somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন ছবি আঁকে

২৯ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৩:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বেয়াড়া ট্যাক্সি ড্রাইভার না শুনে না বুঝে গাড়ী চালিয়ে দিলো ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে। আকাশ গুম হয়ে বসে থাকে। এই ট্র্যাফিক জ্যামের ঢাকা শহরে একটা রাস্তা মিস্ করে গেলে সেখানে ফিরে যাওয়া কম ঝক্কির ব্যপার নয়। বিরক্তির আলগা একটা আস্তর আকাশের মুখে লেগে থাকে ট্যাক্সি থেকে নেমে বন্ধুর অফিসে ঢোকার সময়ও।

রিসেপশনের বিশাল খোলা জায়গাটার মাঝখানে তরুণ তরুণীদের একটা মাঝারি গোছের জটলা। পাশ দিয়ে এগিয়ে যাবার সময় হঠাৎই আকাশের চোখ আটকে যায়, পদক্ষেপ শ্লথ হয়ে আসে। তারপর দিক পরিবর্তন করে মৃদু পায়ে পরীর সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। বিস্ময়, কষ্ট, আনন্দ, অনিশ্চয়তা আর নির্লিপ্ততার বোধগুলো একে একে ফুটে উঠতে থাকে পরীর কপাল, চোখ, মুখ, ঠোঁট আর চিবুকের ভঙ্গীমায়। শেষে শুধুমাত্র অভিমানের তীব্র এক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকে আকাশের পানে। বলবার মত সঠিক শব্দমালা খুঁজে না পেয়ে আকাশ শুধু ইশারায় পরীকে আসতে বলে পা বাড়ায় অফিসের বাইরে। পাশাপাশি হাঁটতে থাকে দুজন। ব্যস্ত সড়কের মানুষ, গাড়ী, রিকশা পাশ কাটিয়ে চলে যায়। নিঃশব্দে হাঁটে ওরা। ফুটপাথের পাশে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে পরী, উচ্ছসিত। এই দ্যাখো… বেতফল। খেয়েছো কখনো তুমি? না বোধক মাথা নাড়ে আকাশ। এক থোকা বেতফল কিনে একটার খোসা ছাড়িয়ে বাড়িয়ে ধরে আকাশের মুখের সামনে। হা হা হেসে ওঠে আকাশ। পরীর হাতটা চেপে ধরে ফলটা মুখে নেয়। তারপর হাঁটতে থাকে। এক হাতে ধরা থাকে পরীর একটা হাত।

হঠাৎই ঘুমটা ভেঙ্গে যায় আকাশের। অন্ধকারে খোলা চোখের সামনে ভাসতে থাকে শেষ দৃশ্যটা। অজান্তেই পড়ে গভীর দীর্ঘশ্বাস। তারপর সুখের রেশটা শরীরে জড়িয়ে পড়ে থাকে একা বিছানায়। নির্ঘুম কেটে যায় বাকীটা রাত এই ভাবনায়… কতোদিন পর ধরা হলো ছেড়ে যাওয়া, ছেড়ে আসা হাতটা।

The Introduction
All about Pori & Akash
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগার নিমো'র আসল নাম নিমচাঁদ না?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



সামুর আগের মডূ জাদীদ ভাই আমাকে একবার বলেছিলেন ব্লগার নিমো'র আসল নাম নিমচাঁদ, তাঁর খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা মাঝে মাঝে পদ্মার পাড়ে ইলিশ খেতে যান। আর, গরুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাসালসুল (অনন্ত পশ্চাদগমন), প্রথম সৃষ্টি ও ‘আকল’: কুরআন-সুন্নাহর আলোকে একটি সতর্ক অনুসন্ধান

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭


ভূমিকা
সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের অন্যতম প্রাচীন প্রশ্ন হলো,সবকিছুর শুরু কোথায়? যদি প্রতিটি সৃষ্ট বস্তুর অস্তিত্বের জন্য তার আগে আরেকটি সৃষ্ট বস্তুর প্রয়োজন হয়, এবং সেই নির্ভরতার ধারা কখনো শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরিয়ম খাতুন জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৮



মরিয়ম খাতুন। মাত্র ১৯ বছরের একটি মেয়ে। ৭৫ বছরের বুইড়া পাঁঠা গাজী নজরুলের লালসার শিকার হয়ে জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে। শুধুমাত্র একটি ছোটখাটো চাকুরী সুপারিশের জন্য গিয়েছিল। তখনই ১৯... ...বাকিটুকু পড়ুন

⌛️ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫



প্রাচীন গ্রিক দর্শনের মহান পুরুষ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান বা "নিজেকে জানো" তত্ত্বটি মানুষের ভেতরের ঘৃণা, গোঁড়ামি এবং অজ্ঞানতা দূর করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সক্রেটিসের মতে, মানুষের সমস্ত নৈতিক স্খলন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো, পকেট খালি হলো সাধারণ মানুষের!

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩


জীবনটা আজকাল বড় অদ্ভুত নিয়মে চলছে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় এক রকম থাকে, আর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি দুনিয়াটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। গতকাল রাত বারোটা এক মিনিট থেকে জ্বালানি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×