার দিকে । প্রতিমের বন্ধু থেকে মিথের বান্ধবীরা । মিথ কলেজ গেটে অপেক্ষা করছিল । প্রতিম তার প্রমিজ রেখেছে কি না । হ্যাঁ প্রতিম তাকে গুরুত্ব দিয়েছে । মিথও এই দু আঙুলের পোশাকি খেলাটা দীর্ঘদিন চালিয়ে যাবে ভেবে মনে মনে আনন্দ পেল । হ্যাঁ মিথ প্রতিমের স্মার্টনেস জীবনধারা ফিরিয়ে দিতে পেরেছিল । প্রতিমও তার শরীরের পোশাকি পরিবর্তনের মধ্যে অন্য এক প্রতিমকে খুঁজে পেয়েছিল ।

প্রতিম আবার গাছেদের বিয়ের স্বপ্ন দেখে । মিথও আসে তার স্বপ্নে । বসন্তের রঙধরা গাছে গাছে । কখনও ফুল হয়ে কখনো পাখি হয়ে । প্রতিমের স্বপ্ন , চোখ থেকে বুকের মধ্যে নড়েচড়ে । সে এখন পাগলের মত মাঝে মাঝেই একা একা বকে , চিৎকার করে বলে,“ প্রমিজ মিথ । ”

প্রতিমের এই পরিবর্তনে যে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছে সে হলো মিথ । প্রতিম না বদলালেও সবচেয়ে কষ্টটাও ধরা ছিল মিথের পাল্লায় ।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি হল অথর্ব আর ইডিয়েটদের দল। বর্তমানে এদের দেশ পরিচালানার করার কোন যোগ্যতা ই নেই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেয়াটা নিন্দনীয় কিন্ত তার বিচার হবে কিসে? রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায়?? রিমান্ডে নিয়ে?

চৈতালি চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সে আইন বুঝে। প্রায় প্রতিদিন জুলাই, আবু সাইদ, বাংলাদেশ সব কিছু সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×