আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা এমন একটা দেশে বাস করি যেখানে রাজনীতি আর গরুর ভাগাড়ের মধ্যে বিশেষ কিছু পার্থক্য নাই। অবস্থা আরো ভয়াবহ এ কারণে যে আমরা সবাই এ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানি কিন্তু আমাদের করারও কিছু নাই। আমাদের দুটো দলকেই ক্রমাগত সাপোর্ট দিয়ে যেতে হবে কারণ বিকল্পহীন। যদি সবাই মিলে বিকল্প কিছু ভাবার চেষ্টাও করি তাতেও ফলোদয় অত্যন্ত কঠিন কারণ স্নায়ুযুদ্ধকালীন রাশিয়া আমেরিকার মতই আমরা কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না। এদেশের বিশাল একটা অংশ দুটো দলকে ভাগাভাগি করে সাপোর্ট করে, কিন্তু তাদের মধ্যেও বিশাল একটা অংশ এ দুটো দলের চরিত্র এতদিনে সমঝে গেছে। কিন্তু কি করা- আমরা এক এক জন এক দলকে অন্য দল অপেক্ষা তুলনামূলক ভাল মনে করে ভোট দেই। সবাই মিলে বিকল্প খোজার অনেক প্রতিবন্ধকতা।
প্রথম বাধা- অর্গানাইজ করবে কে? যেই করতে যাবে তাকে দুটো দল একসংগে ধোয়া শুরু করবে। তার নিজ চরিত্রে কলংক না পেলে তার বাপ দাদা চৌদ্দ গুষ্টি ধরে টান দেবে। স্বার্থের রাজনীতিতে স্বার্থ নিয়ে কোন রকম ঝুকি নেয়া যায় না। বেশী সমস্যা দেখলে ধরে নিয়ে এসে আচ্ছামত ডলা দেও। সব দেশপ্রেম নিচের ফুটা দিয়া হুশ কইরা বাইরাইয়া যাইবে।
দ্বিতীয় প্রতিবন্ধকতা- বিকল্প কে? এমন কোন ব্যক্তিত্ব বা দল কোথায়? জাতীয় পার্টি এই দুই দলের বিকল্প হতে পারে না। বামপন্থীরা বিকল্প চয়েস হতে পারত। কিন্তু তারা যতটা না দেশ নিয়ে ভাবে তার চেয়ে অনেক বেশী টেনশন তাদের ধর্ম নিয়ে। যেন এদেশের আশি ভাগেরও বেশী মুসলমানদের খৎনা করা স্থানে নতুন চামড়া লাগিয়ে দিতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যে দলগুলির থাকা উচিৎ ছিল মাটির আর মানুষের কাছাকাছি তারা মাটির সংগে সংস্রব ছেড়েছে বহুকাল হয়ে গেছে। উপরন্ত ধর্ম নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে মাটির মানুষদের শত্রু হিসাবেই নিজেদের চিহ্নিত করে রেখেছে। গোদের উপরে বিষফোড়া তাদের মধ্যকার অধিকাংশ বড় নেতারাই হতাশ হয়ে দুদলের কারো না কারো কাছে বিক্রি তো হয়ে গিয়েছেই- তাদের রাজনৈতিক কালচারও রপ্ত করে ফেলেছে। এ অবস্থায় আমরা কার কাছে যাব?
সুতরাং সেই পুরোনো নোংরা ঘাটাঘাটি ছাড়া উপায় কি?
কারো কাছে কোন সমাধান আছে?
তাই আমরা কোন একটা দলকে বেছে নিয়ে তার পক্ষ হয়ে কান্দাকাটি করি। কিছু কিছু অতি উৎসাহী সমর্থক অবশ্য এই কান্দাকাটিকেও একটা শিল্পে পরিণত করে ফেলেছে। ব্লগে এমন কিছু চরম সমর্থক আছে। তাদের কথা শুনলে মনে হয় তার সমর্থিত দলটি দুধ দিয়ে গোসল করে অতি পূত পবিত্র। তাদের কান্নাকাটির বহর দেখলে শের-এ-বাংলাকে নিয়ে সেই পুরোনো জোকটি মনে পড়ে। যদিও ঘটনাটা সত্য বলেই শুনেছি।
কোন একটা জনসভায় শের-এ-বাংলা একে ফজলুল হক চাষিদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। যুগ-যুগান্তর ধরে শোষকেরা, মহাজনেরা কিভাবে চাষিদের, খেটে খাওয়া মানুষ আর শ্রমিকদের ক্রমাগতভাবে বঞ্চিত করে এসেছে সেই অভূতপূর্ব আবেগমাখা কাহিনী শোনাচ্ছিলেন। স্বভাবতই আবেগপ্রবণ বাঙ্গালি জাতি সেই আবেগ সহজভাবে ধারণ করতে পারেনি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভেতরের আবেগসাগর উছলে উঠতে শুরু করল। আর চোখের ফুটা দিয়া প্রবল বর্ষণ ধারার মত গড়িয়ে তাদের বহিরাঙ্গকেও ভেজাতে শুরু করল। স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় যা হবার তাই হচ্ছিল। জনতা তাদের লুঙ্গির কাপড় তুলে চোখ মুছতে মুছতে সেই অমীয় বাণী শুনতে লাগল। অত বিশাল জনসভায় জনতাকূলের এই অবস্থা হলে বক্তৃতারত ব্যক্তি বিব্রত হতেই পারেন।
বক্তৃতারত শের-এ-বাংলাও হঠাৎ বিষয়টা খেয়াল করলেন। বক্তৃতা থামিয়ে তিনি একটু বিরতি নিলেন। তারপর সবার উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেন- "ভাইসব, আমি যা বলতেছি এইগুলা কান্দনেরই কথা। আপনেরা যে কানতেছেন হেইডাও ঠিক আছে। তয় আমি কই কি ভাইসব আপনেরা একটু বইসা বইসা কান্দেন।
ব্লগের চরম পার্টিজান ভাইজানেরা আপনাদের প্রতিও আমার বিশেষ অনুরোধ। আপনার দলের অনেক ভাল ভাল কর্ম আমরা জানি। আপনার আবেগের প্রতি আমরাও সহানুভূতিশীল। আপনেরা কানবেন এইটাই স্বাভাবিক।
তয় কতা একটাই, ভাইসব আপনেরা একটু বইসা বইসা কাইন্দেন।
এই পোষ্ট পইড়াও যদি কারো গায়ে ছ্যাকা লাগে তার প্রতিও একটাই অনুরোধ।
কান্দেন- তয় একটু বইসা বইসা কাইন্দেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


