somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেমিকার ছবি।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বয়স যখন আরো কম। প্রেমে পড়ি এক কিশোরির। আমিও তখন প্রেমে উন্মাদ। তার জন্য কয়েক বার জীবন দিতে এবং নিতে পারি। যদিও কখনো সে চায়নি। চাইলে কি হতো ? হয়তো কিছুই হতো না। আমিও বুঝে নিতাম সে আমারে ভালবাসে না। বাসলে কি করে আমারে জীবন দিতে বলেন?
কি হিপোক্রেসি। আমি যা পারবোনা তা নিয়েই মাতুব্বরি। " মোর প্রিয়া হবে এস রানী, দেব খুঁপায় তারার ফুল" এটা আমার কথা নয়। আর যাই হোক এমন অকল্পনীয় উপহার আমার প্রমিকাকে দিতে চাইলে প্রেম মনহয় তখনই বিদায় নিত।
আমিও দিতে চাইনি। সেও দাবী করেনি। যা সেই যাত্রায় বেঁচে গেলাম।

তার পর ফোনে ফিসফাস। কিশোরি বাবা মায়ের মোবাইল থেকে চুরি করে আমার সাথে কথা বলা। আমি মাঝে মাঝে সুযোগ মতো তাকে দেখতে যাওয়া। এটা খুবই কম হয়েছে। আমি একবারই কেবল তাকে দেখতে যেতে পেরেছি। যতবার দেখা হয়েছে ততবারই তার আগমনে।

আমার হবু শ্বশুর ডাকসাইটের নেতা। মা ছিলেন ইডেনের নেত্রী।চাচারাও বর্তমানে মটরবাইক নিয়ে রাজনীতি করে। আমি হলাম ভীতুর ডিম। তার বাসা তো দূরের কথা । তার গলির আশে-পাশে দিয়েও যাইনা।
যেহেতু তার ফোন নাই , বাবা মায়ের ফোন ম্যানেজ করে কথা বলে। তাই আমার ফোন দেয়ার টেনশানটাও অনেক কম। যখন প্রয়োজন এবং সুযোগ পায় সেই আমাকে ফোন দেয়। আমি সব ব্যপারেই রিসিবার।
সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে, ভীরু গলায় আস্তে আস্তে কথা বলে। আমি সব কথা বুঝতেই পারিনা। কি উত্তর দেব? তাই একটা সহজ সমাধান বের করে নিলাম। যখনই তার কোন কতা বুঝতে না পারি। বড় করে বলে দেই"আই লাভ ইউ"। এই কথা শুনার পরে তার মনের কি অবস্থা হয়, তা বলতে পারবো না। তবে আমি বলে বেশ তৃপ্তি পাই।
একদিন তাকে বল্লাম তোমার একটা ছবি দাও। আমার কাছে তোমার একটা ছবি থাকা দরকার। বেশির ভাগ সময়ই তুমি থাকনা । তখন তোমার ছবিটা দেখতে পারবো। কথাটা তার মনে ধরেছে। সে রাজি হলো। কিন্তু ছবিটা আনতে হবে তার বাসার গেট থেকে। আমার মাথায় বাঁজ পড়লো। তোমার বাসার গেটে যেতে হবে?
হুম। বাসায় তো যেতে বলি নাই? শনিবার দিন মা অফিস থেকে ফিরে পাঁচটায়। বাবা ফিরে সারে চারটায়। আমি স্কুল থেকে ফিরি চারটা পনের মিনিটে। এই একদিনই সময়। চলে আসুন।
আমি শুনে একবার বুকে থুথু দিলাম। এক বন্ধুর সাথে পরামর্শ চাইলাম। কি করা যায়?
সে সব শুনে বল্ল। তার বাড়ির কেউ দেখতে পেলে কি হবে?
আমি বল্লাম আমাকে মেরে তক্তা করে দিতে পারে।খুনও করতে পারে।
সে বল্ল,তাদের বাসার কেউ কি আগে কখনো খুন করেছে? মানে কারো কি খুন করার অভিজ্ঞতা আছে?
না এমন তো শুনি নাই। কিন্তু কেন?
তাহলে প্রথম দফায় খুন করবেনা। ধরা পড়লে একটা থ্রেট করতে পারে,আর এই গলির মুখেও যেন না দেখি,এই রকম। খুব বেশি হলে অথবা তারা তোর উপর খুব ক্ষেপা থাকলে একটু পিটানি দিতেও পারে। প্রেমের জন্য কত জন কত কী করেছে। আর তুই একটু পিটানি খেতে পারবিনা? তার পর ইতিহাসের প্রমীকদের নিয়ে একটা লেকচার ঝাড়লো।

এই হলো আমার পরামর্শদাতার মন্তব্য। আমিও মজনু,ফরহাদের মতো ইতিহাসে নাম লেখাব। সাহস করে রাজি হলাম।
প্রেমিকার সাথে পরে যখন কথা হলো জানতে চাইলাম কোন শনিবারে আসবো।
সে বল্ল কেন আসবেন?
হায় হায় কয় কি?
তোমার ছবি দেয়ার কথা। ভুলে গেছে?
কিন্তু আমার যে রিসেন্ট উঠানো কোন ছবি নাই। আগের ছবি আছে।
আরে আগের হলেও হবে।
আরে না । আগের ছবি দিলে কেমন হবে? আমি বরং এই ঈদে নতুন করে ছবি উঠিয়ে দিব।
আমি নাছুর বান্দা। না যা আছে তাই দিতে হবে। সে রাজি হলো।
আমিও অনেক হিসাব নিকাশ করে তার গেটে সঠিক সময়ে গিয়ে হাজির হলাম। এবং সময় মতো সে ছবি নিয়ে দোতলা থেকে গেটে নেমে আসলো। আমার দিকে কিছু ক্ষন তাকিয়ে থেকে একটা প্যাকেট আমার হাতে দিয়ে দ্রুত আবার চলে গেল।
প্যাকেটটা হাতে নিয়ে আমিও কোন রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে চলে এলাম।
বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত হলো। সবাই ঘুমিয়ে যাবার পরে। ছবির প্যাকেটা খুললাম।একি?

না সে ছবি দিয়েছে,এবং তার ছবিই দিয়েছে। ছবিটা অনেক দিন আগের তাও সত্য। কিন্তু কত দিন আগের ?

সে শুধু তার ছবি দেয়নি। সাথে তার মা এবং বাবার ছবিও দিয়েছে। ছবিতে তার বাবা মায়ের মাঝে বসে আছে। তার যখন বয়স দুই তখনকার উঠানো ছবি।
কেমন লাগে?
প্রেমিকাও আমারে নিয়ে ফান করলো। আফসুস।
১৩টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×