somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাল ফিতায় বাধা প্রেমের গল্প

১৬ ই জুন, ২০১৩ রাত ৮:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজনীতি আর ধর্ম নিয়ে আলোচনার শেষ নাই। আসুন একটা প্রেমের গল্প শুনি

চার বছর আগের ঘটনা।একদিন আমার অধঃস্তন এক কর্মী এসে বলল বিয়ে করবে। আমি বললাম: এতো সুসংবাদ। আগে বাড়ো।সে মুখ নীচে করে বসে থাকলো। কোন সমস্যা ?
: সে বিদেশী।
আমি গম্ভীর মুখে বললাম : কোন দেশী ?
: পাকিস্তানী।
আমি মোটামুটি রেগেই গেলাম।
:তুমি ঢাকা ভার্সিটি থেকে অসাধারন রেজাল্ট করা ছেলে।চাকরীতে নুতন।যা সিনসিয়ারিটি তাতে তুমি অনেকদুর যাবে।কেন এসব পাগলামি? এর আগে এরকম যে কয়টা বিয়ে হয়েছে তার কোনোটাই টিকেনি।আর এই বিয়ে করতে হলে তোমাকে আর কেউ না, স্বয়ং মহামান্য প্রেসিডেন্টের পারমিশন নিতে হবে।তাছাড়া আর কোন দেশ পেলে না ? পাকিস্তান ?? দেখা হল কিভাবে?
: সে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিল যাদের বাসায় তার বাসায় আমি টিউশনি করতাম।
:বেশ ভালো। মেয়ে'র বাবা মা জানে ?
: মা জানে। বাবা জানে না।
:পাকিস্তানে অনার কিলিং এর কথা শুনেছো ?আমি বললাম।(এ প্রসংগে আরেক গল্প পুনশ্চতে)
:না স্যার।
: যা পরিস্থিতি তাতে এ বিয়ের অনুমতি পেতে ২/৩ বছর লাগতে পারে।ততদিন ওয়েট করতে পারবে ?
: নো প্রবলেম স্যার।আপনি একটু ট্রাই করলেই হবে।
:হুমম। তোমাকে ভাবার সময় দিলাম। ২ মাস পর দেখা করবে।আমি ডিসিশন দিলাম।হাসিমুখে সে বিদায় হল।
দুমাস পর সে আবার হাজির। নাছোর বান্দা। বললাম দরখাস্তটা রেখে যাও। আমি আরো দুমাস সময় দিলাম। তারপর পাঠাবো।ততদিন পর্যন্ত চিন্তা ভাবনা করো।
কিছুদিন পর তার পোস্টিং হল ঢাকায়। ভাবলাম ক্ষমতার কেন্দ্রে যাচ্ছে। অনুমতি পেতে সুবিধা হবে। সে চলে গেল ।
মাঝে মাঝে তার সাথে দেখা হয়।
: কতদুর ?
: স্যার। বস কে জানাইসি।বলছে ওয়েট করতে।
আজ প্রায় চারবছর হল।তার বিয়ের বয়স অনেক আগেই পার হয়েছে। আর দরখাস্ত ? একধাপ ও পেরোয়নি।বংগভবন তো অনেক দুর।
তার বন্ধুদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। হু ইজ দিস গার্ল ?
সে মেয়েও বিশাল রেজাল্ট করে পিএইচডি করছে। তারও এক কথা। অন্য কোথাও বিয়ে করবে না।
এভাবে লাল ফিতায় বেধে আছে দুটি জীবন
পুনশ্চ:
অনার কিলিং নিয়ে এক পাকিস্তানী সহকর্মীর সাথে কথা বলছিলাম। সে জানালো তার বন্ধুর প্রেমে পড়েছিল পাকিস্তান সিনেটের এক প্রভাবশালী সদস্যের মেয়ে। পিতামাতা কে রাজি করাতে না পেরে সে পালিয়ে এক আইন সংক্রান্ত এনজিও'র কাছে আশ্রয় নেয়। সেখানে তার মা দেখা করতে যায়। মেয়ে কে না ফিরাতে পেরে সংগে যাওয়া দেহরক্ষীকে গুলির আদেশ দেন মা। দেহরক্ষী যে ঐ মেয়ে কে কোলে পিঠে মানুষ করছে, কোনা দ্বিধা ছাড়াই গুলি করে মেয়েটিকে মেরে ফেলে।
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×