আমার এক কলিগ প্রতিদিনই সকালের নাস্তা বাইরে খায় । কারণ জিজ্ঞেস করাতে সে বলল, বাসায় মায়ের হাই প্রেশার তাই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে রান্না করতে পারেন না ।
আমি : ভাই, একটা কাজের মানুষ রাখেন । তাহলেই-তো হয় ।
কলিগ : আছেতো, ১৫/১৬ বছরের একটা কাজের ছোট মেয়ে আছে । কিনতু সে আবার সকাল ৮টার আগে ঘুম থেকে উঠে না । আর আমিতো ৮টায়ই বাসা থেকে বের হয়ে যাই ।
আমি : কন কি ভাই ? নবাবের বেটি নাকি যে ৮টার আগে উঠে না ! বিদায় করে দিতে পারেন না ?
কলিগ : মাথা খারাপ । আজকাল কাজের মানুষ পাওয়া কত টাফ জানেন ! ৮টা বাজে উঠে, তবু উঠে তো । কিনতু এইটাতো কিছুই না । আপনে এটা শুনেই টাসকি খাইলেন ? পুরাটা শুনলে আসমান থেকে পড়বেন ।
হা আসমান থেকেই পড়লাম । তার সব কথা শুনে আমি আসমান থেকেই পড়লাম ...
কলিগ : কাজে যত ভুলই হোক না কেন, তারে কোন বকাঝকা করা যাবে না । করলে ...
আমি : করলে কি?
কলিগ : করলেই, তার থ্রেট শুনতে হয় । “এত কথা শুনবার পারুম না, গার্মেন্টসে আমার চাকরী রেডি”
আমি : ও !
কলিগ : রাত ১১ টার পর দুনিয়া উলটাইয়া পালটাইয়া এই গোল দুনিয়াটা চ্যাপ্টা আলু ভর্তা হয়া গেলেও তারে আর ডাকা যাবে না ।
আমি : বাপরে এত তাড়াতাড়ি ঘুমায় ।
কলিগ : (মুচকি হেসে) না ভাই ঘুমায় না ।
আমি : আমি ঘুমায় না
এইবার কলিগ যা কইলো সেটা শুনে মাথায় খালি আসমান না বরং আসমান, জমিন, চাঁদ, তারা, সূর্য যা ছিল সব ভাইঙ্গা আছড়াইয়া পড়ল মাথার উপর
কলিগ : সে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে মোবাইলে ফেসবুকিং করে । তাই ১১ টার পর তাকে ডিস্টার্ব করা নিষেধ । আর ঢাকায় কাজের লোকের খুব আকাল তাই মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া কিছু করার নাই ।
আমি : ইয়া আল্লাহ
কলিগ : হ ভাই হ । এর জন্য মাসে তারে আলাদা ১০০ টাকা দিতে হয় এক্সট্রা । ক্লাস ৮ পর্যন্ত পড়ালেখা করসে তাই কথা বার্তায়ও এত্ত স্মার্ট যে তার ফ্রেন্ড লিস্টে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে ভার্সিটি পড়ুয়া পোলারও অভাব নাই । দেখতেও বেশ ভাল, তাই তার প্রোফাইল পিকচার দেখে আপনেও কিছুই বুঝবেন না
শুইনাই আমার বুকের পানি হাওয়া হয়া গেল । মনে মনে টেনশনে পইড়া গেলাম । আল্লাহই জানে ঐ সুন্দরী কামের বেটি আবার আমার ফ্রেন্ড লিস্টেও ঢুইকা পড়ে নাইতো ।
আমি কইলাম ভাই, প্রোফাইলের লিঙ্কটা দেখি । উনি উনার মোবাইল দিয়াই দেখাইলেন, আমি মনে মনে আল্লাহ-রসূলের নাম নিয়া তাকাইলাম, হাফ ছড়লাম, বাঁচসি । এই মাইয়া আমার লিস্টে নাইক্কা । সেই সাথে দেখলাম লিখা রাখসে সে, অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী । আর তার প্রোফাইল পিকচার দেখে আসলেই একটু ভিরমি খাইলাম । মানে এই মাইয়ারে যদি আমি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট করতাম আর মাইয়াটা একসেপ্ট করত, তাইলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ জয়ের আনন্দে আমি দরজা বন্ধ কইরা জাঙ্গিয়া পইড়া রোবোকপ ড্যান্স দিতাম
এখন ফেসবুকে সুন্দরী মাইয়ার প্রোফাইল দেখলেই ডর লাগে । মনে মনে ভাবি, এইডা আবার কামের বেটি রহিমার প্রোফাইল নাতো ?!
আল্লাহই জানে আমার ফ্রেন্ড লিস্টে কয়টা কামের বেটি আছে আর আমি কয়টা কামের বেটির লগে মনের সুখে চ্যাট করি । বাদ দেন.....
ভাবতে ভাল লাগে দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে, কামের বুয়াদেরও এখন ফেসবুক একাউন্ট থাকে ।
সেইদিন মনে হয় দেরি নাইক্কা যেদিন, আমাদের বাড়ির কাজের বুয়ারা খালি ফেসবুকে প্রোফাইলই খুলব না, ফ্যান পেজ, গ্রুপ পেজও থাকব তাদের । কেউ ঘর মুছতাসে, কেউ থালা-বাটি ধুইতাসে, কেউ কাপড়-চোপড় ভাজ করতাসে এই সব ছবি ।
হাজার হাজার ফলোয়ারও থাকব তাদের । আমরা লাইক দিমু । কমেন্ট করুম এভাবে “ওয়াও ঘরটা কি মুছাটাই না মুছসে কইতরী বেগম, এক্কেরে ফকফকা” । মুরগী জবাই করার আগে তারা মুরগীর সাথে সেলফি আপলোড দিবে, সাথে ক্যাপশন “একটু পরই এই মুরগীটা কাইট্টালাম” । তারা হবে স্টার বুয়া ।
পোলাপানে ঝগড়া করব এইভাবে, “জানস আমাদের বুয়ার ফলোয়ার ২ হাজার, আর ফ্রেন্ড ৩ হাজার” ।
অন্য জন কইব, “এহ আইসে কই থেকা ২ হাজার ফলোয়ার । আমগো বুয়ার ফলোয়ার কয়টা জানস ?? ১০ হাজার আর ফ্রেন্ড লিস্ট কব্বে ফুল ।
সকল ডিজিটাল বুয়াদের আমার পক্ষ থেকে হ্যাপ্পি ফেসবুকিং
( দ্বীন মুহাম্মদ সুমন -- ০৫ নভেম্বর, ২০১৪ )
আমার ফেসবুক প্রোফাইল : https://www.facebook.com/dinmuhammadsumon

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


