আজ প্রথম বারের মতো এক প্যাগ হুইস্কি খেলাম। এই অভিজ্ঞতাটা কি শ্যায়ার করা দরকার না? চুল পাক ধরেছে এই বয়সে এসে অভিজ্ঞতা অর্জনে নেমেছি। মুখে যতই ফুটানি থাকুক। অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ দৈন্য। গত ঈদে সুযোগ হয়েছিল কিন্তু ইচ্ছে করেনি। এবার বেটে বলে হয়েছে। ফ্রি পেলে আমি কিছুই ছাড়িনা। শুধু আলকাতরা পেলে ছাড়ি। যদিও কেউ আলকাতরা দেয় নি।
ঈদের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিন পর্বের একটা লেখা লিখবো।
প্রথমটা "খাদ্য পর্ব", দ্বিতীয়টা "জীবনে প্রথম প্যাগ হুইস্কি"। তৃতীয়টার নাম এখনো ঠিক করি নাই।
খাদ্য পর্ব
আজ ঈদের দিন। আমি কোন এক মফস্বল শহরে একা একা ঈদ করছি। ঈদ করছি? মানে ঈদের দিন কাটাচ্ছি। পরিবারে বাইরে ঈদ আগেও করেছি। কিন্তু গরু-ছাগল কাটার উৎসবে প্রথম বার মিস করছি। কাটাকাটির ব্যপারটা আমি ভালই পারি। আমার পরিবার যে কাটাকাটির সময় আমাকে মিস করেছে তাতে কোন সন্দেহ নাই। কেন সবাইকে ছেড়ে একা একা ঈদ করলাম? এই গল্প টা আজ নয় (এটা হতে পারে তৃতীয় পর্ব)
তো সকালে সব রেস্টুরেন্ট বন্ধ, বিস্কিট খেয়ে কাটিয়ে দিলাম। একটা চায়ের দোকানে আগের দিনের বাসি একটা সিঙ্গাড়া খেলাম।কিন্তু দুপুরে তো ভাত না খেয়ে থাকা যায়না, আবার কয়েকটা ড্রাইকেক। আমি হলাম ভাত খাওয়া বাঙ্গালী। খুঁজতে খুঁজতে অনেক দূরে একটা হোটেল পাওয়া গেল। হোটেলে আমি নিয়মিতই খাই সেই অভিজ্ঞতা থেকে মনে হল তিনদিন আগের বাসি খাবার , জগন্য স্বাদ। এবার বেরিয়ে এসে এ ওয়ান থেকে এক কাপ দই। তাতে কোন কাজ হলোনা। বরং পেটের উপর এক কাপ দইএর চাপ বাড়লো।
বাইরে আসতেই ফোন। আমাদের এক বড় ভাই। তিনি কাল রাতেই বলেছিলেন। সাকালে এসএমএস করেচে" চলে আসুন"। আমি প্রথম মনে করেছিলাম আমি যেহেতু একা একা আছি, খাবারেরও ব্যবস্থা নাই তাই সৌজন্যের খাতিরে আপ্যায়ন করছে। কিন্তু তাকে যখন বললাম যে আমি খেয়ে ফেলেছি, ফোন দিল কেটে। তিনি শান্ত শিষ্ট ভদ্র মানুষ, এমন ব্যবহার তো কখনোই করেন না। বুঝলাম শান্ত মানুষটা ক্ষেপে গেছে।
খাওয়ার পরে রিতিমতো হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু তাকে ফোন দিয়ে বললাম, ভাই এক ঘন্টা সময় দেন আমি আড়াইটার মধ্যেই আসতেছি। তার পর কয়েক বার ট্রয়লেটে গেলাম,কোন কাজ হলোনা। এমনিতেই জগন্য খাবার খেয়ে চরম বিরক্ত তার উপর যদি আবার খেতে হয় তবে এটাই নিশ্চয় জীবনের শেষ খাবার। আমার এক বন্ধু (ধরলাম নাম উ) সব সময় আপডেট খবর নিচ্ছে আমি কি করছি। উ কে ফোন দিলাম তার সাথে একটা শেষ পরামর্শ করা দরকার। ভাবলাম বিদায় নেবার সময় বুঝি চলে এসেছে, মাফ করে দিও আমি আবার খেতে যাচ্ছি।কিন্তু সে ফোন ধরছেনা। কি আর করা একটা রিকশা নিয়ে ছুটলাম।
বাসার নিচে গিয়ে ফোন দিলাম
ভাই আপনার বাসা কত তলায়? আগেও একবার গিয়েছি কিন্তু ভুলে গেছি। বলে সবার উপরের তলায় চলে আসুন দড়জা খোলা আছে। আমি গুনে দেখলাম পুরো পাঁচ তলার সিঁড়ি ভেঙ্গে ...। বুকের মাঝে থুথু দিয়ে উঠতে শুরো করলাম। দড়জা পর্যন্ত কোন সমস্যা হলোনা। কিন্তু সোফায় বসতেই বড় এক খান ট্রে সামনে দেয়া হলো। বিয়ের আসরে জামাইকে একটু বেশি পরিমান খাবার দেয়া হয় যাতে বরের বন্ধু বান্ধব সহ অন্তত পাঁচ জন খেতে পারে,আমাকে দেয়া হলো তার থেকে কিঞ্চিত বেশি বা কম। আমি আমার পেটটাকে দেখিয়ে বললাম। ভাই.....। এমন সময় ভাবি এসে হাজির। বলল পেট কোন সমস্যা না। আমি সাথে সাথে তার কথা মেনে নিয়ে খাওয়া শুরো করলাম।
ভাবছেন আমি খুব ভাবি ভক্ত? আরে না। ভাবির বাচ্চা হওয়ার আর তিনদিন বাকি।এবার নিশ্চয় বুঝেছেন কেন কথা বাড়াইনি। যা হোক, তার তিন ঘন্টা পরে, ইজি বাইক করে বাসায় ফিরলাম।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ডাইনোসর বেঁচে আছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


