আওয়ামিলীগ এবং বিএনপির নেতা নেত্রিরা। গরু ছাগল বাদে অনেকেই যারা একসময় প্রগতিশীল আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিল।হয়তো আমাদের মতোই টগবগে প্রাণে দেশের কথা বলতো। একা একা হাঁটতে হাঁটতে হয়তো তাদের হাতের মুঠো শক্ত হয়ে উঠতো। সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংসের নকশা কতো মনে মনে। বহিঃবিশ্বের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছিল প্রতিবাদ মুখর।
আমি জানি আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠরা দেশ প্রেমে উদ্ভোদ্ধ হয়ে বুক উচিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল বুলেটের সামনে। শক্ত বুটের লাথি খেয়েও অস্ফুট স্বরে বলতো মেহনতী মানুষের জয় হোক। তারা ছিল তুখর মেধাবি। তখন নাকি মেধাবীরাই রাজনীতি করার যোগ্যতার রাখতো। সেই বয়োজ্যেষ্ঠরা ভবিষৎ অনিশ্চিত করেই বীর দর্পে মিছিল করতে লুটেরার বিরুদ্ধে।
আমি খুব অহংকার করি আমরা তাদেরই উত্তরসূরি। আমি গর্ববোধ করি তাদের নিয়ে যারা স্বাধীন বাংলায় আমাদের পথ প্রদর্শক ছিল।
আমরা তাদের পথ ধরেই ধুলায়ধুসর হয়ে মানুষের গান গাই।আই এম এফ বিশ্ব ব্যাংক আগ্রাসনের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পরি। বড় বড় রাষ্ট্রে দাদাগিরী আচরণের বিরুদ্ধে নেমে আসি রাস্তায়। প্রতিবাদ করি নিজের অবস্থান থেকে। ছাত্র ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের আন্দোলনে সমর্থন জানাই অকৃত্তিম ভাবে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাতে আমরা বদ্ধপরিকর, এই বাংলার মাটি কোন ক্রমেই ছাগুদের বাস যোগ্য হতে দিতে রাজি নই। এই মাটি আমাদের , কোন দেশবিরোধিদের এই মাটিতে কোন স্থান নেই। হোক সে সরকার দলের নেতা,কিংবা বিরোধী দলের হোমরা চোমরা।
বয়োজ্যেষ্ঠদের হাত ধরে আমরা হয়েছি প্রতিবাদ মুখর, হয়েছি সত্য বলায় সাহসী, হয়েছি মানবতাবাদী।
এই আমরাই কি উত্তরাধিকারের হাত ধরে হয়ে যেতে পারি নষ্ট,ভ্রষ্ট রাজনৈতিক হাতিয়ার?এই আমরাই কি এক সময় তেজদীপ্ত আঙ্গুলি নামিয়ে হয়ে যেতে পারি সরকার দলের আমলা? আমরাই কি হয়ে যেতে পারি টেন্ডারবাজ কোন নেতা? এই আমরাই কি হয়ে যেতে পারি ধর্ষন মানিকের আশ্রয়দাতা? এই আমরাই কি স্বার্থের জন্য যুদ্ধাপরাধীদের আড়াল করতে করতে পারি? কাঁধে কাঁধ মিলাতে পারি যুদ্ধাপরাধীদের?
এই আমরাই কি টাকার পাহাড়ের কাছে বিবেক দিতে পারি বিসর্জন? ব্যক্তিত্বকে গলাটিপে হত্যা করে হয়ে যেতে পারি যুদ্ধাপরাধীদের বন্ধু? এই আমরাই কি ক্ষমতার লোভে হত্যা করতে পারি মানবতা?
যৌবনের এই উদ্যাম বার্ধক্যে কোথায় হারায়?
এসব আমাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। আমরা বিশ্বাস করতে চাইনা। আমাদের যৌবন ,আমাদের এই উদ্দিপ্ত কন্ঠস্বর স্বার্থপরতার বলী দিতে চাইনা।
(আমি বিশ্বাস করি, আজকের তরুন, যারা বুকের মাঝে দেশপ্রেম লালন করে,চোখের মাঝে দেশ গড়ার স্বপ্ন আঁকে,প্রতিদিন মাতৃভুমীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করে। তারা পূবয়োজ্যেষ্ঠদের মতো নষ্ট হতে পারে না। লোভ তাদের হারিয়ে দিতে পারে না। তাদের স্বপ্ন বার্ধক্য নষ্ট করতে পারেনা।)
আজকে তাই এই দুঃসময়ে আসুন প্রতিজ্ঞা করি, আমাদের এই বাংলাদেশকে কোন ক্রমেই আর পিছিয়ে যেতে দিতে পারি না। এক শ্রেণীর লোটেরাদের লোট করার সুযোগ দিতে পারি না। আমাদের এই দুখি দেশটাকে কারো কাছে মাথা নত করতে দিতে পারিনা। গরিব হোক দুখি হোক এই দেশ আমাদের ।
আমাদের দাবীর প্রথম ধাপ হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অতিসত্তর বাস্তবায়ন চাই। এই শকুনদের বাঁচিয়ে রেখে আমরা কোন কাজে মন বসাতে পারছিনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


