somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএনপির আবারও বিতর্কিত অবস্থানে

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি ছোট কিছু ছেলে মেয়েকে রাজাকারদের পোস্টার আঁকার জন্য উৎসাহিত করছিলাম। একটা মেয়ে ক্লাস ৭ম শ্রেণীতে পরে। জানতে চাই টিভি দেখেছে কিনা,ঢাকা শাহবাগে যে লক্ষ মানুষ একত্র হয়ে আন্দোলন করছে জানে কিনা। তাকে বিকালে একটা পোস্টার নিয়ে শহিদ মিনারে আসতে বলি।সবাই স্লোগান দিবে রাজাকারের ফাঁসি চাই। মেয়াটা হঠাৎ বললে ফেলল মাকে নিয়ে আসব , বাবা তো বিএনপি করে তাই আসবে না। মেয়েটার বাবা সামনেই দাঁড়ানো ছিল।এই কথা শুনার পর লজ্জায় তার মুখটা লাল হয়ে যায়। এই রকম লজ্জা নিশ্চয় বিএনপির অনেক লোকের ই হচ্ছে।

কিছু ব্লগ এবং ফেসবুকে কিছু কথা চোখে পড়ল। শপথে আওয়ামীলীগের নাম কেন নেয়া হয়েছে । কেন বিএনপিকে রাজাকারদের সমর্থক বলে বাতিল করা হয়েছে।আন্দোলনে বামরা কেন আসছে। ইত্যাদি ইত্যাদি। এরা যে সবাই ভাল রাজনীতি বুঝে কমেন্ট করছে এমন নয়। একটা কিছু বলা দরকার তাই বলছে বলেই মনে করি। আর এক বান্দর তো এই আন্দোলনের শুরু থেকেই লাফালাফি করে বিরোধিতা করছে। কেন কারনে যদি আন্দোলন বন্ধ হয়ে যায় তখন বান্দর তিনগুন জোরে লাফিয়ে বলতে থাকবে " আমি আগেই কইছিলাম....'

এই সব বাল ছাল আজ নতুন নয়। যত আন্দোলন হয়েছে, যত সংগ্রাম হয়েছে,যত বিপ্লব হয়েছে এমন শ্রেণির মানুষ ছিল, আছে এবং থাকবে। তাদের সমালোচনা অগ্রাহ্য করেই আন্দোলন করতে হয়। সকল বাধা উপেক্ষা করেই সংগ্রাম চালিয়ে নিতে হয়। আর যে লক্ষ তরুন এই আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেছে তাদের এই মনোবল আছে বলেই মনে করি। কিছু কুট কথা,ছিদ্রান্বেষী উস্কানি এসব দিয়ে তাদের এই দৃঢ় মনোবল টলাতে পারবে না।


প্রসঙ্গে আসি। বিএনপি নিয়ে কথা বললে এখন কারো গা জ্বলে। কিন্তু স্পষ্ট করে কোন বিএনপি সমর্থকই বলতে পারে না, এই আন্দোলনে বিএনপির অবস্থান কি? তারা কি এই আন্দোলনের পক্ষে নাকি বিপক্ষে? আওয়ামীলীগ যেমন যুদ্ধপরাধীদের নিয়ে পলিটিক্স করে ধরা হয়েছে, আর বিএনপি নতুন নিরপেক্ষ পলিটিক্স করে জনগন থেকে যে বিচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে এটা তাদের খেয়াল হয় না। কেন এই নিরবতা? বিএনপি একটা বড় দল তাদের দেশ জুড়ে এত সমর্থক,এত ভোট থাকার পরেও তারা নিরব কেন? সাহস করে বলুক যে তারা যুদ্ধপরাধীদের বিচার চায়। একটা অন্তত মানব বন্ধন করুক যে বিএনপি বিচার চায়? তাহলে আমরা কি ভাবে বুঝব যে তারা বিচারের পক্ষে? মুখে কুলুপ আটার মানে কি? মাঝে মাঝে বলতে শুনা যায় তারাও বিচার চায়। কিন্তু তারা ক্ষমতায় গেলে বিচার করবে এমন কোন প্রতিশ্রুতি কখনো দেয় না। বিএনপির নেতা , সমর্থকদের বোকা বানাতে পারলেও দেশের মানুষকে তো আর বোকা বানাতে পারবেনা।

শাহবাগের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অনেক দল,অনেক মতবাদকেই নতুন করে দেখতে হচ্ছে। আমি আগে মনে করতাম বিএনপির মাঝেও একটি প্রগতিশীল অংশ আছে যারা যুদ্ধপরাধীদের বিচার চায়। জামাতের সাথে বিএনপি জোট করার সময় ছাত্রদলের বিরোধিতার মুখে পড়েছিল। আমি মনে করেছিলাম ছাত্রদল এই আন্দোলনে সমর্থন দেবে। কিন্তু আশা হত হলাম এই ইস্যুটা নিয়েও বিএনপি পুরনো অবস্থান ফেলে একটা শক্ত অবস্থান তৈরী করতে পারতো। এই প্রজন্মকে সমর্থন দিয়ে তার অতীত পাপের কিছু প্রায়শ্চিত্ত করতে পারতো। কিন্তু বিএনপি এত বেশি মাথা মোটা মানুষ নেতৃত্বে আছে যে এই কাজটি তারা পারেনি।

আওয়ামীলীগ এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে,সমর্থন না দিয়ে তার আর কিছু করার ছিলনা। কারন বিএনপি নিরব থাকতে পারে কিন্তু আওয়ামীলীগের পক্ষে নিরব থাকা কোন ভাবেই সম্ভব ছিলনা। তার অস্তিত্ব বাঁচাতেই সে সরব হয়েছে। তারাও সূক্ষ ভাবে এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থকতা হিসেবে দেখাতে চেষ্টা করেছিল। সফল হয় নাই,হানিফ,মহিউদ্দিন লাঞ্চিত হবার পরেও ব্যপারটা নিয়ে আর কোন প্রশ্ন থাকতে পারে না। আর যুদ্ধপরাধী ইস্যুতে আওয়ামীলীগ সমর্থন দিলেই একটা আন্দোলন তার আসল চরিত্র নষ্ট হয়ে যাবে এমন ভাবার কোন কারন নাই। এক ব্লগার লিখেছেন " আজকে যে শপথ পাট করানো হলো সে যদি আওয়ামীলীগের হয়, হতে পারে, কিন্তু বিএনপি যদি এখানে আসত তবে তো এই শপথ বিএনপিও পাঠ করতে পারতো...। " আমিও মনে করি তা পারতো। কিন্তু তারা সামনে আসবে না, সমর্থন দিবে না, আবার সমালোচনা করার বেলায় জোর গলায় বলবে।

এই যে লক্ষ তরুন শাহবাগে এবং দেশের প্রতিটা অঞ্চলে জড়ো হয়েছে, এখানে কি বিএনপির ভোটার নাই? এখানে কি ছাত্রদলের কোন সমর্থক নাই? যদি থেকে থাকে তবে তারা দলের আচরণের জন্য আজ কি লজ্জা বোধ করবে না? বিএনপি তো জামাতের মতো ঐতিহাসিক স্বাধীনতা বিরোধী কোন দল নয়। তাদের দলেও মুক্তিযোদ্ধারা আছে তারা কি করে মুখ দেখাবে? বিএনপি এখন মুখ খুলেছে এবং বুঝতে পারলাম তারা জামাতের কাছে কেবল নেতৃত্বই বন্ধক দেয় নাই বিবেকও বন্ধক দিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:২৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরনাম হীন

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

তুমি চাইলেই মুঠোর ভেতর
একটা গোটা চাঁদ লুকিয়ে রাখতে পারো,
ইচ্ছে করলেই মেঘের গায়ে
শুকোতে দিতে পারো তোমার ভেজা চুল।
পুরো পৃথিবীর বিস্ময়
তোমার কাছে এসে দাঁড়ায় হাতজোড় করে,
শুধু আমার বুকের কাঁপনে
তোমার এত ভয় কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×