এটা হেমন্ত। আজ কার্তিক মাসের ২৬। মাঠে মাঠে সোনালী ধান।আকাশে বিশাল চাঁদ। সময়টা গোধুলি। আজ রাস পূর্নিমা, তাই সময়কে তোয়াক্কা না করেই চাঁদ অসময়ে এসে হাজির। ধানকাটা এখনো শুরো হয়নি, মাঠে কাঁচা পাকা ধান। সোনালি শিষ গুলো এলো মেলো দুলছে,।
আমি যাচ্ছি সি এনজি করে। গায়ে মোটা কাপড়। শহর থেকে অনেকটা পথ দূরে। শুনেছি নবান্নের উৎসবের সাথে সাথে নাকি শীত চলে আসে কমলগঞ্জে। আমি কয়েক বার গিয়েছি। কিন্তু হেমন্তে এই প্রথম।
আমার সাথে বসে আছেন ষাটোর্ধ একজন প্রফেসর। আমার সাথে বয়সের পার্থক্য থাকলেও আড্ডায় এক সাথেই বসি। তিনিও এই উৎসবে এবারই প্রথম। গতবছর এই অঞ্চলে যখন আসি তার কিছুদিন পরে রাস উৎসব সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। তাই একটা বিরাট সুযোগ হাত ছাড়া হয়ে যায়।
রাস মণিপুরীদের সবচেয়ে বড় ও প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। সহজ কথায় রাস একটি মণিপুরি নাচের অনুষ্ঠান। তারা বলেন মহারাস। কার্তিক মাসের পূর্নিমা তে এই উৎসব হয়ে থাকে। এবার হচ্ছে ১৬৯ তম রাস উৎসব।সকালের সূর্যস্নানের মধ্য দিয়ে শুরো হয়। তিনটা মন্ডপে এই আসর বসে। রাধা কৃষ্ণের প্রেমই মণিপুরি নাচের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।
তিনটা মন্দির পাশা পাশি, মন্দিরে আঙ্গিনায় চারদিক খোলা বৃত্তাকার মঞ্চ। তিনটা মঞ্চই একই রকম করে সাজানো। তিনটাতে এক যোগে একই আয়োজনে অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। দুপুর থেকে গোধুলি পর্যন্ত চলে রাখালী নৃত্য। আবার রাত বারটা থেকে শুরো হয়ে সুর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত চলে।
https://chourongi.wordpress.com/

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


