মানুষের প্রথম ঘর: পাহাড়ের গুহা (পর্ব ০৫)
রোমান সাম্রাজ্যের চরম মারামারি কাটাকাটির সময়টাতে অনেক মানুষ বর্তমান ফিলিস্তিনের ‘কুমরান’ এলাকার নিকটবর্তী অঞ্চলে মৃতসাগরের (ডেড সি) তীর ধরের পড়ে থাকা ১১টি গুহায় পালিয়ে বেচেছিল। ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালের সময়ের দিকে এগুলো আবিষ্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ২০০০ বছর এগুলো প্রায় কোনরূপ পরিবর্তন ছাড়াই সংরক্ষিত অবস্থায় পড়েছিল।
বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের আলাবাম্বা’র দে’সটো গুহামালার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই গুহাগুলোকে আমেরিকার আদিবাসী রেডইন্ডিয়ানরা সমাধীগৃহ হিসেবে ব্যাবহার করে আসছিল। ১৯২০ সালের গোলযোগের সময়টাতে এগুলোকে গুপ্তঘাটি হিসেবে ব্যাবহার করা হয়। একইভাবে সেইন্টলুইসের গুহাগুলোও ছিল পাতাল যোগাযোগের জন্য বহুল ব্যবহৃত গুপ্তস্থান। আবার ১০০০ থেকে ১৩০০ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকার ‘পুয়েবলো’ মানবগোষ্ঠির কথা উল্লেখ করা যায়। পুয়েবলো মানুষেরা ওখানকার খাড়া পাহাড়গুলোর নিচে গর্ত খুড়ে একটি গ্রাম তৈরি করে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছিল।
১৯৭০ এর দিকে ফিলিপাইনের কোতাবাতো’র নিকটে অনেকগুলো পাহাড়ের গুহায় এই এলাকার ‘তাসাদায়’ সম্প্রদায়ের মানুষেরা বসতি স্থাপন করেছিল।
বর্তমানে স্পেনের গ্রানাডা’র নিকটবর্তী ‘সাক্রোমন্তে’ গুহামালায় এই অঞ্চলের ‘গিতানো’ নামক সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০০০ মানুষ বসবাস করছে। এই গুহামালার মধ্যে এক কক্ষের ছোট ছোট স্থান থেকে শুরু করে বড় বড় গুহা মিলিয়ে প্রায় ২০০টির মত কক্ষে ‘গিতানো’ মানুষেরা তাদের গির্জা, বিদ্যালয়, গুদামঘর প্রভৃতি সহকারে বসবাস করছে।
মিশৌরি, সিসিলি, কাপাদকিয়া এবং স্পেনের অনেক পরিবারকে দেখা যায় তারা পাহাড়ের গুহার ভেতরে আধুনিক বাড়ি তৈরি করছে অথবা পুরুনো আবাসকে নতুন করে তৈরি করছে। এক্ষেত্রে তুরস্কের ‘কাপাদকিয়া’র কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজধানী আঙ্কারা থেকে নিকটবর্তী ও তুরস্কের মধ্যবর্তী অঞ্চল কাপাদকিয়া’র পর্যটনের সৌন্দর্য্য হিসেবে উচু উচু সূঁচালো পাহাড়গুলো খুবই বিখ্যাত। তবে এই পাহাড়গুলোকে ভেতরে ভেতরে কেটে শত শত বছর ধরে মানুষেরা বসবাস করে আসছে। এক একটা পাহাড়ের মধ্যে দোতলা বা তিনতলা পর্যন্ত ভবন করা হয়েছে। দূর থেকে এগুলোকে ছোট ছোট পাখির বাসার মত মনে হলেও বাস্তবিক অর্থে এগুলো সমতলে তৈরি করা চারতলা বা পাঁচতলা ভবন থেকেও বড় ও প্রশস্ত এবং এগুলোর প্রত্যেকটিতেই আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ঘুম, গোসল, পয়:প্রণালি ও বৈঠকখানা রয়েছে। কাপাদকিয়ার এই ঘরগুলো উত্তরাধিকার মালিকানাও স্বীকৃত।
বর্তমান চীনে প্রায় ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) মানুষ পাহাড়ের গুহায় বসবাস করছে। মজার ব্যাপার হলো চীনের এই ৩ কোটি মানুষ উপরে বর্ণিত মানুষদের মত কষ্ট, জীবনের ভয় বা সৌন্দর্য্যের জন্য বসবাস করছে না। এই গুহাগুলোতে মানুষ বসবাস করছে এই জন্য যে এগুলো শীতের সময়ে বেশ গরম এবং গরমের সময়ে খুব শীতল থাকে। চীনের অনেক বিত্তশালী মানুষের কাছেই রাজধানীর সর্বাধুনিক সুবিধাসম্বলিত সুউচ্চ ভবনের চেয়ে ওসব পাহাড়ের গুহায় থাকাটা আরো বেশি আভিজাত্যের বলে বিবেচিত। (চলবে)।
প্রথম পর্বের লিংক:
Click This Link
দ্বিতীয় পর্বের লিংক:
Click This Link
তৃতীয় পর্বের লিংক:
Click This Link
চতুর্থ পর্বের লিংক:
Click This Link
শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?
"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্পর্শে_ _ _ _ _
-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন
মরীচকাি ও নক্ষত্র
মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।