বেড়ানো পছন্দ সবারই। আমিও ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু সময় সুয়োগ আর অর্থ না হলে বেড়ানো সম্ভব হয়ে উঠে না। আমার জীবনে সিলেট বেড়ানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করবো। শীত চলে গেছে। শীতের সময়ের কথা এখন গরমের সময় বলার জন্য চাইনি। কিন্তু আমার এক ভাইয়ার অনুরোধে তা লিখছি সকল ব্লগের সেই ভাইয়ার সৌজন্যে।
বাদুড় ছাড়া আর কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর ওড়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু আমাদের দেশেই বহুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল উড়ন্ত কাঠবিড়ালি আছে। শুধু অনুমানে বলা হলেও এবারই প্রথম এর দেখা মিলল সিলেট বিভাগের শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া ও চুনারুঘাটের রেমা-ক্যালেঙ্গায়। বাংলাদেশের সবচেয়ে রহস্যময় এই চিরসবুজ বনে গত মাসে বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষক সানিয়া রাহুল এই উড়ন্ত কাঠবিড়ালিকে শনাক্ত করেন। উড়ন্ত কাঠবিড়ালি চলাচলের সময় উড়ে যায় বলে মনে হলেও এরা সত্যিকার অর্থে ওড়ে না। এদের হাত ও পায়ের সঙ্গে শরীরের পাশ থেকে বের হয়ে আসা এক ধরনের চামড়া সংযুক্ত থাকে, যাদের বলা হয় প্যারাসুট। এই কাঠবিড়ালি প্রজাতিটির চলাফেরা অন্য সাধারণ কাঠবিড়ালির চেয়ে আলাদা। এরা এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে যাওয়ার সময় অনেকক্ষণ বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। আর তা দেখে মনে হবে এরা আসলে উড়ে উড়েই চলাফেরা করে। বিশ্রামের সময় এই প্যারাসুট দৃষ্টিগোচর হয় না। তাদের স্থিতিস্থাপক গুণের কারণে এ প্যারাসুটটি শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে। আমাদের দেশে মোট আট জাতের কাঠবিড়ালি আছে বলে বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষকরা ধারণা করেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ডোরা কাঠবিড়ালি। আর সবচেয়ে কম দেখা যায় উড়ন্ত কাঠবিড়ালি নিশাচর প্রজাতির এই স্তন্যপায়ীরা সন্ধ্যায় আশ্রস্থল থেকে খাবারের খোঁজে বের হয় আর ভোর হওয়ার আগেই ফিরে আসে। ফলে সহসা এদের চোখে পড়ে না। দেশে হাতেগোনা দু’চারটি বনে এদের অস্তিত্ব আছে বলে ধারণা করা হয়। খুব অল্প সংখ্যায় চট্টগ্রামের চিরসবুজ বনে আছে এরা। কাঠবিড়ালি সাধারণত গাছের ফলমুল, বাদাম, বাকল, বাকলের নিচের পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করে। সব প্রজাতির কাঠবিড়ালিই জোড়ায় জোড়ায় থাকতে পছন্দ করে। এরা পাতা, খড়কুটো, শৈবাল ও অন্যান্য নরম উপকরণ দিয়ে তৈরি গাছের গর্তে অথবা মগডালে অগোছালো বাসা বানায়। বাসা নিরাপদ মনে হলে একই জায়গায় বারবার বাসা করে, যা তারা শুধু প্রজননের জন্য নয়, ঘুমানোর জন্যও ব্যবহার করে। প্রজনন ঋতুতে মেয়ে কাঠবিড়ালি দুই থেকে চারটি অল্পব্দ বাচ্চা প্রসব করে। রেমা-ক্যালেঙ্গা ছাড়া লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে উড়ন্ত কাঠবিড়ালির দেখা পাওয়া শুধু বন্যপ্রাণীর তালিকাকেই সমৃদ্ধ করেনিÑ এদেশে যে এখনো দু’একটি সমৃদ্ধ বন আছে তারও প্রমাণ মিলল। আর এ বনগুলোকে রক্ষা করা না গেলে উড়ন্ত কাঠবিড়ালির মতো একটি মূল্যবান প্রজাতি এ দেশে আর নাও দেখা যেতে পারে।
উড়ন্ত কাঠবিড়ালির সন্ধান ঃ দিলরুবা সুলতানা পপি
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।