somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাপশিকারী

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

থাই উপসাগরে ভেসে বেড়াচ্ছে সাপশিকারী নীলকণ্ঠ জেলের দল। কুড়ি বছর আগে তারা সংখ্যায় ছিল কুড়ি পঁচিশ জন। কিন্তু কাঁচা টাকার গন্ধে মাতাল হয়ে এখন তাদের সংখ্যা হাজারে পৌঁছেছে। পরিসংখ্যান বলছে, অন্তত সাতশো নৌকা প্রতি রাতে চষে বেড়ায় থাই উপসাগরের বুক, নির্বিচারে শিকার করে ঝাঁকে ঝাঁকে বিষাক্ত সামুদ্রিক সাপ। ব্যাপারটার আরও একটু তলিয়ে দেখা যাক।
সবাই জানে সাপের বিষ থেকেই তৈরি হয় ভীষণ দামি বিষনাশক ওষুধ। আজকাল ওষুধ তৈরিতে সাপ যতটা না জরুরি, তারচেয়েও অনেক বেশি জরুরি থাইল্যান্ড, চীন, ভিয়েতনামের খাবার টেবিলে। আর ক্রমবর্ধমান চাহিদার যোগান দিতে গিয়ে, আগের চেয়েও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জেলেরা। কাগজে কলমে তারা স্কুইড শিকারী হয়ে, গভীর রাতে সমুদ্রে উজ্জ্বল আলো জ্বেলে তারা সাপদের আকৃষ্ট করে থাকে। যে ব্যাপারটি এ মুহূর্তে মূল আশঙ্কার কারণে পরিণত হয়েছে, তা হলো সাপশিকারের লুব্ধ ঢেউয়ের চোরাটানে শিকার ও শিকারী দুটোই হারিয়ে যাবার যোগাড় হয়েছে।
এ তথ্য জানিয়েছে কনজারভেশন বায়োলজি নামের একটি পত্রিকা, তারা পরিবেশ সংক্রান্ত গবেষণা, সংবাদ ও জরিপ সংগ্রহ ও পরিচালানা করে থাকে। তাদের দ্বারা পরিচালিত শেষ জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সাপশিকারী জেলেদের অনুপাত বাড়লেও, জেলেপাড়ায় তাদের সংখ্যা ২০০৯ সালের পর থেকে উল্লেখজনকভাবে কমে এসেছে। শিকারকালীন সাপের কামড়ে মৃত্যুমুখে পতিত হওয়া এর অন্যতম কারণ। বিপ্রতীপে নির্বিচারে সাপ সংগ্রহ ও চাষের কারণে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে অন্তত সাতটি মূল্যবান প্রজাতি, ভূপ্রকৃতি বিচারে বৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থান রক্ষায় যাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাপ শিকারের প্রক্রিয়াটি জানা যাক; আগেই উল্লেখ করা হয়েছে জেলেরা রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক আলো জ্বেলে সামুদ্রিক সাপ আকৃষ্ট করে থাকে। রাতে ছাড়া দিনেও চলে অবাধ শিকার। এ কাজে ব্যবহার করা হয় জাল ও বিশেষ আংটা। ঝাঁকে ঝাঁকে সাপ আটকের পর জীবিত অবস্থাতেই আকার ও ভরের ভিত্তিতে পৃথক জলভরা ভাঁড়ে দ্রুত পৃথক করে ফেলা হয়, সম্পূর্ণ খালি হাতে। এ সময়টিতেই আক্রমণের শিকার হয় জেলেরা। সাপের আক্রমণ পরাহত করতে সঙ্গে রাখে ক্ষুর, কামড় খেলে সে জায়গাটি ক্ষুর দিয়ে গভীরভাবে চিরে দিয়ে যথাসম্ভব রক্ত বের করে দেয়। আরও সঙ্গে রাখে গণ্ডারের শিঙের গুঁড়ো, ক্ষতস্থানে ছিটিয়ে দেয়ার জন্যে। (গণ্ডারের শিং সংগ্রহের জন্যেও বেধড়ক পেটানো হচ্ছে গণ্ডারদের, প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে তারাও, তবে এটি এ নিবন্ধের প্রসঙ্গ নয়) দুটোর কোনটিরই কোন স্থায়ী প্রমাণিত উপশমক্ষমতা নেই।
ছোট একটি সাপের ভর কমপক্ষে আধা কিলোগ্রাম হয়ে থাকে। এদের দেহের একটি অংশও অপচয় হবার নয়, প্রত্যেক পৃথক অঙ্গেরই রয়েছে বিশেষ ব্যবহার। এর মাংস খাবার হিসেবে এবং প্রক্রিয়াজাত করে পানীয় হিসেবে জনপ্রিয় থাইল্যান্ড, চীন ও ভিয়েতনামে। এছাড়া সাধারণ উপায়ে তৈরি ‘উপাদেয় ঝোল (সুপ)’ তো ভীষণ জনপ্রিয়; হৃৎপিণ্ড ও যকৃতের বিশেষ পদ তৈরি হয় গর্ভবতী মহিলাদের জন্যে। ভেতো মদের ভেতর অর্ধডুবন্ত মাংস, পরিবেশনের জনপ্রিয়তম উপায়। সাপের রক্ত মদের সঙ্গে মেশানো হয় পানের সময়। ধারণা করা হয় এতে মদ্যপায়ী সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে। এছাড়া মাংস থেকে এক ধরনের আঠালো তরল তৈরি হয়, যার নাম বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘সমুদ্রসর্পের আঠা’, ওটা লাগানো হয় সর্বাঙ্গ ব্যথার রোগীদের পিঠ ও কোমরে। এছাড়া অনিদ্রা ও ক্ষুধামন্দার রোগীরা তাদের রোগ নিরাময়ে দেদার সাবড়ে চলেছে উপাদেয় সর্পমাংস।

লেখক // মানিক হোসাইন
https://www.facebook.com/manikhossain53?fref=nf
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×