somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইহা একটি রাজনৈতিক চিন্তাভাবনামূলক পোষ্ট- কিঞ্চিৎ ?+সহ

১৯ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ৮:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা এমন একটা দেশে বাস করি যেখানে রাজনীতি আর গরুর ভাগাড়ের মধ্যে বিশেষ কিছু পার্থক্য নাই। অবস্থা আরো ভয়াবহ এ কারণে যে আমরা সবাই এ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানি কিন্তু আমাদের করারও কিছু নাই। আমাদের দুটো দলকেই ক্রমাগত সাপোর্ট দিয়ে যেতে হবে কারণ বিকল্পহীন। যদি সবাই মিলে বিকল্প কিছু ভাবার চেষ্টাও করি তাতেও ফলোদয় অত্যন্ত কঠিন কারণ স্নায়ুযুদ্ধকালীন রাশিয়া আমেরিকার মতই আমরা কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না। এদেশের বিশাল একটা অংশ দুটো দলকে ভাগাভাগি করে সাপোর্ট করে, কিন্তু তাদের মধ্যেও বিশাল একটা অংশ এ দুটো দলের চরিত্র এতদিনে সমঝে গেছে। কিন্তু কি করা- আমরা এক এক জন এক দলকে অন্য দল অপেক্ষা তুলনামূলক ভাল মনে করে ভোট দেই। সবাই মিলে বিকল্প খোজার অনেক প্রতিবন্ধকতা।

প্রথম বাধা- অর্গানাইজ করবে কে? যেই করতে যাবে তাকে দুটো দল একসংগে ধোয়া শুরু করবে। তার নিজ চরিত্রে কলংক না পেলে তার বাপ দাদা চৌদ্দ গুষ্টি ধরে টান দেবে। স্বার্থের রাজনীতিতে স্বার্থ নিয়ে কোন রকম ঝুকি নেয়া যায় না। বেশী সমস্যা দেখলে ধরে নিয়ে এসে আচ্ছামত ডলা দেও। সব দেশপ্রেম নিচের ফুটা দিয়া হুশ কইরা বাইরাইয়া যাইবে।

দ্বিতীয় প্রতিবন্ধকতা- বিকল্প কে? এমন কোন ব্যক্তিত্ব বা দল কোথায়? জাতীয় পার্টি এই দুই দলের বিকল্প হতে পারে না। বামপন্থীরা বিকল্প চয়েস হতে পারত। কিন্তু তারা যতটা না দেশ নিয়ে ভাবে তার চেয়ে অনেক বেশী টেনশন তাদের ধর্ম নিয়ে। যেন এদেশের আশি ভাগেরও বেশী মুসলমানদের খৎনা করা স্থানে নতুন চামড়া লাগিয়ে দিতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যে দলগুলির থাকা উচিৎ ছিল মাটির আর মানুষের কাছাকাছি তারা মাটির সংগে সংস্রব ছেড়েছে বহুকাল হয়ে গেছে। উপরন্ত ধর্ম নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে মাটির মানুষদের শত্রু হিসাবেই নিজেদের চিহ্নিত করে রেখেছে। গোদের উপরে বিষফোড়া তাদের মধ্যকার অধিকাংশ বড় নেতারাই হতাশ হয়ে দুদলের কারো না কারো কাছে বিক্রি তো হয়ে গিয়েছেই- তাদের রাজনৈতিক কালচারও রপ্ত করে ফেলেছে। এ অবস্থায় আমরা কার কাছে যাব?

সুতরাং সেই পুরোনো নোংরা ঘাটাঘাটি ছাড়া উপায় কি?
কারো কাছে কোন সমাধান আছে?

তাই আমরা কোন একটা দলকে বেছে নিয়ে তার পক্ষ হয়ে কান্দাকাটি করি। কিছু কিছু অতি উৎসাহী সমর্থক অবশ্য এই কান্দাকাটিকেও একটা শিল্পে পরিণত করে ফেলেছে। ব্লগে এমন কিছু চরম সমর্থক আছে। তাদের কথা শুনলে মনে হয় তার সমর্থিত দলটি দুধ দিয়ে গোসল করে অতি পূত পবিত্র। তাদের কান্নাকাটির বহর দেখলে শের-এ-বাংলাকে নিয়ে সেই পুরোনো জোকটি মনে পড়ে। যদিও ঘটনাটা সত্য বলেই শুনেছি।

কোন একটা জনসভায় শের-এ-বাংলা একে ফজলুল হক চাষিদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। যুগ-যুগান্তর ধরে শোষকেরা, মহাজনেরা কিভাবে চাষিদের, খেটে খাওয়া মানুষ আর শ্রমিকদের ক্রমাগতভাবে বঞ্চিত করে এসেছে সেই অভূতপূর্ব আবেগমাখা কাহিনী শোনাচ্ছিলেন। স্বভাবতই আবেগপ্রবণ বাঙ্গালি জাতি সেই আবেগ সহজভাবে ধারণ করতে পারেনি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভেতরের আবেগসাগর উছলে উঠতে শুরু করল। আর চোখের ফুটা দিয়া প্রবল বর্ষণ ধারার মত গড়িয়ে তাদের বহিরাঙ্গকেও ভেজাতে শুরু করল। স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় যা হবার তাই হচ্ছিল। জনতা তাদের লুঙ্গির কাপড় তুলে চোখ মুছতে মুছতে সেই অমীয় বাণী শুনতে লাগল। অত বিশাল জনসভায় জনতাকূলের এই অবস্থা হলে বক্তৃতারত ব্যক্তি বিব্রত হতেই পারেন।

বক্তৃতারত শের-এ-বাংলাও হঠাৎ বিষয়টা খেয়াল করলেন। বক্তৃতা থামিয়ে তিনি একটু বিরতি নিলেন। তারপর সবার উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেন- "ভাইসব, আমি যা বলতেছি এইগুলা কান্দনেরই কথা। আপনেরা যে কানতেছেন হেইডাও ঠিক আছে। তয় আমি কই কি ভাইসব আপনেরা একটু বইসা বইসা কান্দেন।

ব্লগের চরম পার্টিজান ভাইজানেরা আপনাদের প্রতিও আমার বিশেষ অনুরোধ। আপনার দলের অনেক ভাল ভাল কর্ম আমরা জানি। আপনার আবেগের প্রতি আমরাও সহানুভূতিশীল। আপনেরা কানবেন এইটাই স্বাভাবিক।

তয় কতা একটাই, ভাইসব আপনেরা একটু বইসা বইসা কাইন্দেন।

এই পোষ্ট পইড়াও যদি কারো গায়ে ছ্যাকা লাগে তার প্রতিও একটাই অনুরোধ।

কান্দেন- তয় একটু বইসা বইসা কাইন্দেন।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×