আমি কি আবার অাস্তিক হয়ে যেতে পারি?
এই ব্যপারে আমার একটি ছোট গল্প আছে। তার আগে দুটি সাধারন দুটি অভিজ্ঞতার কথা বলে নেই।
কথা বলতে বলতে অনেকেই প্রশ্ন করে বসেন, আপনি কি নাস্তিক? আপনি কি ঈশ্বর বিশ্বাস করেন না? এসব অহরহই শুনে আসছি, কখনো উত্তর দেই । বেশির ভাগ সময়ই একটা হাসি দিয়ে অন্য প্রসঙ্গে চলে যাই। যিনি প্রথমবার একজন নাস্তিকের সাথে আপলাপ করছে, তিনি এতটাই বিশ্বিত হন যে একজন মানুষ কি করে নাস্তিক হয়? হয়তো মঙ্গল গ্রহের একটি প্রাণীর সাথে তার দেখা হলেও এতটা অবাক হতেন কিনা সন্দেহ। এই অবস্থায় যুক্তি দিতে যাওয়ার প্রশ্নই আসেনা।
কিন্তু যারা কিছুটা নাস্তিকতার সাথে কিছুটা পরিচিত তারাও নানা ধরনের বাহাস করেন। গত কয়েক দিন আগে আমার রুমে বসে গল্প করছেন একজন ইংরেজী সাহিত্যের লেকচারার। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে পাশ করা। এক পর্যায়ে তিনিও একই প্রশ্ন করেছেন। এবং আমি হেসে উত্তর দিলাম জী আমি নাস্তিক। তিনি আমার দিকে অবজ্ঞা ভরে একটা চাহনি দিয়ে বললেন আপন কি ভাবছেন এসব করে করে আরজ আলী মাতুব্বর হয়ে যাবেন? হুমায়ুন আজাদ হয়ে যাবেন?
আমি চরম বিরক্ত হলেও কিছু বললামনা। শুধু একটা প্রশ্ন করলাম একটা মানুষের জীবনে কেন ঈশ্বরের প্রয়োজন?
তার পর ভুজুং ভাজুং.... শেষে বলে আমি জানি নিস্তিকেরা অনেক যুক্তি দিতে জানে।
কি ভাবে জানেন?
কারন তারা নাস্তিক।
এখন আর ধর্মনিয়ে সময় নষ্ট করার মতো কিছু দেখিনা। কেউ যদি বিনোদন হিসেবে করে তবে বলার কিছু নেই। ব্লগেও ধর্ম নিয়ে কথা হয়। অধর্ম নিয়েও হয়। কিন্তু খুব একটা উৎসাহ পাইনা। সেই তো একই ব্যপার, একই যুক্তি।(এই উৎসাহ না পাওয়া টা আমার জানাশুনোর দৈন্যতা থেকেও হতেপারে।)
আরো একটি সাধারন কথা প্রায়ই শুনতে হয়, উমুক ব্যাক্তি কট্টর নাস্তিক ছিল এখন পাঁচ ওয়াক্তি নামাজ পড়ে। এরকম কত গল্পই চালু আছে। এখন তো রক্ত গড়ম একসময় ঠিক হয়ে যাবে। যৌবনে এমন কথা অনেকেই বলে।
এখন কথা হলো আমি কি আবার আস্তিক হয়ে যেতে পারি? হয়তো পারি। হয়তো আমি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়তে পারি। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর একই সাথে হ্যা এবং না। আমি স্বীকার করে নেই যে আপনি যদি আমাকে বোঝাতে সমর্থ হন ধর্মের যৌক্তিকতা আছে অথবা আমার জন্য ঈশ্বের আদৌ প্রয়োজন আছে তবে আমি আবার আস্তিক হয়েও যেতে পারি। তবে যত দিন তা করতে সমর্থ হবেন না ততদিন নাস্তিকই থাকবো।
একটা চিন্তা আমার মাথায় সব সময় থাকে। ধরা যাক একটা শিশু তেলাপোকাকে খুব ভয় পায়। তার মা বাবা তাকে খাওয়াতে, ঘুমাতে, কান্নাকাটি থামাতে তেলাপোকার ভয় দেখান। এবং হাতে নাতে উপকার পাচ্ছেন। শিশুটি তেলাপোকার নাম শুনলেই শান্ত হয়ে যায়। শিশুটির বাবা মা তেলাপোকার উপর মহা খুশি। যে শিশুকে কোন ভাবেই বাগে আনা যায়না অথচ তেলাপোকার বিভিষিকা দেখিয়ে তাকে সবই করানো সম্ভব হলো।
শিশুটি কিশোর হলো, কিশোর যুবক হলো। তার তেলাপোকা ভয়টিও কেটে গেল। স্কুল থাকতেই প্রেকটিকেল ক্লাসে অনেক কাটা ছেড়াও করেছে। সে জেনে গেছে, তেলাপোকা আসলে কোন ভয়ের প্রাণীই নয়। এরকম ভিতু আর লাজুক প্রাণী আর হয়না। যে অন্ধকার ছাড়া থাকতেই পারেনা, কামড়ানো তো দূরের কথা । কলেজে পড়ার সময় তেলাপোকা ভয় পাওয়ার তো কোন কারনই নেই। তো একসময়ের শিশু এখন যুবক। একসময়ের তেলাপোকা ভিতু এখন অনেক নির্ভিক কাজের দ্বায়িত্বে।
তার মা বাবা, ভাই বোন সবাই মিলে কি আর তেলাপোকা বিভিষিকা হিসেবে চালাতে পারবে? নিশ্চয় পারবেনা। আমিও জানি আর কোন দিনই সে তেলাপোকাকে ভয় পাবেনা। যে ভয় একবার জয় হয়েযায় তা আর কখনো ফিরে আসতে পারে না।
এখন যুবক যখন বৃদ্ধ হবে , দাঁড়ি,চুলে যখন পাক ধরবে। তখন কি আবার তেলাপোকা ভিতিতে আক্রান্ত হতে পারে? আবার কি তেলাপোকা দেখলে তার আতঙ্কে কলিজা শুকিয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়ে যাবে?
যদি হয়??যদি হয়?? যদি হয়??? তবে বুঝতে হবে । মুখে সে যতই বলুক তেলাপেকা ভয়টা সে কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এ ব্যপারে নিশ্চয় আপনি একমত হবেন?
এখানে ঈশ্বরকেও তেলাপোকা বিভিষিকা ছাড়া আর কিছু মনে হয়না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


