(অণুগল্প)
ডাঃ মুখার্জির চেম্বারে বসে বিলাসবাবু ছটপট করছেন। সুচরিতা বলল - মনে হচ্ছে অনেক দেরি হবে। তাছাড়া এই জেনারেল ফিজিশিয়ন না দেখিয়ে হার্ট স্পেশালিস্টকে দেখালে ভালো হত।
বিলাসবাবু রাজি নন। সুচরিতা বুঝতে পারল কি না সেই ভয় আছে।
ঘণ্টা খানিক পরে ডাক পড়তে ভিতরে ঢুকলেন বিলাসবাবু। স্ত্রী কণ্যাসহ।
ডাঃ মুখার্জি বিলাসবাবুকে দেখেই চিনতে পারলেন - বছর চার পাঁচেক আগে আপনি এসেছিলেন না? আবার কি হল?
বিলাসবাবু আরও গলার স্বর টেনে টেনে বললেন - হ্যাঁ ডাক্তারবাবু। সেই একই রকম কষ্ট। বুকে ব্যথা।
- ঠিক আছে। শুয়ে পড়ুন। আচ্ছা আপনারা বাইরে অপেক্ষা করুন।
প্রণতি মৃদু প্রতিবাদ করল - আমি ওর স্ত্রী। আমার থাকা দরকার।
বিলাসবাবুর চোখের ইশারায় ডাঃ মুখার্জি বুঝতে পারলেন। তাই অনুমতি দিলেন না। অগত্যা বাইরে।
গতবার এ রকম স্ত্রী ছেলে মেয়েকে বাইরে বের করে দিয়ে উঠে বসে ছেলে বিহগ এর কথা শুনিয়েছিলেন বিলাসবাবু। সারাদিন টো টো করে ঘুরে বেড়ানো। মোবাইল ল্যাপটপ মোটরসাইকেলে সব সময় আঠার মত সেঁটে থাকত। পড়াশুনার কথা বললেই তিরিক্ষি মেজাজ। নিজের বুদ্ধির সম্পূর্ণ কিছুতেই ব্যয় করছে না। বিলাসবাবু কিছু বললেই প্রণতি বিহগের সাইট নিত। তাতে পড়াশুনা ও ক্যারিয়ারের তো ক্ষতি হচ্ছে। তাই বুকে হাত চেপে এসে ডাঃ মুখার্জিকে একান্তে সেসব বলেছিলেন।
বেড রেস্টে ছিলেন পনেরো দিন। মাঝে চেক আপ করিয়াছেন। আর বিহগ সকাল বিকেল পড়তে বসেছে। স্কুলে গেছে নিয়মিত। টিউশন পড়ে ঠিক সময়ে বাড়ি ফিরেছে। প্রণতিও বলেছে - তোর বাবার এ রকম অবস্থা। তোকে তো বড় হতেই হবে।
সেই পনেরো দিনে পাল্টে যাওয়া বিহগ অনেক এগিয়ে। নিজেও ক্যারিয়ার সচেতন হয়েছে।
এখন মেয়ে সুচরিতা প্রেমে পড়েছে। ফলে এই বয়সে নিজের ক্যারিয়ারের ফাটলে নিজে আটকে। ঘরের নানান ছোটখাটো ব্যাপারে খিটিমিটি লেগেই আছে। তাই বিলাসবাবু আবার ডাঃ মুখার্জির স্মরণাপন্ন।
এবার চেক আপ করে ডাঃ মুখার্জি বললেন - না, স্যার। আর কোন বাহানা নয়।
তাই ডাঃ মুখার্জী বাইরে বসা বিলাসবাবুর মেয়ে ও স্ত্রীকে ভেতরে ডাকলেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

