somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেকুব হুজুরের সাথে কিছুক্ষন।

০১ লা নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার কাজের জন্য একদিন একটা নাট বল্টু তৈরি করার জন্য একটি ওয়র্কসপে বসে আছি। সকাল থেকেই দুইজন কর্মী কাজ করছে। আমি বসে বসে দেখছি। এমন সময় একজন মধ্য বয়সের হুজুর সাইকেল নিয়ে ওয়র্কশপে আসলো। এসেই এক কর্মীকে ৫টা টাকা দিয়ে বল্ল আমাকে একটুকো ঝালাই করে দাও তো। তারাতারি আমি নামাজে যাব।

আমি দেখলাম হুজুর একবারও জিজ্ঞাস করলনা যে কর্মিটি ফ্রি আছে কিনা। আমি মনে মনে ভাবলাম কেন সে আগেই ৫টা টাকা দিল। সবসময় তো দেখি কাজ শেষ করেই টাকা দেয়। হুজুর কেন আগেই টাকা দিল? আমি চুপ করে বসে দেখছি।

যেহেতু দুইদিন আগের কাজ,আমি বসে আছে কাজ শেষ হলে নিয়ে যাব তাই কর্মিটি কোন ভাবেই তার কাজ রেখে ঝালাই করতে রাজি হলো না।
শেষে ক্লান্ত হয়ে আমার পাশে এসে বসলো। গায়ে হাত দিয়ে বলল আপনার কাজ করছে বুঝি। জি। কাজটা খুব জরুরি। দুই দিন আগের দেয়া । গতকালই নেয়ার কথা। আজও সকাল থেকে বসে আছি। তার পর কথা হচ্ছে। আমি বল্লাম আপনি তাকে ৫টা টাকা আগে দিতে চেয়ে মনে হয় ভালই করেছেন। আল্লাহ তিনিও আগে বান্দাদের লোভ দেখায়। আপনি তো আল্লার পথই অনুসরণ করেছেন।
তারপর আমতা আমতা করে আমাকে কয়েকটা হাদিস শুনিয়ে বলছে। জানেন মুসলামনা কেন উন্নতি করতে পারে না? আমি জানতে চাইলাম কেন? বলল: এই যে দেখুন আমার এখন মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার কথা অথচ পারছিনা। বির্ধমিরা এমন ভাবেই আমাদের পিছনে ফেলছে। আমি বললাম আপনি নামাজটা পড়ে তার পরই আসতে পারতেন। তিনি অন্য দিকে চেয়ে বলল নামাজের চেয়ে কাজ কখনো বড় হতে পারে না। এসব করতে করতে আধা ঘন্টা হয়ে গেছে। তার নামাজে যাবার কোন তারা দেখছিনা। আমি বললাম আপনার নামাজের কি এখনো আছে? তিনি আমাকে বললেন জামাতে যখন পড়েত পারলামনা তখন পরেই পড়ি। আমি বললাম আচ্ছা।

তাকে জিজ্ঞাস করলাম আপনি ইসলামের কোন দলের লোক? তিনিতো এবার মহা ক্ষেপা। আমি কোন দলেরই না। আমি বিনয়ের সহিত জানতে চাইলাম মানে আপনি কি কাদিয়ান,সুন্নি,ওয়াহিব,শিয়া,মাজার পন্থি,নাকি তাবলিগ পন্থি,জামাতি ইসলামিও তো হৈতে পারেন। তিনি বললেন আললার এবাদত করি, ইসলাম সম্পর্কে আমার তেমন কোন জ্ঞান নেই। তবে সব মানুষের আল্লারে বিশ্বাস করা উচিত। এই পৃথিবীতে থাকতে হলে আল্লারে বিশ্বাস করতে হবে। আমি বললাম কেন করতে হবে? তিনি এবার আমার মুখের দিকে চেয়ে বলে আমি প্রথমই বুচ্ছিলাম আপনি নাস্তিক? আমি বললাম ক্যামনে বুঝলেন?

ততক্ষনে ওয়ার্কশপের মালিক চলে এসেছে। এবার তিনি জয়েন করলেন। যারা বেশি পড়ালেখা করে তারা এমন কথাই কয়। আমার এখানে এক লোক আসে, তিনি নাকি বড় বিজ্ঞানিদের সাথে কাজ করেন। বলে "নামাজ পড়লে আল্লারে পুটকি দেখানো হয়"

এবার আমি উচ্চস্বরে হাসা শুরো করে দিলাম। হুজুর ঠিক করতে পারছেনা ওয়ার্কশপের মালিক কোন দলে, আমার দলে হলে তো মুশকিল, আর তার দলে হলে কিছু কথা বলতে পারবেন। কিছুক্ষন পরেই দেখা গেল মালিক হুজুরের দলে। আমাকে প্যাচাতে শুরো করলো। তার পর গতানোগতিক প্যাচাল। আমি চায়ের আর্ডার দিলাম হুজুর চা খাবেনা। এমন সময় এক দরবেশ (নাকি ফকির) এল তিনি আমার কথা শুনে বলে " তেনায় খুব ভাল কথা কইছে, ভাল মানুষ" আমি আর এক কাপ চায়ের অর্ডার দিলাম( এই প্রসংশা শুনে কি চা না খাইয়ে পারা যায়?) তিনি চা খেয়ে প্রস্থান করলেন। তার পর হাদিস নিয়ে আরো কথা হলো। এই হুজুর সারা জীবনে কোন হাদিস গ্রন্থ পরে নাই। কেবল শুনে শুনেই যা শিখেছে। মাথায় টুপি, লম্ভা একটা জুব্বা। আমি অনেক বার জিজ্ঞেস করলাম আপনি কি করেন? সে বলেনা বলে কিছু করি না।
অদ্ধুত অদ্ধুত কোরানের আয়ত বলে বাংলায়। আমি বলি এটা কোথায় পাইছেন? এরকম নাই। তিতি ততই ক্ষেপেন। হাদিস বলে আমি জিজ্ঞাস করাম এটা কোন হাদিস গন্থথেকে? তিনি জানেন না। আমি বলি এমন হাদিস থাকলে জানতাম(কারন অনেক হাদিসই আমি পড়েছি)। তার পরও যদি না জানি বাসায় গিয়ে দেখবো আপনি বলেন এটা কোন গ্রন্থের হাদিস? আমি জিগাইলাম কোন সাহাবি সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ননা করেছে জানেন? তিনি কিছু বলেন না।

এতক্ষন আলোচনায় যে দুজন কর্মি কাজ করছিল তার মজা পেয়ে গেছে,হুজুর যতই রাগে তারা ততই হাসে। যা হোক আমার কাজ শেষ হলো আমি বিল চাইলাম। মালিক একটা বিল লিখে দিচ্ছে। এবার হুজুর বলে আপনি তো নাস্তিক এবার বিল নেন কেন? আমি বলি বিল নেয়ার সাথে নিস্তিকতার কি সম্পর্ক? তিনি বলে দেখছেন এখন বিল নিচ্ছেন , আল্লা একজন আছেন। বলতে বলতে বেরিয়ে গেলেন।
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×