somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফটোকপিম্যান

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শীট গুলো হাতে নিয়ে আমি বললাম,"কয় কপি দোস্ত?"

রুপকথা হাসল,"তোর জন্য যদি করিস,তাইলে দুই কপি! লাগবে তোর?"

ক্লাসনোটগুলো নেড়ে চেড়ে দেখলাম এবার,আমার ও লাগবে।কিন্তু এইগুলো ফটোকপি করে পড়ার বিলাসিতা আমার নেই।বন্ধুর মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে ল্যাপটপে পড়ব।কিন্তু সেই মধ্যবিত্ত তথ্যটুকু এই ধনীর দুলালিকে না দিলেও চলে।আমি বললাম,'লাগবে দোস্ত... দুই কপি করাবো তাইলে"

"আচ্ছা যা তাহলে,বিকালের মধ্যে দিলেই হবে"

আমি সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে ওর দিকে কিছুক্ষন চেয়ে বললাম,"আচ্ছা যাই তাহলে,বিকেলে তোদের দারোয়ানের কাছে দিয়ে আসব"

রুপকথা আমার চোখের চুপকথা বুঝেনি,বুঝলে অন্তত ৫০ টা টাকা জোর করে ধরিয়ে দিয়ে বলত এইটা আমার ফটোকপি বিল... ও হয়ত ভেবেছে টাকাটা নিতে আমি অপমানিত বোধ করব... অথচ ও জানেনা এই ফটোকপির টাকাটার জন্য আমি আমার জাভা মোবাইলের ১৭ মেগাবাইট ইন্টারনেট এক সপ্তাহ নিতে পারবো না,বিকালে দুই দিন নাস্তা খেতে পারবো না!!

রুপকথা কোন দিনই আমাকে বোঝার চেষ্টা করেনি,আর সেই জন্যই আমি ঈশ্বরের কাছে খানিকটা কৃতজ্ঞ।যদি বোঝার চেষ্টা করত,তাহলে আমাকে কখনোই তার বেস্ট ফ্রেন্ড বানাতো না।

এই পর্যন্ত ৩৩ জন তাদের ভালবাসা প্রকাশ করে রুপকথার রাজ্যে ঝাটার বাড়ী খেয়েছে,আমি হতাম ৩৫ নাম্বার... আমাকেও ঝাটাবাড়ি খেয়ে ভাগতে হত।রুপকথা কখনো বোঝেনি আমি ওকে ভালবাসি,কখনো বুঝবেও না।

ও আচ্ছা,বলা হয়নি... ৩৫ বললাম,কারন ৩৪ নাম্বার জন হল কামরুল,সে এখন রুপকথার বয়ফ্রেন্ড!!

আমি ফটোকপি করে ওদের দারোয়ানকে দিতে যাচ্ছিলাম কপিগুলো,এমন সময় রুপকথা জানালা দিয়ে চিৎকার দিল,'নাফি!! বাসায় আয়! "

দরজা খুলতেই বলল,"দোস্ত একটা ভুল করে ফেলসি!"

"কি ভুল??"

"হারুন স্যারের খাতাটা তো তোকে দিতেই ভুলে গেছি... ওটাও এক কপি লাগবে!"

"অ আচ্ছা..."

"তুই তো এখন আবার কষ্ট করতে পারবি না... থাক,রাতে নাহয় আমিই যাবো"

আমি মনে মনে না হেসে পারলাম না,সরাসরি বললেই হয়...আমি বললাম,"আচ্ছা তোর যেতে হবেনা,আমিই করে দিব!!ব্যাপার না!! "

''উফফ নাফি... ইউ আর সো কিউট" বলে রুপকথা খুব স্বাভাবিকভাবেই আমাকে জড়িয়ে ধরল,এইটা নতুন কিছুনা... রুপকথার খুশির প্রকাশ এভাবেই,কিন্তু এত নিজের এত কাছে রুপকথাকে পেলে আমার মাথা ঝিম ঝিম করে,নরম শরীরটাকে বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরার অস্থির রকমের একটা লোভ আমি আস্তে করে গোপন করি।আমি মুখে হাসি রেখে কপট রাগে বলি,"এই কুত্তি ছাড় তো!"

রাগ দেখে রুপকথা মজা পায়,"কেন??ছাড়বো না তোকে!"

"এতটা প্রশ্রয় সহ্য হবেনা তো!! "

এই কথা বলার পর রুপকথা আমাকে ছাড়লো,হাসি চেপে রেখে বলল,"খুব শেয়ানা হয়েছিস?তাই না?"

আমি ভেজা বিড়ালের মত তাকিয়ে থাকলাম,রুপকথা বলল,"তুই একটা বদ! আমার থেকে ১০০ হাত দূরে থাকবি!!"

আমি বললাম,"তোর গায়ে দুর্গন্ধ রে... এমনিতেই দূরে থাকতাম!"

রুপকথা এইবারে সত্যি সত্যি রাগ করে,তেড়ে এসে আমার চুল গুলো মুঠিতে নিয়ে বলে,"হারামী কুত্তা!!খুব কথা শিখেছিস , না??"

আমার ভাল লাগছিল... এই কপট ঝগড়ার তলে তলে যা আছে,সেইটাই পরম আস্বাদের বস্তু।এই ঝগড়া গুলোর জন্যই আমি ফটোকপিম্যান হয়ে থেকে যাই... পেইজের পর পেইজ ফটোকপি করে যাই এই কয়েকটা মুহুর্তের জন্যই।আমি জানি,মেয়েটা বন্ধুত্বের নাম দিয়ে আমাকে হয়তো ব্যবহার করছে,কিন্তু তার বিনিময়ে কিছু নির্ভেজাল বন্ধুত্বের সময় কাটাচ্ছি,এটাই আমার জন্য অনেক!

আমি জানি আমাদের রিলেশন সম্ভব নয়,রুপকথার উচিত ও না আমার মত ছন্নছাড়া কোন মধ্যবিত্ত ছেলেকে পছন্দ করা...আমার ও উচিত না ও কথা ভাবা,আগে পরে ফ্যামিলির দায়িত্ব নিতে হবে আমাকে,ছোট বোনটার বিয়ে দিতে হবে আমাকেই,অবসর নেয়া বৃদ্ধ পিতা আর কততুকু টেনে নেবে?

তবু এইসব সন্ধ্যে বেলায়... যখন রুপকথা ফোন করে বলে আমার মোবাইলে ২০ টা টাকা ভরে দিতে পা্রবি? আর আমি সেই টাকা ভরে দিয়ে এসে রুপকথার কথা চুপি চুপি ভাবি,এবং ঠিক সেই সময়ে আমার দেয়া টাকায় রুপকথা তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে মিষ্টি মিষ্টি প্রেমের কথা বলে,তখন কেন জানি... বুকের ভেতরে কোথায় যেন একটা অস্ফুট হাহাকার শুনতে পাই!!

এ সমাজে আসলে মধ্যবিত্ত হয়ে জন্মানোটা পাপ...আমরা কখনোই রুপকথাদের প্রেমিক হতে পারি না...

কখনো বেস্ট ফ্রেন্ড,কখনো শুধুই ফ্রেন্ড... এভারেজে ফটোকপিম্যান!!
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×