somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেতনের সঙ্গে সংগতি নেই বাড়িভাড়ার

১৯ শে জুন, ২০১২ বিকাল ৫:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাড়িভাড়া এখন বেতনের সঙ্গে প্রায় পুরোটাই সংগতিহীন। বেতনের বড় অংশই চলে যায় বাড়িভাড়ায়। অথচ বেতন যে হারে বাড়ে, বাড়িভাড়া বাড়ে তার চেয়েও বেশি। এতে বাড়িভাড়ার সঙ্গে বেতনের অসংগতি কেবলই বাড়ছে।
কামরুল ইসলাম অর্থনৈতিক ক্যাডারের একজন সরকারি কর্মকর্তা। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল বেতন স্কেল ১১ হাজার। বাড়িভাড়া ঢাকার বাইরে মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ। ঢাকায় ন্যূনতম ৫৫ শতাংশ। ঢাকায় আমরা সাড়ে ছয় হাজার টাকা বাসাভাড়া পাই। এখন একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা এই টাকায় কীভাবে বাসাভাড়া পাবেন, কীভাবেই বা চলবেন?’
বর্তমানে সরকারি বেতনকাঠামো অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণীর একজন কর্মকর্তার মূল বেতন ১১ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তিনি বেতন পান ১৮ হাজার টাকা। প্রভিডেন্ট ফান্ড কাটলে বেতন এক হাজার টাকা কম। অথচ দুই কক্ষের একটি বাসা ভাড়া নিতে হলেও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাগে। এ কথা জানিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করার জন্যই সরকারের উচিত বাড়িভাড়ার লাগাম টেনে ধরা।
জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯ অনুযায়ী, স্বশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মকর্তার মূল বেতন পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত, তাঁরা বেতনের ৬৫ শতাংশ হারে ন্যূনতম দুই হাজার ৮০০ টাকা বাড়িভাড়া পান। আর যাঁদের মূল বেতন পাঁচ হাজার এক টাকা থেকে ১০ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত, তাঁরা ন্যূনতম তিন হাজার ৩০০ টাকা বাড়িভাড়া পান। যাঁদের মূল বেতন ১০ হাজার ৮০১ টাকা থেকে ২১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত, তাঁরা মূল বেতনের ৫৫ শতাংশ হারে ন্যূনতম ছয় হাজার ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া পান। আর ২১ হাজার ৬০১ টাকার ঊর্ধ্বে যাঁদের বেতন, তাঁরা ৫০ শতাংশ হারে ন্যূনতম ১১ হাজার ৯০০ টাকা বাড়িভাড়া পান। ব্যাংক ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান এবং বিচার বিভাগের কর্মকর্তারাও একইভাবে বেতন পান।
এই বেতনকাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সর্বোচ্চ বেতনধারী কর্মকর্তারা ১২ হাজার টাকার মতো বাড়িভাড়া পান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি যে বেতনকাঠামো, সেই টাকা দিয়ে কোনোভাবেই একজন সরকারি কর্মকর্তার ঢাকায় থাকা সম্ভব নয়। বিষয়টি রীতিমতো হাস্যকর।
ঢাকা ভাড়াটিয়া উন্নয়ন সোসাইটির মহাসচিব মাসুদ রানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের এই বেতনকাঠামো বিশ্লেষণ করলে এটি পরিষ্কার যে বাংলাদেশে দুর্নীতির একটি বড় কারণ রাজধানীর অতিরিক্ত বাসাভাড়া। সরকারি একজন কর্মকর্তা যে বেতন পান, তাঁর পক্ষে সেই টাকা দিয়ে একটি মোটামুটি মানের বাসা নিয়ে সৎভাবে জীবন যাপন করা সম্ভব নয়। কাজেই সরকারের উচিত বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করা।’
কেবল সরকারি কর্মকর্তাই নন, নির্ধারিত আয়ের সব চাকরিজীবীর একই সমস্যা। আয়ের বড় অংশই তাঁদের চলে যাচ্ছে বাসাভাড়ায়।
বেসরকারি একটি ব্যাংকে কাজ করেন রাইসুল ইসলাম। তিনি সব মিলিয়ে বেতন পান ৩০ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাড়িভাড়া পান ছয় হাজার টাকা। অথচ তাঁকে থাকতে হচ্ছে ১৪ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, ঢাকার বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে আমরা অনেক ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম।’
যাঁরা সমাজের দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখেন, সেই সাংবাদিকদের বাড়িভাড়ার অবস্থাও করুণ। সর্বশেষ সপ্তম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডের কাঠামো অনুযায়ী, একজন সাংবাদিকের ন্যূনতম বেতন ১৮ হাজার টাকা। বাড়িভাড়া হিসেবে পান পাঁচ হাজার টাকা। এই টাকায় ঢাকা শহরের কোথাও বাসাভাড়া পাওয়া অসম্ভব।
বেসরকারি সংস্থা নাগরিক সংহতির এক জরিপে বলা হয়েছে, রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ৫৭ শতাংশ মানুষকে আয়ের অর্ধেক খরচ করতে হচ্ছে বাড়িভাড়ার পেছনে।বেতনের সঙ্গে সংগতি নেই বাড়িভাড়ার
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×