আগে একটা কৌতুক বলে নেই।
ছেলে মাঠে ক্রিকেট খেলছে। বাবা এসে তাকে ধরে নিয়ে গেল। মাঠের বাইরে এনেই পেটানো শুরো করে দিল।বল আরো ক্রিকেট খেলবি? ছেলে চিৎকার করছে।সব সময়তো শিক্ষকরাই এগিয়ে আসেন। এবারেও আসলেন।
শিক্ষক: কি হয়েছে? ছেলেকে এভাবে মারছেন কেন?
পিতা: মারবো না ? দেখেন না ক্রিকেট খেলতে আসছে?
শিক্ষক: খেলাধুলা স্বাস্থের জন্য ভাল।
পিতা: আমি জানি। এজন্য তাকে বিকালে খেলতে পাঠাই।কিন্তু ক্রিকেট খেলবে কেন?
শিক্ষক: আপনার ছেলে তো ক্রিকেট খুবই ভাল খেলে। এটা তার ভবিষৎ কেরিয়ার হতে পারে।
পিতা: এই ভাল খেলে বলেই তো পেটাচ্ছি।
শিক্ষক: এটা তো ভাল কথা। এজন্য ওকে মারছেন কেন?
পিতা: ভাল খেললেই তো জাতীয় দলে ডাক পেয়ে যাবে। তখন আমার মান সম্মান কিছু থাকবে? আমার ছেলে জাতীয় দলে ক্রিকেট খেলে এই লজ্জার চেয়ে মরন ভাল।আমি মানুষকে মুখ দেখাব কি করে?
আমাদের এক পাঠকের ডাক নাম মুসফিক। তার বন্ধুরা তাকে যদি মুসফিক বলে ডাকে সে খুবই রেগে যায়। এর কারনটা সহজ। অথচ হওয়ার কথা ছিল এর উল্টো।
আমাদের ক্রিকেট দলে থাকা লজ্জাজনক কিনা জানিনা ।তবে এই বিজয়ের মাসে পাকিদের কাছে গেছে। এটা মেনে নিতে আমার খুব কষ্ট হয়েছে।বাংলাদের ক্রিকেট দল হারে। প্রায়ই হারে। আমি গর্ব করে বলতোম। আমাদের ক্রিকেটাররা হারতে জানে।
ফুটবল খেলায় গোল খেলে আমার এক চাচা বলতো আমরা খাওইয়া বাড়ির পোলা । চার পাঁচটা গোল খাওয়া কোন ব্যপারইনা। এই সব ছোট খাট বিষয়ে আমরা মাইন্ড করিনা।
আমরাও হারুয়া দেশের ক্রিকেটার। আমাদের কত হারাতে পারবে। হারাতে হারাতে তারাও তো লজ্জা পাবে? নাকি তাদের লজ্জা নেই? লজ্জা না থাকলে অবশ্য ভিন্ন ব্যপার।
আমাদের হারের সংখ্যা বেশি। হারতে লজ্জা তাই পাইনা। আমি খুব ভাল করে লক্ষ্য করে দেখেছি,বাংলাদেশ হারলে তেমন একটা আলোচনা মাঠে ঘাটে হয়না।ক্ষোভ থাকে। কিন্তু তা প্রকাশ করেনা। অথচ জিতলে রাস্তায় মিছিল করা হয়। সেই মিছিলে আমি নিজেও নিজের অজান্তে বেরিয়ে পরি।
এ আনন্দ শুধু ক্রিকেটের জন্য নয়। আমি অনেককেই চিনি যারা জীবনে একদিনের জন্যও ব্যাট বল হাতে মাঠে যান নাই। কিন্তু বাংলাদেশ দলের জয়ে উৎফুল্ল হয়ে রাস্তায় নাচেন। স্বগর্বে বলেন বাংলাদেশ জিতেছে।
সবই ঠিক আছে। খেলায় হার জিত থাকেই।বাংলাদেশ যদি জিততে পারতো তবু হয়তো কথা থেকেই যেত। কারন এবারের দল যে পাকিস্তান? এবং এই মাসটা যে বিজয়ের মাস? তাই আমার কাছে এই হারটা সহজ মনে হয়নি।
আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হোমরাচোমরা যারা আছেন তারা কোন বিবেচনায় এই বিজয়ের মাসে পাকিদের আমন্ত্রন জানালেন? যাদেরকে আমরা ঝেটিয়ে বিদেয় করেছি। তাদের কে আবার বিজয়ের মাসে আমন্ত্রন করে ডেকে আনার মানে টা কি?
ধার্মিকদের ধর্মগ্রন্থওতো পরিবর্তন হয়। আর আইসিসির সিডিউল কি অপরিবর্তন যোগ্য?
আমরা বাঙ্গালীরা নাকি সব কিছুতেই চক্রান্তের গন্ধ পাই। অথবা চক্রান্ত খুঁজে বেড়াই।কিন্তু আমরা না খুঁলেও চক্রান্ত থেমে নেই। সে তার আপন কর্ম করেই যাচ্ছে।
খেলার সাথে রাজনীতি নাকি মেলানো উচিত নয়। এতে নাকি দুইটাই নষ্ট হয়। আমিও এমন ভাল মানুষি বচন মাঝে মাঝে শুনতে পাই। এই বচন নিয়ে আমার কোন তর্ক করার ইচ্ছে নেই। কিন্তু ক্রিকেটের বল যদি রাজনৈতিক শরবতে এসে পরে, তবে দু-একটা কথা বলতেই হয়। না বলে আর পারা যায়না।
কথা হয়তো সত্য এবং সত্য কিছুটা তেতুই হয়।
একাত্তুরের ডিসেম্বর মাসে আমরা এক চাঁদ তারার নিশানকে আস্তাকুরে নিক্ষেপ করেছিলাম। আমরা জুতা মুছারও যোগ্যতা দিইনি ঐ পাকি পতাকাকে। আমরা উড়িয়ে ছিলাম আমাদের স্বপ্নের লাল সবুজের পতাকা। যেন আমাদের সবুজ মাঠে একটা তেজদ্বীপ্ত একটা সূর্য। আমাদের স্বাধীনতার আকাশে আর কাউকে উড়তে দেইনি। এই সূর্যকে সমুজ্জল রাখার জন্যই আমাদের এক মাত্র ব্রত।
এই ক্রিকেট কে কেন্দ্র করেই স্টেডিয়ামে দেখতে হলো পুরনো শকুনের নির্লজ্জ নিশান। আমাদের দেখতে হলো বাস্টার্ডদের। এই ক্রিকেট খেলাতে ঘিড়েই তারা উড়াতে সাহস করলো পাকিদের পতাকা। আমাদে আবার দেখতে হলো এই কুৎসিত চাঁদতারা খচিত ঘৃনিত এক রক্তস্রাবকে।
যারা নিজের দেশের বিরুদ্ধে নিজের দেশের পতাকা রেখে শুয়রের বাচ্চারা পাকিদের পতাকা উড়াতে পারে। তারা দেশের বিরুদ্ধে যে কোন যে কোন ধ্বংসাত্বক কাজ করতে ইতস্ত করবেনা। হয়তো দেশের ক্ষতি করার জন্য সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে,আমরা যখন তা টের পাব ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে যাবে।
এই দেশের মাটিতে এইদেশের আলো বাতাসে বড় হয়ে তারা পাকিস্তানের গান গায়,পাকিদের পতাকা গালে আঁকে তাদের বিরুদ্ধে কেন রাষ্ট্রদ্রুহিতার অভিযোগ এনে গ্রেফতার করা হয়নি? কেন আমাদের কর্তাগণ তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি? এখানেও কি কোন চক্রান্ত থাকতে পারে?
কিছু দিন আগে ব্লগে একটা ছবি দেখেছিলাম। পাকিস্তান নাম লেখা একটা মগ। গত কয়েক দিন আগে সরকারের ডিজিটাল মেলায় আমার বন্ধু এসে জানাল একটা মগ তার ছেলে পছন্দ করেছে। কিন্তু তাতে পাকিস্তান লেখা থাকায় সে এটা কিনে নি।
এটা প্রথমে খুবই তুচ্ছ মনে হলেও এখন মনে হচ্ছে এটা তুচ্ছ হতে পারে না। পাকিস্তানের দুষররা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। এসব হচ্ছে তাদের পুর্বাভাস। পুর্বাভাসে প্রস্তুতি না নিলে পরিনাম হয় ভয়াবহ। হয়তো আমরা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকেই গড়াচ্ছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


