somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেকি কথা......গল্প

১৩ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্পর্ক ব্যপারটা চিরকালই ধোঁয়াটে মনে হয়েছে আমার। সংসার মানেই সং সাজা, মা বলেছিলেন একবার। দিন যত গেলো ততই বুঝলাম বাক্যটির গভীরতা। ব্যাক্তিগত সবুজ যখন ধুসর হতে থাকে তখন রংধনু তেও আগ্রহ থাকেনা আর। যাহোক কোনোদিন ঘুড়ি উড়াইনি বলে একটা হতাশা এবং অহংকার সবসময়ই ছিলো আমার। হতাশা এইজন্যে যে, ছো্টোবেলায় এবং এখনো যখন কাউকে ঘুড়ি উড়াতে দেখি, যে নিবিষ্টতায় ঘুড়ির পাইলট উপরে তাকিয়ে থাকে সেরকম ভাবে আমি কখনোই উপরে তাকাতে পারিনি বলে। আর অহংকার কেননা মাঝেমধ্যে নিজেকে আনকোরা প্রমাণে আমার এই অনভিজ্ঞতা বিশেষ কাজে দেয় বলে। যেহেতু আমি সর্বোচ্চ পর্যায়ের অপটিমিস্টিক তাই সর্বদাই চেষ্টা থাকে হতাশা ঢেকে অহংকারের প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত করা। যথারীতি আজো যখন মেকি ভাবগাম্ভীর্যে আর হঠাৎ ছুড়ে দেওয়া কিছু অতিপ্রাকৃত প্রশ্নে যখন আড্ডা মশগুল তখনই দৃশ্যপটে অধরার আবির্ভাব। আমরা তখন আলোচনা করছিলাম আত্মার ভর আছে কিনা এবং থাকলেও তা মাপা যায় কিনা তা নিয়ে। প্রশ্নটি ছিলো আমারই উত্থাপিত। দেরিদার দর্শন নিয়ে কিছু মন্তব্য করে কিছুক্ষণ আগেই বেশ বাহবা পেয়েছি বলে আমি তখন ফর্মে।পুলকের প্রস্তাবিত আত্মার ভর মাপার একটি পদ্ধতির সমালোচনা করলাম আমি। সে চাইছিলো আগে থেকে মাপা একটি কাচের বাক্সে মৃতপ্রায় একটি মানুষকে মৃত্যু পর্যন্ত রেখে ভরের পার্থক্য নির্ণ্য করতে। কিন্তু আমি শ্বাস প্রশ্বাসের ফলে অক্সিজেন আর কার্বন ডাই অক্সাইডের রুপান্তরের ফলে ভরের পরিবর্তন নির্ণয়ের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরলাম। পুলক পরাভুত, অধরা ধরায় নেমে আসলো।

আমি রিক্সাতে ঘুরতে বেশি ভালোবাসতাম, ও গাড়িতে, আমি কবিতা ভালোবাসতাম, ও বুঝতো না, আমি বৃক্ষ ভালোবাসতাম ও বনসাই।
আমার জানা ছিলো ব্যবধান ব্যাপারটা ততক্ষণই কাম্য যতক্ষণ হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়। আমাদের ব্যবধান তাই আমাদের ঘনিষ্ঠতারই বহিঃপ্রকাশ ছিলো। মাঝে মাঝে ভাবতাম, এই পৃথিবীতো বটেই, মৃত্যুর পরেও যদি একসাথে থাকা যেতো। অধরার উত্তাপে আমি তখন পুড়ছি। আমি তখন আড্ডায় অনিয়মিত। আমরা শুধু পুড়ছি আর উড়ছি, উড়ছি আর পুড়ছি।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কতকিছুই বদলে যায়। এক সময় সন্ধ্যাকাশে হারকিউলিস দেখতে ভালোবাসতাম, এখন কালপুরুষ ভালো লাগে। এখন আমি আবার আড্ডায় নিয়মিত। সেদিন প্রসঙ্গ ছিলো ভালোবাসা ভেঙ্গে গেলে কি হৃদয় মরে যায়, নাকি আবারো ভালোবাসা যায়.........পুলক এবার বেশ সপ্রতিভ, আমি নিভু নিভু দৃষ্টিতে অন্ধকার খোঁজায় ব্যস্ত তখন।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×