somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চীন ভারতের ফাটা বাঁশে বাংলাদেশ আটকে যাবে নাতো?

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ৩ সেপ্টেম্বর নরেন্দ্র মোদীর ভিয়েতনাম সফরের সময়ই কিছুটা বুঝা গেছে ভারত ভিয়েতনামে নৌঘাঁটি স্থাপনের ফিকিরে আছে। হিন্দ মহাসাগর ও মালাক্কা প্রণালী হয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সাথে টেক্কা দিতে ভারতের জন্য ভিয়েতনামে ঘাঁটি স্থাপন করা জরুরী। ভিয়েতনাম ছাড়া ইন্দোচীনে ঘাঁটি করার মতো কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক স্থানের বিকল্প ভারতের সামনে নেই বলেই দেশটি ঝুঁকি নিয়ে চীনের সাথে অভিন্ন সীমান্তের অধিকারী কমিউনিস্ট ভাবাপন্ন ভিয়েতনামের দ্বারস্থ হয়েছে।
তবে ভারত যদি ভিয়েতনামে ঘাঁটি স্থাপনে এগিয়ে যায়, তবে তা চীনের জন্য বিরাট শিরঃপীড়ার বিষয় হয়ে যাবে। নিজের তলপেটের তলে বৈরি একটি সামরিক ঘাঁটি চীনকে মরিয়া হয়ে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে। আর সরাসরি যুদ্ধ না হলেও এই নৌঘাঁটিকে কেন্দ্র করে চীন-ভারত দ্বৈরথের ভরকেন্দ্র আর কোথাও নয়, চলে আসবে উত্তরপূর্ব ভারতে। চীন উত্তরপূর্ব ভারতের স্বাধীনতাকামীদের যেমন অকাতরে সাহায্য দেয়া শুরু করবে, তেমনি ভারতও চাইবে মরিয়া হয়ে তা ঠেকাতে।
এই সময়ে আসবে বাংলাদেশের কাজ। ভারত চাইবে স্বল্প সময়ে বেনাপোল থেকে তামাবিল হয়ে সোজা পথে সেনা সঞ্চালনা করতে। কারণ শিলিগুড়ি করিডোর ঘুরে সৈন্য সঞ্চালনায় ভারতের টাকা ও সবচেয়ে মহার্ঘ বস্তু সময়ের বিরাট অপচয় ঘটবে। মোটকথা, ভারতের পক্ষে ঘুরপথে যুদ্ধবিগ্রহ করা পোষাবে না। ফলে ভারত মরিয়া হয়েই বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সৈন্য সঞ্চালনা করতে চাইবে।
উত্তরপূর্ব ভারতের এই সম্ভাব্য গোলযোগে অপরিহার্য অংশ হলেও এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে চাইলেও 'প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড' টাইপের ছ্যাবলামি দেখানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে একটি পক্ষ নিতেই হবে। বাংলাদেশের নিরপেক্ষ হওয়াও সম্ভব হবেনা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি নিজের ভূখণ্ডে বিদেশী সৈন্য প্রবেশ না করতে দেয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর হয়, তবে তা প্রকারান্তরে চীনের পক্ষে যাবে। এটাই বাংলাদেশের সাথে চীনের মৈত্রীর অপরিহার্যতা।
আর বাংলাদেশ যদি এই সংঘাতে নিরপেক্ষতার নীতিও ঘোষণা করে, সঙ্গত কারণে তখনও এই দেশকে একটি সম্ভাব্য ভারতীয় সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। অর্থাৎ উত্তরপূর্ব ভারতে সংঘাতে বাংলাদেশ সরাসরি চীনের পক্ষে গেলেও যা, নিরপেক্ষ থাকলেও তা। এবং এই নিরপেক্ষতা শান্তির পথে নয়, বরং সমর শক্তির দ্বারা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি রাখতে হবে বাংলাকে।
আর এটাই সম্ভবত ফোর্সেস গোল ২০৩০ এর উদ্দেশ্য! দেশের উত্তর ও দক্ষিণে সমর শক্তি বাড়ানো, সংরক্ষিত বনভূমি, আর ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণের ঝক্কির তোয়াক্কা না করে স্ট্র্যাটেজিক লোকেশনে নতুন নতুন সেনা ছাউনি স্থাপন, দূরপাল্লার তোপ, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা স্থাপনের নতুন নতুন প্রয়াসের পেছনে হয়তো সমরবিদরা এটাই ভেবেছেন! একইভাবে এই সংঘাতের সময় আরোপিত সম্ভাব্য নৌ অবরোধ এড়িয়ে মালাক্কা প্রণালী পর্যন্ত পথ নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা রাখতে আনা হচ্ছে ডুবোজাহাজ, হাই এন্ডুরেন্স রণতরী, জঙ্গিবিমানসহ স্বতন্ত্র ন্যাভাল এয়ার উইং। অপরদিকে একই কারণে পশ্চিমবঙ্গের বদ্বীপ ও মোহনা এলাকায় নতুন নতুন স্থাপনা গড়ার কাজে হাত দিয়েছে ভারত।
যা লিখলাম, তা আমার বিচ্ছিন্ন কল্পনা নয়, বরং একটি সম্ভাব্যতার পিঠে আরেকটি নিশ্চিত সম্ভাব্যতার কথাই লিখেছি আমি। বাকিটা এলাহি ভরসা...!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৪
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×