somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দরকার হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করা

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোরিয়ার পর সমগ্র পৃথিবীতে একমাত্র বাংলাদেশেই নৃতাত্বিক পর্যায়ে জনগণের মাঝে সমরুপতা পরিলক্ষিত হয়।কারণ,এদেশের জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯৮% ভাগ হলো বাংলাভাষী বাঙালী।কিন্তু তার পরেও সমাজবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এখানে কাজ করে।জাতিগতভাবে আমরা কার্যত বিভক্তির চরম পর্যায়ে।জাতীয় ঐক্য বলতে যে জিনিষটা আছে তা আমাদের দেশে নেই বললেই চলে।স্বাধীন বাংলাদেশের শুরুতেই গর্বিত সেনাবাহিনী নিয়ে নানামুখী প্রচারণা অব্যাহত ছিল এক ঘরাণার লোকদের কাছ থেকে।বাংলাদেশকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড বানানোর স্বপ্নে বিভোর ঐ শ্রেণি সেনাবাহিনী উচ্ছেদের কথা বলে আসছে শুরু থেকেই।তাদের যুক্তি হচ্ছে নিতান্ত দরিদ্র এই দেশের পক্ষে সেনাবাহিনীর ভরণ-পোষণ করা সম্ভব নয়।কথার পক্ষে যুক্তি চাতুর্যপূর্ণ যুক্তি আছে সন্দেহ নাই- কিন্তু বাংলাদেশের ভৌগলিক বাস্তবতা কি তাই বলে?

যদি বিদেশী কোন শক্তিশালী রাষ্ট্রের পরোক্ষ ইন্টেলিজেন্স তৎপরতা বা পরোক্ষ হস্তক্ষেপে সশস্ত্র বাহিনী সংকোচন বা বিলোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তবে তা কোন মতেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং পৃথিবীর ইতিহাসে কোন স্বাধীনচেতা জাতিই তা গ্রহণীয় বলে মেনে নেয়নি।
১৯ মার্চ ১৯৭২ সালে শেখ মুজিব-ইন্ধিরা গান্ধীর মধ্যে ২৫ বছর মেয়াদী গোপন যে ৭ দফা চুক্তি হয় তার ৪ ও ৫ দফায় উল্লেখ ছিল-বাংলাদেশের কোন নিজস্ব সেনাবাহিনী থাকবে না ও অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মুক্তিবাহিনীকে কেন্দ্র করে একটি প্যারামিলিশিয়া বাহিনী গঠন করা হবে।হুমায়ূন রশিদ চৌধুরীর সাক্ষাতকারসহ এর বিস্তারিত উল্লেখ করেন মাসুদুল হক তার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে র ও সি আই এ গ্রন্থে।

ভারতীয় সমর বিশারদ সুব্রানিয়াম স্বামীর স্বাক্ষাতকারের একটি অংশ হতে বুঝা যায় বাংলাদেশকে ভারত কিভাবে দেখতে চায়।তিনি বলেন- '' Its existence constitutes a week point in Indian security in the strategic north east region. Should events in Assam and the other tribal states in that region, or in neighbouring Burma, cause deterioration in India's control of the area,Bangladesh proximity would be a critical factor.'

১৯৭৬ সালে ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশ সীমান্তে ১৩১৬ বার হামলা চালায়।আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এসব হামলা বীর বিক্রমে মোকাবিলা করে।কাদেরিয়া বাহিনীর ২৫ হাজার সৈন্য ভারতীয় বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় সীমান্তে নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালিয়েছিল।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত নেহেরুর স্বপ্ন ছিল অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠা।যা হবে সুদূর আফ্রিকা হতে ইন্দোচীন পর্যন্ত।এ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য ছিল- There are many advanced,highly cultured countries,but if you peep into the future and of nothing goes wrong,wars and the like,the obvious fourth country in the world is India.

তাহলে দেখা যাচ্ছে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ বাংলাদেশকে কব্জা করতে বেসামরিকিকরণ করাটা তাদের জন্য খুবই জরুরি।আর এতে তারা কাজে লাগাচ্ছে তার স্বার্থের শিখন্ডী এদেশের কতিপয় পা-চাটা বুদ্ধিজীবিকে।একটা বিষয় খেয়াল করলে দেখা যায় তারা সেনাবাহিনীর যতটা সমালোচনা করে এর কিঞ্ছিতভাগও রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধে করেনা।

২০০৯ এর নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীপুত্র জয়ের একটা গবেষণা প্রকাশিত হয় কার্ল সিওভাক্কোর সাথে।এ গবেষণায় বলা হয় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে মৌলবাদিদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।মাদ্রাসার ছাত্ররা সেনাবাহিনীতে ব্যাপকহারে ঢুকে যাচ্ছে।এর কিছিদিন পরেই ঘটে ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকান্ড।




১/১১ র সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান দিপক কাপুর জেনারেল মইনকে ৬ টি ঘোড়া উপহার দেন।সমরক্ষেত্রে ঘোড়ার আলাদা তাতপর্য রয়েছে।এ ঘোড়ার বাচ্ছাগুলোই কি পরবর্তিতে ট্রয়ের সেই ট্রোজান হর্সের মতো কোন কান্ড ঘটিয়েছিল তা একদিন হয়ত জানা যাবে বিস্তারিত।মইন কিছুটা খোলাসা করেছেন তার শান্তির স্বপ্নে বইয়ে।

৫৭ সেনাসহ ৭৩ হত্যাকান্ডের মাধ্যমে অনেকটা সফল ঐ গোষ্ঠী।ভারতীয় পত্র-পত্রিকার বয়ান থেকে জানা যায় ঐদিন নাকি ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রস্তুত ছিল।কেন প্রস্তুত ছিল তার উত্তরও সময়ের ব্যবধানে হয়ত দালিলিক আকারে পাওয়া যেতে পারে একদিন।
দরকার হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করা।সেনা পরিবারের অনেকে এ দাবি করেছেন।

তথ্য সহায়কঃ
১।Syed Anwar Hussain,Ethnicity & Security of small states, p 45
২। জাতীয় নিরাপত্তা,রণনীতি ও সশস্ত্রবাহিনী- আবু রুশদ।
৩। কথামালার রাজনীতি- রেজোয়ান সিদ্দিকী।
৪। ইনসাইড র - অশোক রায়না।
৫।ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া- জহরলাল নেহেরু।
৬।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে র ও সি আই এ - মাসুদুল হক।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:০৯
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×