কোন কিছু লিখতে না পারার একটা যন্ত্রনা থাকে। আমি এখন তা টের পাই। কলম খাতা খুলে বসে থাকি কিন্তু কোন কিছুই মাথায় আসেনা। গল্প লেখার অভ্যঅস ছিল কলেজ বেলায়। সে অনেকটা দূর। তার পরেও খাতা কলম নিয়েই আছি। কৈরনিকের কি খাতা-কলম ছাড়া চলে? সাথে ফাইল বন্ধি কাগজ পত্র। একবার খুলি আর একবার বাঁধি।
কেউ পিছনে ফিরতে পারেনা। আমি ফিরতে চাইওনা। সবাই অতীতকে পিছনে রেখে আসতে হয়। যারা অতীতকে ব্যাকপ্যাকে করে নিয়ে আসে তাদের জীবন হয় আরো কষ্টের। আমিও অতিতের পেছনে ছুটতে চাই না। কেন যাব?
ছোট কালে টিভি দেখার খুব নেশা ছিল। নিজের বাড়িতে টিভি ছিলনা। পাশের বাড়িতে দেখতে যেতাম। সেই আনন্দ ,সেই উচ্ছাস কোথায় গেল?
রুপনগর নাটক দেখার জন্য যমদূতের মতো বাবাকে পর্যন্ত ভয় পেতাম না। কি দুঃসহস আমার । এখন সেই ইমদাদুল হক মিলনের কোন বই পড়তেই পারিনা। কয়েক বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। শেষ করতে পারি নি।চরম বিরক্ত লাগে। শনিবারের চিঠি বলেছিল পাঠকের বিরক্ত লাগা উচিৎ নয়। এই সব কথা তার জন্যই হয়তো ঠিক। এই ভদ্রতার সহ্য সীমা আমার নাই।
পকেটে পাঁচ টা টাকা নিয়ে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে মেলায় গিয়েছি। এই টাকা দিয়ে কি আর কেনা যেত? তবু কত আবেগ মেলায় যেতেই হবে। রংবেরঙ্গের ঘুড়ি, আর মচমজে জিলাপীই আমাকে টানতো। লাটিম ঘোড়াতেও আমার ভাল লাগতো। এখনও বৈশাখী মেলা হলে এটু ঘুড়ে অন্য পথ দিয়ে যাই। ভীড়কে ভিষণ ভয়।
সবাইকে বলতে শুনি সেই দিন কি আর আছে? তার পরে একটা দীর্ঘশ্বাস। কত চমৎকার দিন ছিল,কত খাবার,কত বই পড়া... ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি শুনি আর হাসি। যায় দিনের চেয়ে আসে দিন অনেক ভাল। আমিতো জানি আগের মেলার চেয়ে এখনকার মেলার আকর্ষণ ক্ষমতা অনেক বেশি। আগের প্যানপ্যানে বিটিভির কথা না বললেও হয়। তবু আফসুস এবং হতাশা।
আসলে আমরা পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারিনা। মেনে নিতে চাইনা। নিজেকে নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত থাকি তবো নিজের দিকে তাকানোর সময় হয়না। পরিবর্তন যে আমি নিজেও হই তা বেমালোম ভুলে যাই।
এক সময় অপরিচিত কাউকে আঙ্কেল বলে ডেকে উঠতাম।এই অভ্যাসটা অনেক দিন ধরে রেখে ছিলাম। সবাইকে কত সহজে আঙ্কেল ডেকে যেতাম। তাদের হাসিপ্রসন্ন মুখে উত্তরও পেয়ে যেতাম। এখন আমার মুখে এমন ডাক শুনলে অনেকেই চমকে উঠে। কেন জানি কেউ আঙ্কেল ডাকটা শুনতে চায়না। যুগটাই পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে ,,এমন জাবর আমিও কেটেছি।
আমাকেও একসময় শিশুরা ভাইয়া বলতো ইদানিং আঙ্কেল বলা শুরো করেছে। ইদানিং কলেজের কিছু ছেলে মেয়েরাও আঙ্কেল বলে ডাকে। প্রথমে আমিও চমকে উঠতাম। এখন মেনে নিয়েছি। আমিতো আঙ্কেলই । দাদু ভাই নানু ভাই তো এখনো ডাকা শুরো করে নি। আর করলেই আমি কি-ই-বা করতে পারবো?
চিন্তা করে বের করলাম আঙ্কেলের সংখ্যা ধ্রুবক। আমার আঙ্কেলরা দাদা নানা তার পর রিজাইন দিয়ে বিদায় নিয়েছে। আমরা তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছি। আমার আঙ্কেলের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে সেই সাথে আমরা কারো আঙ্কেলে পরিনত হয়ে যাচ্ছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


