গ্লাসে হুইস্কি ঢালা হচ্ছে। কোকের বোতল খোলা হচ্ছে। একটা কিছু নাকি মিশিয়ে খেতে হয়। চা এ চিনি মিশানোর ব্যপারটা বুঝি। কিন্তু হুইস্কিতে কেন কোক মেশাতে হবে? অবশ্য অন্য আরএকটি কি জানি আনতে গিয়েছিলেন। ঈদে দোকান পাট বন্ধ থাকায় তা পাওয়া যায়নি। শেষে একবোতল কোকাকোলা। কোকাকোলা যেহেতু খেতে পারি কোন সমস্যা হওয়ার কথা না।
আমি চিপস চানাচুর এটা সেটা এগিয়ে দেবার সময় লক্ষ করলাম আমার হাত কাঁপছে। এটা কি ভাবে সম্ভব? আমি এখনো বোতলটা ধরে দেখিনি অথচ হাত কাঁপছে। আমার তবে কি গন্ধেই নেশা হতে শুরো করেছে?
একটা গল্প শুনেছিলাম। সুনীল গঙ্গোপধ্যায় আর শক্তি চট্রোপাধ্যায় তরুন বয়সে প্রথম একদিন বারে ঢুকে গেলেন। দোকানদারকে অর্ডার দিলেন কিছু দিতে। দোকানদার তাদের সামনে দুই গ্লাস পানীয় রাখলেন। তারা দুজন অন্যদের অনুকরনে আস্তে আস্তে অভিঙ্গদের ভঙ্গিতে খেতে শুরে করেছেন। কিছু ক্ষনপরেই তাদের হাত পা টলছে। তারা কথা জড়িয়ে যাচ্ছে, কিছুটা হয়তো আবোল তাবোল কথাও বলেছেন। অনেক সময় পারকরার পরে তারা এবার বিল দিতে গিয়ে:
কত হলো?
দুই গ্লাস কোক আর কত হবে? আগের দামই।
আসলে দুজনে সাধারন কোমালপানীয় খেয়েই প্রথমে নেশা করেছিলেন।
হা হা হা....
এখন মনে হচ্ছে সুনিল গঙ্গোপাধ্যায় ও শক্তি চট্রোপধ্যায়ের সত্যি সত্যি নেশা হয়েছিল। কিছুটা মানুষিক ব্যপারও তো আছে-ই।
আমি সেই মানষিক ব্যপারটাই আক্রমন করলো।
আমি আস্তে ধীরে চুমুক দিলাম। শুধুই কোকের স্বাদ, আবার চুমুক দিলাম কিছুই বুঝলাম না। মনে মনে ভাবলাম এটার স্বাদ বুঝার ক্ষমাতাই মনে হয় আমার হয় নাই। তার পর আস্তে আস্তে খাচ্ছি, আর টিভির রিমোটের বাটন টিপে চলেছি। গল্প হচ্ছে, এটা সেটা চার পাশে যাই আছে খেয়ে চলেছি।
আমাদের নিয়মিত আড্ডার স্থান একটা লাইব্রেরিতে, রাতের বেলায় আমরাই খুলে বসি, কোন কেনা বেচা নেই, আমরাই ক্রেতা, আমরাই বিক্রেতা। এখানে বসেই ঈদের রাত উৎযাপন করছি।
আমাদের কাজ শেষ হওয়ার একটু পরেই একজন একজন লোক আসছে। আমাদের আমাদের আড্ডা জমজমাট হচ্ছে, ঈদের দিনের অভিজ্ঞতা জানাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রি কোথায় নামাজ পড়েছেন, বিরোধি দলীয় নেতা কি কথা বলেছেন। পত্রিকা আর কয়দিন বন্ধ থাকবে ইত্যাদি।
কিন্তু হঠাৎ আবিস্কার করলাম, আমার কোন নেশাই হয়নাই। ব্যপারটা আমার মনে খটকা লাগলো। চুপিচুপি একজনকে জিজ্ঞেস করলাম আচ্ছা আমাকে কি হুইস্কি দেয়া হয়নাই?
আপনার সামনেই তো ঢেলে দিলাম।
কিন্তু আমিতো কোন নেশা ফিল করলামনা।
হু হু হা হা.... এক প্যাগ হুইস্কিতে আবার নেশা হয়নাকি? এটাতো জুস মনে করে খেতে হয়।
চুপ করে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলাম। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। যদি নেশা নাই হবে তবে শুরোতে আমার হাত কাঁপলো কেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


