খেয়াল করলে দেখবেন অনেক সাধারণ দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ মানুষও যদি হক্কানী বা প্রকৃত আলেম উলামাদের কাছেও কোন মাসআলা জিজ্ঞাসা করে তবে তার একটি উত্তর পূর্বেই ধারণা করে নেয়। এমনকি সে হয়তো কুরআন হাদীসের কোন আয়াতের রেফারেন্স তার উত্তরের সাথে সম্পর্কিত করে। হতে পারে এটি তার মনগড়া ব্যাখ্যা বা কোন অপব্যাখ্যা। মোট কথা উক্ত আলেমের প্রদানকৃত ফতোয়া যদি তার মনে ধরে বা তার স্বার্থানুকূলে হয় তবেই সে ব্যক্তি ফতোয়াটি গ্রহণ করে। যদি তার মনের চাহিদার বিপরীত হয় তবে সে হয়তো কুরআন হাদীসের রেফারেন্স দিয়ে তর্কও জুড়ে দেয়। কিন্তু ঐ জাহেল জানে না যে ফিকাহ শাস্ত্র অনুসারে আলেমরা মাসআলার জবাব দেন। এভাবে প্রকৃত আলেম উলামারা কুরআন ও হাদীসের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। আর জাহেলরা চায় কুরআন ও হাদীসের বিভিন্ন আয়াতকে বিচ্ছিন্নভাবে তার স্বার্থের পক্ষে ব্যবহার করতে।
আমার কথা হল, যদি মানতেই না পারব তবে আর জিজ্ঞেস করা কেন? কেউ কি আছে চিকিৎসক বা উকিলের কোন পরামর্শ মনমত না হলে তাকে তার পছন্দমত পরামর্শ দেয়ার জন্য বায়না ধরে। এরূপ যদি কেউ করে তবে যে উদ্দেশ্যে সে চিকিৎসক বা উকিলের শরণাপণ্ন হল তা কি পূর্ণ হবে? তাহলে দ্বীনের ক্ষেত্রে এরূপ কেন!! এজন্য আল্লাহর কিছু বান্দা আছেন যারা চমৎকার বলেন, ভাই, জানতে চান এতে কোন সমস্যা নেই। জানতে চাওয়া ভাল। কিন্তু ভাই, মানার মধ্যে হচ্ছে কামিয়াবী।
দেখেন ওহুদের যুদ্ধে মাত্র কিছুসংখ্যক সাহাবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের একটা হুকুম মানতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এর মাশুল পুরো মুসলিম শিবিরের দিতে হয়েছিল।
এজন্য ভাই নায়েবে রাসূল আলেম উলামাদের কাছে আপনি মাসলা-মাসায়েল জানতে চাইতেই পারেন। কিন্তু তাদের পরামর্শ মানার যোগ্যতা থাকা চাই। যদি তাদের পরামর্শ আমার স্বার্থের বা আমার ধ্যান-ধারণার বিপরীতেও যায় তা মানার চেষ্টা করি। আর কুরআন হাদীস থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু আয়াত এনে আলেম উলামাদের পরামর্শের বিপরীতে দলিল হিসেবে ব্যবহার না করি। এতে প্রকৃতপক্ষে লাভবান হওয়া যাবে। কারণ মানার মধ্যে হচ্ছে কামিয়াবী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


