হু হু করে হাওয়া বইছে। ফাগুন হাওয়া। নির্জন চারদিক। মাঠে আমরা দুজন। সন্ধা আযান হয়ে গেছে। গতকাল ছিল পূণীমা। খুব কাছ থেকে মাঝে মাঝেই উকি দিয়ে দেখেছিলাম উনিশ বছরের সবচেয়ে কাছে আসা চাঁদটাকে। সেই লোভেই আজ দুজন মাঠে পায়চারি করছি। কোমল বাতাশ। হুমায়ুন আহম্মদ একেই কি মাতাল হাওয়া বলেছেন? হতে পারে। উনিশ বছর কথাটার মাঝে কেমন জানি একটু শিহরন জাগানিয়া ব্যাপার আছে। তার পর "টি" পাওয়া যাবে কিন্তু" টিন" এর এখানেই শেষ।
কিন্তু আজ একপলকের জন্যও চাঁদের দেখা পেলাম না। আগ্রহের পরিসমাপ্তি মাঝে মাঝে এভাবেই ঘটে। চাঁদ দেখার মতো এত সহজ ব্যাপার যখন খামখেয়ালি করে মেজাজটা কেমন লাগে? রাগের প্রধান আর একটা কারনও আছে। আমার এক বন্ধু একটা এস এল আর ক্যামেরা কিনেছে। মাঝে মাঝে কাধে ব্যাগ ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আমাদের সামনে এনে মাঝে মাঝেই খুলে টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে। আমাদের মাঝে কেউ কেউ যে এক দুবার ধরতে চায় নি তা না। কিন্তু এমন এক খান ভাব দিয়ে তাকায় আমি নিজেও ভাবি কি দরকার তার এটা ধরার। কিন্তু ক্রিক ক্রিক করে যাখন ছবি তুলে তখন আমার আঙ্গুল নিশপিশ করে। কিন্তু কিছু বলিনা। বলি কি করে সে তো মাঝে মাঝে আমাদেরও দু একটা ছবি উঠায়।
আর তাচ্ছিল্য করে বলে এই সব টপিকে ছবি উঠানো যা নাকি? আমরা অবাক হয়ে তাকাই।
সেই মহামুল্যবান ক্যামেরাটা আজ ধার করে( অনেকটা জোর করে) নিয়ে আসছি। আজ চাদের ছবি উঠাব। গতাকাল ব্লগে দেখলাম কত ছবি উঠাইছে...। আকাশের দিকে এক চুখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঘাড়ে ব্যাথা শুরু হয়ে যাচ্ছে। আমার এই ব্যথা চাঁদের কাছে কোন পাত্তাই যেন নাই। আবার ভয়ে ভয়ে আছি কখন যানি এসে বলে ক্যামেরাটা দে অনেক্ষন তোর কাছে। সেই জন্য মাঠের প্রবেশ পথে আর একখান চোখ রাখতে হচ্ছে।
রাত যখন নয়টা । মোবাইল বাজছে। বাতাশ আরো মাতাল হচ্ছে। চার দিকে আরো অলো কমে আসছে। আর আমিও নিরাশ হয়ে মনের আনন্দে ক্যামেরাটা কাধে ঝুলিয়ে একটা প্রফেসনাল ফটোগ্রাফারের ভাব নিয়ে বাসায় ফিরলাম[

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


