somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা কি ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকেই গড়াচ্ছি?

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগে একটা কৌতুক বলে নেই।
ছেলে মাঠে ক্রিকেট খেলছে। বাবা এসে তাকে ধরে নিয়ে গেল। মাঠের বাইরে এনেই পেটানো শুরো করে দিল।বল আরো ক্রিকেট খেলবি? ছেলে চিৎকার করছে।সব সময়তো শিক্ষকরাই এগিয়ে আসেন। এবারেও আসলেন।
শিক্ষক: কি হয়েছে? ছেলেকে এভাবে মারছেন কেন?
পিতা: মারবো না ? দেখেন না ক্রিকেট খেলতে আসছে?
শিক্ষক: খেলাধুলা স্বাস্থের জন্য ভাল।
পিতা: আমি জানি। এজন্য তাকে বিকালে খেলতে পাঠাই।কিন্তু ক্রিকেট খেলবে কেন?
শিক্ষক: আপনার ছেলে তো ক্রিকেট খুবই ভাল খেলে। এটা তার ভবিষৎ কেরিয়ার হতে পারে।
পিতা: এই ভাল খেলে বলেই তো পেটাচ্ছি।
শিক্ষক: এটা তো ভাল কথা। এজন্য ওকে মারছেন কেন?
পিতা: ভাল খেললেই তো জাতীয় দলে ডাক পেয়ে যাবে। তখন আমার মান সম্মান কিছু থাকবে? আমার ছেলে জাতীয় দলে ক্রিকেট খেলে এই লজ্জার চেয়ে মরন ভাল।আমি মানুষকে মুখ দেখাব কি করে?

আমাদের এক পাঠকের ডাক নাম মুসফিক। তার বন্ধুরা তাকে যদি মুসফিক বলে ডাকে সে খুবই রেগে যায়। এর কারনটা সহজ। অথচ হওয়ার কথা ছিল এর উল্টো।

আমাদের ক্রিকেট দলে থাকা লজ্জাজনক কিনা জানিনা ।তবে এই বিজয়ের মাসে পাকিদের কাছে গেছে। এটা মেনে নিতে আমার খুব কষ্ট হয়েছে।বাংলাদের ক্রিকেট দল হারে। প্রায়ই হারে। আমি গর্ব করে বলতোম। আমাদের ক্রিকেটাররা হারতে জানে।

ফুটবল খেলায় গোল খেলে আমার এক চাচা বলতো আমরা খাওইয়া বাড়ির পোলা । চার পাঁচটা গোল খাওয়া কোন ব্যপারইনা। এই সব ছোট খাট বিষয়ে আমরা মাইন্ড করিনা।

আমরাও হারুয়া দেশের ক্রিকেটার। আমাদের কত হারাতে পারবে। হারাতে হারাতে তারাও তো লজ্জা পাবে? নাকি তাদের লজ্জা নেই? লজ্জা না থাকলে অবশ্য ভিন্ন ব্যপার।

আমাদের হারের সংখ্যা বেশি। হারতে লজ্জা তাই পাইনা। আমি খুব ভাল করে লক্ষ্য করে দেখেছি,বাংলাদেশ হারলে তেমন একটা আলোচনা মাঠে ঘাটে হয়না।ক্ষোভ থাকে। কিন্তু তা প্রকাশ করেনা। অথচ জিতলে রাস্তায় মিছিল করা হয়। সেই মিছিলে আমি নিজেও নিজের অজান্তে বেরিয়ে পরি।
এ আনন্দ শুধু ক্রিকেটের জন্য নয়। আমি অনেককেই চিনি যারা জীবনে একদিনের জন্যও ব্যাট বল হাতে মাঠে যান নাই। কিন্তু বাংলাদেশ দলের জয়ে উৎফুল্ল হয়ে রাস্তায় নাচেন। স্বগর্বে বলেন বাংলাদেশ জিতেছে।

সবই ঠিক আছে। খেলায় হার জিত থাকেই।বাংলাদেশ যদি জিততে পারতো তবু হয়তো কথা থেকেই যেত। কারন এবারের দল যে পাকিস্তান? এবং এই মাসটা যে বিজয়ের মাস? তাই আমার কাছে এই হারটা সহজ মনে হয়নি।
আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হোমরাচোমরা যারা আছেন তারা কোন বিবেচনায় এই বিজয়ের মাসে পাকিদের আমন্ত্রন জানালেন? যাদেরকে আমরা ঝেটিয়ে বিদেয় করেছি। তাদের কে আবার বিজয়ের মাসে আমন্ত্রন করে ডেকে আনার মানে টা কি?
ধার্মিকদের ধর্মগ্রন্থওতো পরিবর্তন হয়। আর আইসিসির সিডিউল কি অপরিবর্তন যোগ্য?
আমরা বাঙ্গালীরা নাকি সব কিছুতেই চক্রান্তের গন্ধ পাই। অথবা চক্রান্ত খুঁজে বেড়াই।কিন্তু আমরা না খুঁলেও চক্রান্ত থেমে নেই। সে তার আপন কর্ম করেই যাচ্ছে।

খেলার সাথে রাজনীতি নাকি মেলানো উচিত নয়। এতে নাকি দুইটাই নষ্ট হয়। আমিও এমন ভাল মানুষি বচন মাঝে মাঝে শুনতে পাই। এই বচন নিয়ে আমার কোন তর্ক করার ইচ্ছে নেই। কিন্তু ক্রিকেটের বল যদি রাজনৈতিক শরবতে এসে পরে, তবে দু-একটা কথা বলতেই হয়। না বলে আর পারা যায়না।
কথা হয়তো সত্য এবং সত্য কিছুটা তেতুই হয়।
একাত্তুরের ডিসেম্বর মাসে আমরা এক চাঁদ তারার নিশানকে আস্তাকুরে নিক্ষেপ করেছিলাম। আমরা জুতা মুছারও যোগ্যতা দিইনি ঐ পাকি পতাকাকে। আমরা উড়িয়ে ছিলাম আমাদের স্বপ্নের লাল সবুজের পতাকা। যেন আমাদের সবুজ মাঠে একটা তেজদ্বীপ্ত একটা সূর্য। আমাদের স্বাধীনতার আকাশে আর কাউকে উড়তে দেইনি। এই সূর্যকে সমুজ্জল রাখার জন্যই আমাদের এক মাত্র ব্রত।

এই ক্রিকেট কে কেন্দ্র করেই স্টেডিয়ামে দেখতে হলো পুরনো শকুনের নির্লজ্জ নিশান। আমাদের দেখতে হলো বাস্টার্ডদের। এই ক্রিকেট খেলাতে ঘিড়েই তারা উড়াতে সাহস করলো পাকিদের পতাকা। আমাদে আবার দেখতে হলো এই কুৎসিত চাঁদতারা খচিত ঘৃনিত এক রক্তস্রাবকে।
যারা নিজের দেশের বিরুদ্ধে নিজের দেশের পতাকা রেখে শুয়রের বাচ্চারা পাকিদের পতাকা উড়াতে পারে। তারা দেশের বিরুদ্ধে যে কোন যে কোন ধ্বংসাত্বক কাজ করতে ইতস্ত করবেনা। হয়তো দেশের ক্ষতি করার জন্য সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে,আমরা যখন তা টের পাব ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে যাবে।
এই দেশের মাটিতে এইদেশের আলো বাতাসে বড় হয়ে তারা পাকিস্তানের গান গায়,পাকিদের পতাকা গালে আঁকে তাদের বিরুদ্ধে কেন রাষ্ট্রদ্রুহিতার অভিযোগ এনে গ্রেফতার করা হয়নি? কেন আমাদের কর্তাগণ তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি? এখানেও কি কোন চক্রান্ত থাকতে পারে?

কিছু দিন আগে ব্লগে একটা ছবি দেখেছিলাম। পাকিস্তান নাম লেখা একটা মগ। গত কয়েক দিন আগে সরকারের ডিজিটাল মেলায় আমার বন্ধু এসে জানাল একটা মগ তার ছেলে পছন্দ করেছে। কিন্তু তাতে পাকিস্তান লেখা থাকায় সে এটা কিনে নি।

এটা প্রথমে খুবই তুচ্ছ মনে হলেও এখন মনে হচ্ছে এটা তুচ্ছ হতে পারে না। পাকিস্তানের দুষররা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। এসব হচ্ছে তাদের পুর্বাভাস। পুর্বাভাসে প্রস্তুতি না নিলে পরিনাম হয় ভয়াবহ। হয়তো আমরা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকেই গড়াচ্ছি।
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×