somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিনলিপি---২

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেসবুকের বদৌলতে অনেক পুরানো ফ্রেন্ডদের কে খুঁজে পাচ্ছি।জিনিষটা আমার কাছে অনেক ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে।ফেসবুকটা আগে আমার মোটেও ভাল লাগতো না আর এখন ফেসবুকে প্রতিদিন না গেলে ভালই লাগে না...:) এইখানে আমার স্কুল কলেজের ফেলে আসা জানের দোস্ত গুলোকে খুঁজে পেয়েছি,কি মজা। এখন প্রায়ই তাদের সাথে কথা হয়,যোগাযোগ হয়। বিয়ের পরে সব বন্ধু বান্ধবীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলাম।জিনিষটা ঠিক করিনি।

আমার নার্সারীর সবচেয়ে বেস্ট যে ফ্রেন্ড ছিল নিগার তাকে আমি ১৮ বছর পরে এই ফেসবুকে পেলাম...অদ্ভুত একটা অনুভূতি এই ফিরে পাওয়াটা।১২ বছর পরে পেলাম পল্লবী,খনা,রুনু,শোভন, রোমিও,কাশফি,সাবরিনা,তওফিক,সাদী এদের কে....:)
কি যে ভাল লাগে এখন আমার।কিন্তু আমি তাদের কাছ থেকে এত দূরে থাকি যে নেট ছাড়া তাদের সাথে আমার কথাই হয়না দেখা হওয়া তো দূরের কথা।সবার বিয়ে হয়ে গেছে বাচ্চাকাচ্চাও আছে ১টা ২ টা করে।ঘরসংসার নিয়ে সবাই ব্যস্ত এখন।কারো কাছেই সময় নাই।আগের সেই জানের দোস্ত ভাবটা এখন আর কারো মাঝে আমি অবশিষ্ট দেখি না।আমি যতটা আপন মনে করে সবার সাথে কথা বললাম,তাদের কথায় সেটা অনুভব করলাম না।যাইহোক সময়ের সাথে সাথে সব কিছুরই পরিবর্তন হয়।খালি আমার মনে হয় পরিবর্তনটা কম হয়েছে।আমি চাইনা আমার মনের কোনো পরিবর্তন হোক,আমি যেমন আছি তেমনই ভাল আছি।সবাই যদি বদলে যায় তাহলে হবে কিভাবে।

কালকে জামিল নেটে আসেনি,মনটা অনেক খারাপ লাগছিল তাই ফোন করলাম তাকে।এত দূর থেকে ফোনে কথা বলে পোষায় না।সময় গুনে কি আর মন ভরে কথা বলা যায়।তখন বাংলাদেশে রাত ২ টা হবে।ঘুমিয়ে গেছে কিনা এইসব চিন্তা করতে করতে ফোন করলাম।দেখি রিং হয়,কিন্তু ধরলো না...:( তারপরে আবার করলাম,দেখি ফোন বিজি।মেজাজটা যা বিগড়ালো না।ঠিক করলাম আজকে যত রাতই হোক কথা বলেই ছাড়বো।এইভেবে কিছুক্ষণ পরে আবার ফোন করলাম,রিং হলো এইবার সে ফোন ধরলো।বললাম কি ডিস্টার্ব করলাম নাতো...;) ঘুমিয়ে গেছিলে নাকি,সে বলে আরে না।আমিও বলি হমম দেখলাম ফোন বিজি ছিল।হেসে বলে হ্যা আমি ভাইয়ার সাথে কথা বলছিলাম।আমি তো কত কি ভেবে বসে ছিলাম...:) পরে বললাম নেটে আজকে আসলে না যে,বলে শরীরটা ভাল লাগছিল না,মনটাও দুর্বল লাগছে।এখন আমি নামাজ পরবো,বললাম আমার মতই নাকি তুমি, মন দুর্বল হলে বা মন খারাপ লাগলে নামাজ পড়ো।বলে না আমি নামাজ পড়ার চেষ্টা করি প্রায়ই কিন্তু সব সময় হয় না পড়া, আজকে পড়বো।তারপরে আরো কতগুলো সুন্দর কথা বললো,যে গুলো আমি শুনে এতটাই আবেগাপ্লুত হয়ে গেছিলাম যে মনেই রাখতে পারিনি কথাগুলো....:( আকাশ বাতাস নিয়ে কথা বলছিল অনেক সুন্দর করে। পরে আমি বললাম যে কালকে থেকে আমার অনেক মন খারাপ,বেচারা আবার আমার মন খারাপ শুনলে কষ্ট পায়,বলে যে কেন মন খারাপ।বললাম কারণ জানি না,মনে হয় বিষন্নতা।বলে তোমাকে অনেক অনেক হাগস দিলাম...তুমি মন খারাপ করে থাকবে না একদম,আমার তাহলে ভাল লাগে না।তারপরে বেশী কথা বলা গেল না টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছিল ফোনের।সে বললো অনেক অনেক ভাল থাকবে সব সময়,আমি বললাম তোমাকে অনেক অনেক কিস।সে হেসে উঠলো তারপরে বললো দিওনা দিওনা পরে খারাপ লাগবে।আমি চমকে উঠে বললাম কেন তোমার কি বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে,সে বলে না তা না তবে তোমার খারাপ লাগবে পরে।আমি বললাম খারাপ তো এখনি লাগে সত্যি সত্যি কিস দিতে পারি না বলে,কিন্তু তারপরেও এইটাই যে দিতে পারছি তাতেই আমি অনেক খুশি। আল্লাহ যে এতটুকুই দিচ্ছে তাই এখন আমার কাছে অনেক,এইটার আশাও আমি করিনি কখনো।বললাম নামাজ পড়ে আমার জনয় দোয়া করবে,সে বলে তুমি আমার জন্য বেশী বেশী দোয়া করবে,বললাম আমি তোমার জন্য সব সময় মনের ভেতর থেকে দোয়া করি আর করবো।তারপরে কথা শেষ হয়ে গেল।দেখি আজকে নেটে আসলে আবার কথা হবে সেই আশায় আছি এখন।

অনেক বেলা হয়ে গেল প্রায় দেড়টা...যাই গোসল করে কিছু কাজ কাম করি।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:০৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×