এদেশে কোন কালে পুলিশের সুনাম ছিল বলে শুনিনি। পুলিশ ঘুষ খায় ,পুলিশ ছিনতাই দেখেও দেখে না ,পুলিশ সরকারি দলের নির্যাতনের হাতিয়ার,সন্ত্রাসীদের সাথে তাদের দহরম-মহরম ... ইত্যাদি হাজার অভিযোগ জনগণের । আমরা আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জানি এসব অভিযোগ সব মিথ্যা নয় । ভাল পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চয় ই আছেন ,তবে তারা অমবশ্যার চাঁদের মতই দুর্লভ ।
লাদেন সাহেব মারা যাওয়ায় সামনের কদিন পত্রিকাগুলোর সামনের পাতা কি দিয়ে ভরবে সে চিন্তা নেই। পাতাজুড়ে এডের ফাকে সংবাদ থাকে এখন ।আজকে লাদেনময় প্রথম পাতায় একটি সংবাদ দেখে চোখ আটকালো । ঘটনার নায়ক/ খলনায়ক পুলিশ । না তারা দুর্ধর্ষ কোন ডাকাত দলকে পাকড়াও করেননি । তার বদলে নিজেরাই হয়ে গেছেন ডাকাত । দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে আটজন সাদা পোশাকের পুলিশ মাইক্রোবাস ভাড়া করে সফল ডাকাতি করেন । কিন্তু বিধি বাম । লোকের চিৎকার চেঁচামেচিতে গ্রামবাসী তাদের ধাওয়া করে ।তারা ধরা খান এবং বেদম মার খান । তাদের উদ্ধার করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে জেলা প্রশাসক আর থানা নির্বাহী কর্মকর্তার । শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা র্যা বের হেফাজতে দিনাজপুর মেডিকেল হাসপাতালে চিকিতসাধীন ।
বাল্যকালে পড়েছিলাম , চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পরে ধরা । তারা আগেও হয়তো ডাকাতি করছেন । চোর ডাকাত দের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে এই বাজারে সম্ভবত পোষাচ্ছিল না তাদের । অথবা কোন ডাকাতের সাথে বাজি ধরেছিলেন তারা ,তাদের থেকে ভাল ডাকাতি করে দেখিয়ে দিবেন ডাকাতি কাকে বলে। ঘটনা যাই থাক ব্যাপার হল তারা ধরা পরে গেছেন । তাও হাতেনাতে । এলাকা উত্তাল । লোকজন ভাংচুর করছে । বিক্ষোভ দেখাচ্ছে ।
প্রশ্ন হল আদৌ কি তাদের শাস্তি হবে ? দেশের প্রেক্ষাপটে আমারা জানি পুলিশ যত বড় অন্যায় ই করুক তার তেমন শাস্তি হয়না। কদিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয় । এতে উপর মহলের টাকা খাওয়ার সুযোগ হয় । সময়ে তার সাসপেনসন বাতিল হয়। দোষী কর্মকর্তা আবার স্বপদে অন্য জায়গায় বদলি হন ।
এবার ও তার ব্যতিক্রম হয়তো হবে না । মানুষ কিছুদিন মনে রাখবে । পত্রিকায় কদিন থাকবে । তারপর সবাই ভুলে যাবে ।আবার যেই কে সেই ।
প্রতিকারহীন আর কত থাকবো ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



