সুমন নামে আমার দুজন বন্ধু আছে। দুজনের সাথেই দুটি ভিন্ন সময় এবং ভিন্ন স্থানে পরিচয়। একজনের নাম সুমন হাওলাদার। আর একজনের নাম সুমন সওদাগর। আমি মাঝে মাঝে এই হাওলাদার এবং সওদাগরের মাঝে ঝামেলায় পরে যাই। কোন ভাবেই মনে করতে পারি না কে হাওলাদার আর কে সওদাগর। একজন জমিদার গুছের কিছু আর একজন বণিক। জমিদারকে বণিক আর বণিককে জমিদার বলাতো মোটেও উচিৎ নয়। তাই অনেক সময় চিন্তা করি, কাকে জমিদার বানাব আর কাকে বিজনেস ম্যান বানাব?
কয়েক দিন আগে ব্লগে দুই সুমনের একজনের নাম লিখলাম। খুব চিন্তা করে বের করলাম ব্লগের সুমন হাওলাদারই হবে। লিখলাম সুমন হাওলাদার তখনই ফেসবুকে নক। আমার নাম সুমন সওদাগর।
কি আর করা? কি বোর্ডের কয়েক টকটক শব্দে যেহেতু হাওলাদারকে সওদাগর এবং সওদাগরকে হাওলাদার বানাতে পারি, তাই উদার ভাবে দিলাম সওদার বানিয়ে।
আমি কলেজে পড়ার সময় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আমাদের আবৃত্তি শেখাতে তার নাম মিষ্টার জেট (সংক্ষিপ্ত)। বয়সের পার্থক্য কম থাকায় আমরা জেট ভাই বলেই ডাকতাম। তিনি থিয়েটারেও ছিলেন উৎসাহী ,করতেন উপস্থাপনা ।এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফল। তার পরিচিতি তখন অনেক। বড় বড় অনুষ্ঠান গুলো তার ভরাট কন্ঠ ছাড়া আমরা কল্পনা করতে পারতাম না।
সেই জেট ভাই এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করে যাচ্ছেন। সেদিন মঞ্চে বসা আছেন এক দাপটি মন্ত্রি । তাই অনুষ্ঠানটি তেলে তেলে তৈলাক্ত হবে এটাই তো সাভাবিক। এবং হলও তাই।
এবার ক্রমান্ময়ে ঘোষনা করা হলো। এবার মঞ্চে আসবেন (বিশেষণ সম্ভার) বেদম আলী সরকার ।(আপনাদের বুঝিবার সুবিধার্থে নামটি কিঞ্চিত পরিবর্তন করা হৈয়াছে)।
বেদম আলী সরকার তার নাম ঘোষণার সথে সাথে প্রায় দৌড়ে মঞ্চে উঠলেন। ডায়াসে দাঁড়িয়ে বলতে থাকেন, জেট সাহেব আপনি বারবার আমার নামটা ভুল উচ্চারন করছেন। এটা আমি আগেও লক্ষ করেছি। আপনি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার নামটা পরিবর্তন করছেন। শুনে রাখেন আমার নাম সরকার বেদম আলী। বেদম আলী সরকার নয়।
সেই থেকে জেট ভাই আর সরকার ভাইয়ের ঠান্ডা যুদ্ধ চলছেই চলছে।
রাজনৈতিক নেতাদের বয়স যত বেশিই হোক তারা সব সময় জনগের ভাই। সেই অর্থে তিনি ভাই। না হলে প্রায় নানা বা দাদা।
আপনার মনে হতে পারে সরকার নিয়ে ঝামেলা কেন? আমি বলবো সরকার নিয়েই তো আমরা ঝামেলায় আছি। আমাদের শান্তিতো সরকারের হাতেই।
যা হোক। সরকার দলের লোক যেহেতু তার নামে সরকার থাকবে। অথবা সরকার নাম যেহেতু আছে তিনিতো বিরোধি দলের লোক হতে পারেন না। বিরোধি দলে তো আর সরকার থাকতে পারেনা? তাই সরকারের আগে পিছে হওয়া নিয়ে এত গন্ডগোল।
এবার নিশ্চয় ভাবছেন সরকার আগে হোক আর পরে হোক তাতে সমস্যা কোথায়?তিনি যে সরকার দলের লোক তাতো ওনার কথা শুনেই বুঝা যায়। নামের সাথের সরকারের তো কোন প্রয়োজন দেখছিনা।
তা আপনার কথা ঠিকই ছিল কিন্তু আপনিতো সরকার দলের লোক না। আবার আমজনতা । তাই সরকারের মাহাত্ব বুঝতে পারছেন না। আগের সরকার আর পরের সরকার কী ভাবে এক হলো? আগের নেত্রী কি পরের সরকারের সময় আছে? এই বার বুঝেন আগে পিছে সরকার কত গুরুত্বপূর্ণ ? সরকার নড়াচড়া মানে তো আসন নড়াচড়া। আর আসন নড়াচড়া মানে তো সব নড়াচড়া। আবার সরকারের আমলাদের বদলী, আবার প্রমোশন আবার, নতুন করে পুরনো মদ পরিবেশন। এসব কি কম কথা?
তাই আমরা প্রস্তাব করলাম। নাম যদি পরিবর্তন করতেই হয় তবে এমন ভাবে করতে হবে যেন উপস্থাপক তো দূরের কথা বিরোধি দলীয় নেতাও যেন পরিবর্তন না করতে পারে। প্রস্তাবে সমর্থন বাড়লো। এবং নামটি দাঁড়াল সরকার বেদম আলী সরকার এবার আর আগে পরে করার কোন সম্ভাবনা নেই। যদি করতে চান করে দেখুন। কোন পরিবর্তন নাই। আপনি দুই সরকারকে স্থান পরিবর্ত করে দেখুন দেখতে একই রকম লাগবে।একেবারে দুই নেত্রীর মতো পাঁচ বছর আমি আছি তো পাচঁ বছর আপনি থাকেন তবু লাউ আর কদুতে কোন পরিবর্তন যেন না হয়। কিন্তু একজন কখনো দুইবার থাকতে পারবেন না।আর একজনকেও তো ফ্লোর দিতে হবে।
হুম তাইলে তো দুইটা সরকার এক সাথে থাকতে পারেনা। সরকার বেদম আলী সরকার নিয়ে তৈরি হলো আর এক সমস্যা। বেদম আলীর নামেও যে ভাবেই হোক সরকার একটিই করতে হবে। আমাদের চিন্তায় ঘুম আসেনা (নেতা না ঘুমালে আমরা ঘুমাই কি করে?)। একেবারে খাওয়া দাওয়া বন্ধ(নেতা টাকা না দিলে খাব কোথা থেকে?) ।সুশিলদের পক্ষ থেকে টকশো হচ্ছে সরকার একটাই রাখতে হবে।
আমি বলি সরকাটা বাদ দিলে কেমন হয়?
সবাই রেরে করে উঠলো সরকার বাদ দিতে বলছো? এটা গনতান্ত্রিক দেশ, সরকার ছাড়া কি করে চলবে?
তাই তো সরকার ছাড়া তো কোন ভাবেই চলবেনা। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো তার নাম হবে, বেদম আলী এগে পিছে সরকার ।
সরকারের কোন স্থান ফাঁকাও থাকছেনা আবার একটা হিসেবেও বলা যাচ্ছে। নড়াচড়ার কোন ঝামেলাও থাকছেনা।
সেই থেকে তিনি বেদম আলী আগে পিছে সরকার হিসেবে বহাল তবিয়তে আছেন। আশা করি থাকবেন, এমন করে কোট টাইয়ের মতো নাম পরিবর্তনের মতো করে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


